রাষ্ট্রসংঘ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রেকর্ড সংখ্যক – ২২৮ টি উপদেশ দিয়েছে দেশের ভিতরে ও অন্যান্য দেশে মানবাধিকার রক্ষা করার কাজ আরও বেশী করার জন্য. ওয়াশিংটন নিজের দিকে এই সমালোচনাকে মানতে চায় নি এবং বেশীর বাগ অংশকেই নাম দিয়েছে বাজে বকা.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার বিষয়ে পরিস্থিতি নিয়ে ৩০০ টি মানবাধিকার রক্ষা সংস্থার একটি যৌথ রিপোর্ট এবং মার্কিন প্রশাসনের এই বিষয়ে তৈরী করা রিপোর্টের ভিত্তিতে রাষ্ট্রসংঘের কার্যকরী পরিষদ একটি উপদেশ মূলক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে. সেখানে বিরাট সংখ্যায় প্রায় দুশোরও বেশী উপদেশ রয়েছে. এর কয়েকটি নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধির সহকারী আলেকজান্ডার বোলদীরেভ তাঁর বক্তব্য রেখে বলেছেন:

    "এই উপদেশ গুলির মধ্যে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে দেশে মৃত্যু দণ্ড দেওয়া বন্ধ করতে, গুয়ানতানামো এলাকাতে ঘাঁটির মধ্যে বন্দী শিবির বন্ধ করতে, দেশের বিভিন্ন বিশেষ সামরিক ও আইন রক্ষা বাহিনীর লোকেদের নিজেদের অধিকারের বেশী শক্তি প্রয়োগ ও নির্যাতন করা, জাতি গত ভাবে হেয় করা এবং অসহিষ্ণুতার প্রকাশ. এখানে দেশে অভিবাসন নেওয়া লোকেদের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়, সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা ও আরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে চুক্তিতে যোগদানের জন্য আহ্বান করা হয়েছে. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও শ্রম সংরক্ষণের বিষয়েও চুক্তিতে যোগদান করতে বলা হযেছে".

    অন্যভাবে বলতে হলে, আরও একবার বোঝা গিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যে কিনা মানবাধিকার বিষয়ে বিশ্বের নেতৃত্বের দাবী করে, তারই গুরুতর সমস্যা রয়েছে দেশের নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষা ও বজায় রাখার বিষয়ে.

    এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের মূল্যায়ণের সঙ্গে একমত নয়. দেশের আইন উপদেষ্টা হ্যারল্ড কো জানিয়েছেন যে, কিছু বিষয়ে এই উপদেশ গুলি থেকে ধারণা নেওয়া হয়েছে এবং শীঘ্রই তা কাজে পরিনত করা হবে. অংশতঃ, শিশু ও নারীদের মানবাধিকার রক্ষা বিষয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি গ্রহণ. দেশের উপর দেওয়া অভিযোগ গুলি সম্বন্ধে উপদেষ্টা বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমনিতেই সমস্ত কিছু করছে, যেমন, বর্ণ বৈষম্য নিরোধের জন্য প্রশ্নের ক্ষেত্রে. আর বাকি যে সমস্ত বিষয় গুলিতে রাষ্ট্রসংঘ আহ্বান করেছে, সেগুলি ওয়াশিংটনের ধারণাতে স্রেফ বাজে বকা এবং তা গম্ভীর ভাবে মনোযোগ দিয়ে দেখা সম্ভব নয়.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি রাষ্ট্রসংঘের অভিযোগের উত্তর মার্চ মাসে দেওয়া হবে, যখন অন্যান্য দেশে মানবাধিকার রক্ষার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে. ঐতিহ্য মেনেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তার চারপাশের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ করা হবে. সব মিলিয়ে দেখতে গেলে রাষ্ট্রসংঘের তরফ থেকে করা বর্তমানের আহ্বান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চিকিত্সককেই নিজে ভাল হও ধরনের উপদেশের মত দেখা হয়েছে, এই বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের প্রধান আলেকজান্ডার মিনচেঙ্কো বলেছেন:

    "এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উদ্ভব হয়েছিল এক মানব জাতির উদ্ধারের প্রকল্প হিসাবে, যেন কোন একটা নতুন জেরুজালেম তৈরী করা হচ্ছে. এই উদ্ধারের ধারণা মার্কিন জাতীয় ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রবল প্রভাব ফেলেছে. এর থেকে বেরিয়ে আসা তাদের পক্ষে খুবই কঠিন হবে. তাই, যত রকমের অভিযোগ বা উপদেশই দেওয়া হোক না কেন, আমি মনে করি আমেরিকার উচ্চ কোটির সমাজ এই বিষয়ে কম করে বললে বলা উচিত্ হবে যে বঙ্কিম দৃষ্টিতেই দেখবে".

    মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে প্রথম সারিতে থাকা আমেরিকার লোকেরা বিশ্বাস করে যে, এই বিষয়ে তারা অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে. আর তাদের প্রতি কোন সমালোচনাকে তারা মনে করে যে, বিরোধিদের খুঁত খোঁজার প্রচেষ্টা. কিন্তু এত বেশি সংখ্যক অভিযোগ, যা রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করবে কম করে হলেও ভাবতে বসতে – হতে পারে, সব তেমন ভাল নয়, যতটা তারা দেখছে?