সিওল কয়েক দিনের জন্য বিশ্বের সমস্ত সংবাদ মাধ্যমের মনোযোগের কেন্দ্র হয়েছে. দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীতে "জি – ২০" দেশ গুলির সম্মেলন চালু হচ্ছে, যার আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হতে চলেছে বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন গুলি. রাশিয়ার হয়ে এই শীর্ষ বৈঠকে নেতৃত্ব করছেন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ. রাশিয়ার জাতীয় নেতা বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সুস্থ করার জন্য তাঁর প্রস্তাবের কিছু অংশ এর মধ্যেই প্রকাশ করেছেন বিশ্বের প্রধান ব্যবসায়ীদের জন্য আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠকে, যার নাম "সুস্থির ও ভারসাম্য যুক্ত চাহিদা বজায় রাখার জন্য ব্যবসার ভূমিকা", এই বৈঠক "জি ২০" দেশের শীর্ষ বৈঠকের কাঠামোর মধ্যেই করা হয়েছে. আর প্রাথমিক ভাবে, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি এখানে উল্লেখ করেছেন যে, "জি ২০" দেশ গুলির সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র ও ব্যবসায়ের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির কাজে সহায়তা করতে বাধ্য.

    ব্যবসায়ীদের শীর্ষ বৈঠক – বিশ্বের ২০টি বৃহত্তম অর্থনীতির নেতাদের বৈঠক উদ্বোধনের আগে ঐতিহ্য মেনে করা হয়ে থাকে.এবারে এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় গুলির মধ্যে যে প্রশ্ন ছিল, তা হল – ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাপের শিল্পের সমস্যা, যা বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের ধাক্কায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে. কিন্তু এই শিল্প গুলিই "সঙ্কটের পরিনামকে কঠোর থেকে কোমল করতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তৃতায়, - যদিও সঙ্কট চলাকালীণ অবস্থায় বহু দেশ এবং রাশিয়াও ব্যতিক্রম নয়, যারা সহায়তা দিয়েছিল বড় মাপের অর্থনীতির খেলোয়াড়দের, আর তার মাধ্যমেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাপের শিল্প গুলির অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে". তিনি বলেছেন:

    "একই সঙ্গে এই সঙ্কট দেশকে বিনিয়োগ ব্যবস্থা সুস্থ করার জন্য ফলপ্রসূ নীতি নিতে বাধ্য করেছে, যা নিয়ে আমরা বর্তমানেও কাজ করে যাচ্ছি, যা এখন ও আগামী দিনেও এই সিওল শহরেই করতে হবে. তাই আমাদের প্রয়োজন হবে শুধু আগের মতই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কাজ করার উপযুক্ত পরিস্থিতি করাতেই নয়, বরং তাদের জন্য আরও ভাল পরিবেশ তৈরী করে দিতে হবে".

    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার সরকার ঠিক করেছে ক্ষুদ্র মাপের ঋণ দেওয়ার কাজে উন্নতি করতে হবে, যা বর্তমানের বিনিয়োগ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে. আর এই ধরনের সুবিধা ও পরিষেবা বৃদ্ধি করলে ক্ষুদ্র শিল্প ক্ষেত্রে আরও কর্ম সংস্থানের সুবিধা হবে, যা বেকারত্বের মোকাবিলায় সাহায্য করবে. ফলপ্রসূ দিক গুলির মধ্যে, যা ক্ষুদ্র শিল্পকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করতে পারে, আছে ব্যবসায় তৈরীর ইনকিউবেটর সৃষ্টি, যে ক্ষেত্রে রাশিয়া নিজের কাজ প্রদর্শনের উপযুক্ত করতে পেরেছে.

    "জি ২০" শীর্ষ সম্মেলনের সরকারি উদ্বোধনের আগে আরও কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাত্কার হয়েছে. অংশতঃ গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে দিমিত্রি মেদভেদেভের আলোচনা হয়েছে. সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুই দেশই তৈরী হয়েছে সহযোগিতা করার জন্য এবং আমাদের বহু প্রশ্নের ক্ষেত্রেই অবস্থান একই রকমের, এই কথা উল্লেখ করে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "আমরা এই ধরনের যোগাযোগ "জি ২০" বৈঠকের সময়ে নানা প্রশ্ন নিয়ে আলোচনার সময়ে চালিয়ে যাব. আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রশ্ন গুলির ক্ষেত্রে আমাদের মনোযোগ দেওয়ার মত বিষয়ের মধ্য ঐতিহ্য মেনেই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, ইরান ও উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে সমস্যা ও আরও অন্যান্য কিছু ঝঞ্ঝাটের জায়গার কথা উঠেছে, যা বর্তমানের বিশ্বে উপস্থিত. আমরা এই সব ক্ষেত্রে আমাদের শক্তি এক করতে তৈরী করার বিষয়ে রাজী. তার উপরে বিগত কিছু কাল ধরে বেশ কিছু বিষয়ে এক সাথে ঘনিষ্ঠ ও গঠন মূলক ভাবে কাজ করে আমরা কিছুটা অগ্রসর হতে পেরেছি. আমরা নানা ধরনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় নিয়ে কথা বলেছি এবং আগ্রহী যাতে এই বিষয় গুলিতে আমাদের সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়. অর্থনৈতিক ফলাফলও আমাদের দুই দেশের মধ্যে খুব একটা খারাপ নয়. রাশিয়ার কোম্পানী গুলি ব্রিটেনের শেয়ার বাজারে সানন্দে নিজেদের শেয়ার উপস্থিত করছে. এই বিষয়টিকে আরও শক্ত করতে হবে. তা ছাড়া আমরা ঠিক করেছি যে, দেশ দুটির নেতৃ স্থানীয় স্তরে যোগাযোগের বৃদ্ধি করতে হবে".

    শীর্ষ বৈঠকের আগে দিমিত্রি মেদভেদেভের চীনের চেয়ারম্যান হু জিন টাও এর সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য দেখা হয়েছে এবং আরও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিডল্লার্ড এর সঙ্গে সাক্ষাত্কার হয়েছে. আজ সন্ধ্যায় "জি ২০" শীর্ষ বৈঠকের সরকারি উদ্বোধন হবে.