ভোলগা নদীর মোহনার কাছে নদী খাত পরিস্কার ও গভীর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. অনতিপূর্ব পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাজ করার ফলে নদী আরও জলে ভরে উঠবে ও তা কাস্পিয় সাগরকে জলাভাব থেকে রক্ষা করবে.

   ভালদাই এর মালভূমি অঞ্চলের কাছে রুশ সমতল ভূমির প্রায় একের তৃতীয়াংশ জুড়ে থাকা বিশাল হ্রদ থেকে জল বয়ে নিয়ে ভোলগা নদী কাস্পিয় সাগরে এসে মিলেছে. ৩৬৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী ইউরোপের সবচেয়ে বড় নদী এবং বিশ্বের সব নদীর মধ্যে অন্যতম, যেটি চারিদিকে ভূমি আবেষ্টিত আভ্যন্তরীণ সাগরে এসে মিলেছে. বিখ্যাত ফরাসী লেখক আলেকজান্ডার দ্যুমা লিখেছিলেন যে, “প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব প্রধান নদী আছে, রাশিয়ার আছে ভোলগা – ইউরোপের সমস্ত নদীর মধ্যে সাম্রাজ্ঞীর মত”.

বিংশ শতাব্দীতে নদীপথে জাহাজ চলাচলের সুবিধার্থে এই নদীতে অনেক বাঁধ এবং নানা রকমের কৃত্রিম জল ভা্ডার যোগ করা হয়েছিল, কিন্তু তার ফলে নদীতে স্বাভাবিক জলের প্রবাহে পরিবর্তন হয়েছে – নদী স্রোতের গতি অনেক কমে গিয়েছে. বহু কোটি টন বালি, যা সমস্ত মধ্য রাশিয়া থেকে জলের সাথে মিশে বয়ে চলে, তা এসে জমা হয়েছে নদীর মোহনাতে. পরিস্কার বোঝা গিয়েছে যে, মানুষের সাহায্য ছাড়া ভোলগা নিজে এই বালির বাঁধন থেকে মুক্ত হতে পারবে না, এই কথা উল্লেখ করেছেন বিখ্যাত রুশ নদী ভোলগার মোহনার আস্ত্রাখান প্রদেশের রাজ্যপাল আলেকজান্ডার ঝিলকিন, তিনি বলেছেন:

“গত শতকের ষাটের দশকে সোভিয়েত দেশে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল ভোলগার মোহনাতে বদ্বীপ অঞ্চলে এসে পড়া একমাত্র ভোলগা ছাড়া অন্য সমস্ত নদীর খাত গভীর করার, নব্বই এর দশকে দেশে যথেষ্ট দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনৈতিক সঙ্কট চলা কালীণ সময়ে এই কাজকে ও তার গুরুত্বকে অনেকটাই পিছনের সারিতে সরিয়ে দিতে হয়েছিল দেশের অর্থের অভাবে, ফলে এই সময়ের মধ্যে বদ্বীপ অঞ্চলে প্রচুর পরিবর্তন হয়েছে. আর তাই আজ সময় এসেছে মানুষের সাহায্য নিয়ে এই নদীকে তার প্রাথমিক প্রাকৃতিক পরিচ্ছন্ন পরিস্থিতি ফিরিয়ে দেওয়ার”.

রাজ্যাপাল আরও উল্লেখ করেছেন যে, তা যদি না করা হয়, তবে এই বদ্বীপ অঞ্চলে সংযুক্ত প্রায় ১৫০০০ কিলোমিটার নানা ধরনের জল প্রবাহ জলের অভাবে ক্রমে ডোবাতে পরিনত হবে এবং জলের অপ্রতুলতা সেই সব নদী নালা, যেগুলিতে ভোলগা এই বদ্বীপ অঞ্চলে ভাগ হয়েছে, সেই সব গুলি হবে মোহনার কাছে শুকনো এবং অঞ্চলের চেহারা হবে খুবই বিস্তীর্ণ ভেড়ি অঞ্চলের মত. কল্পনা করা কঠিন নয় যে, তার ফলে এখানের সমুদ্র থেকে ডিম পাড়তে আসা মাছ আর থাকবে না, তাই আলেকজান্ডার ঝিলকিন বলেছেন:

“বর্তমানে ভোলগা নদী নিজে পরিচ্ছন্ন রয়েছে এবং তাতে প্রাচীন কাল থেকে যে ধরনের মাছ দেখা যেত, সেই সবই রয়েছে. গত ছয় বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা নিয়ে আমরা যে সমস্ত কাজ করেছি, তার ফল পাওয়া যাচ্ছে. মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, পাখিদেরও বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে. এমনকি সেই সমস্ত বিরল পাখি, যেগুলি প্রায় নিশ্চিহ্ণ হতে বসেছিল, যেমন, সাদা লেজ ওয়ালা ইগল পাখী, তাদেরও সংখ্যা বেড়েছে এবং বর্তমানে সেই পাখি আকারে এত বড় হয়েছে, যা আগে কখনও ছিল না. প্রচুর বুনো হাঁস হয়েছে, এমনকি তাদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে অন্য পাখীদের খাবারে টান পড়ছে, এই সবই স্বাভাবিক পরিবেশ আছে বলে বুঝতে দিচ্ছে, কিন্তু তাও আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে হবে. তাই ভোলগা নদীর মোহনার বদ্বীপ অঞ্চলে নদীর খাত গভীর করার কাজ, নদী থেকে বালি ও জলজ উদ্ভিদের অবশেষ উদ্ধার করার প্রয়োজন আছে, এটা পরিস্থিতিকে আরও ভাল করবে”.

এই কাজ করার জন্য সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে. তার মধ্যে হল্যান্ড থেকে কেনা বিশেষ মাটি তোলার যন্ত্র “বিভের – ১৭০০” ব্যবহার করা হবে, এর ফলে আগামী দুই তিন বছরের মধ্যেই অবস্থা আরও ভাল হবে, ভোলগা নদীতে জল বাড়বে ও তা কাস্পিয় সাগরকে আর অগভীর হতে দেবে না.