এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক প্রাথমিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের সহযোগিতা স্ট্র্যাটেজিক রূপ ধারণ করেছে. এই সম্বন্ধে ঘোষণা করেছেন দক্ষিণ কোরিয়াতে সরকারি সফরে দিমিত্রি মেদভেদেভ. সিওল থেকেবিষয়টি সম্বন্ধে বিশদ করে খবর পাঠিয়েছেন রেডিও রাশিয়ার বিশেষ সাংবাদিক প্রতিনিধি স্ভেতলানা আন্দ্রেয়েভা.

   “এই কথার প্রমাণ স্বরূপ রাশিয়া ও কোরিয়ার পক্ষ থেকে আজ ১১টি দলিলে স্বাক্ষর করা হয়েছে, যা মূলতঃ অর্থনৈতিক ধরনের. গত কুড়ি বছর ধরে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর থেকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক শুধু উন্নতিই করেছে. এই আত্ম বিশ্বাসের সাথে উন্নতিশীল গতি শুধু কিছুটা স্তিমিত হয়েছিল বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণেই. কিন্তু তাও এই বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান আবার সঙ্কট পূর্বের সীমা ছুঁয়েছে, হয়েছে ১১ বিলিয়ন ডলার. এক দিক থেকে এই সংখ্যা ভালই বলে মনে করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ. কিন্তু অন্য দিক থেকে, আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি যে, এই সংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা চীনের বাণিজ্যের পরিমানের তুলনায় নগণ্য, সেই সব সংখ্যা বহু শত বিলিয়ন ডলার অঙ্কের. সুতরাং দুই পক্ষেরই এখনও অনেক জায়গা এবং ক্ষমতা রয়েছে উন্নতি করার. এখানে প্রাথমিক যে সমস্ত শিল্প ক্ষেত্র বিচার্য, তা হল শক্তি উত্পাদন ও সরবরাহ, চিকিত্সা বিজ্ঞান, মহাকাশ, পারমানবিক ও কম্পিউটার প্রযুক্তি. আর আমরা এই সব ক্ষেত্রে আগে বাড়তে তৈরী – উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ”.

   রাশিয়া কোরিয়া থেকে বিনিয়োগকারী পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে. তাঁরা শুধু অর্থ বিনিয়োগ বা কর্ম সংস্থান করেন না, তাঁরা সঙ্গে করে নিয়ে আসেন যা সম্ভবতঃ আজকের দিনে সবচেয়ে জরুরী, সেই আধুনিক প্রযুক্তি ও চালু করেন আধুনিক শিল্পোত্পাদনের সংস্কৃতি. বিগত কিছু সময়ের মধ্যে এই ধরনের প্রকল্প গুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হয়েছে – সেন্ট পিটার্সবার্গে “হেওয়নডাই – মোটর্স” কোম্পানীর গাড়ী তৈরীর কারখানা চালু হওয়া, “ডেউ শিপ বিল্ডিংস” কোম্পানীর অংশগ্রহণে প্রিমোরস্ক অঞ্চলে নতুন জাহাজ তৈরী করার জন্য জাহাজঘাটা নির্মাণ, আর সাইবোরিয়া ও সুদূর প্রাচ্যের উন্নয়নের জন্য যৌথ প্রকল্পের পরিকল্পনা.

   রাশিয়া শুধু বাণিজ্যই করার জন্য তৈরী নয়. আমাদের জন্য আমাদের সহকর্মী দেশের কাছ থেকে শেখাও কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় এবং তাদের সঙ্গে একসাথে আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে জোট তৈরী করার বিষয়েও আমরা আগ্রহী. কোরিয়ার শিল্প ক্ষেত্র, বিজ্ঞান উদ্ভূত প্রযুক্তি প্রয়োগ ও তার ব্যবসায়িক রূপ প্রদানে প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে. আন্তর্জাতিক ভাবে তাই যৌথ প্রকল্পের উন্নতির জন্য, অংশতঃ দক্ষিণ কোরিয়ার জন্যও “স্কোলকোভোর” মত কেন্দ্র তৈরী করা হয়েছে, যেখানে কর্মরত কোম্পানীদের জন্য বিশেষ কর মকুবের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেখানে শুল্ক ও অভিবাসনের নিয়মও শিথিল করা হয়েছে বিশেষ ভাবে. আর্থ বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন গুণ অর্জন করতে বাধ্য ও বর্তমানের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সঙ্কটের মত পরিস্থিতিতে আরও ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে এমন হওয়া উচিত্ বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন.

   আজ রাশিয়া থেকে রপ্তানীর প্রায় দুই তৃতীয়াংশ দক্ষিণ কোরিয়াতে আসে খনিজ ধাতু ও তেল ও উদ্ভূত যৌগ. রাশিয়া এই সমস্ত সরবরাহ গুটিয়ে ফেলতে চায় না, কিন্তু তা বহুমুখী করার প্রয়োজনীয়তা সকলেই অনুভব করতে পেরেছে ও তা খবই জরুরী হয়ে পড়েছে. এই সফরে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে খনিজ তেল ও গ্যাস বিষয়ে সহযোগিতাতে. “গাজপ্রম” কোম্পানীর প্রধান আলেক্সেই মিল্লের যেমন উল্লেখ করেছেন যে, দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের খনিজ তেল ও গ্যাস ব্যবসায়ের এক অন্যতম সহকর্মী দেশ. কোরিয়ার ব্যবসায়ীরা প্রাকৃতিক গ্যাসের অর্থনীতিতে অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি করে বছরে ১০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার করতে চাইছেন. খব শীঘ্রই ব্যবসায়িক আলোচনা শুরু হবে. ২০১৭ সালে সম্ভবতঃ দক্ষিণ কোরিয়া রাশিয়া থেকে ১০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পেতে শুরু করবে.