তুর্কমেনিস্থান, আফগানিস্থান, পাকিস্থান ও ভারত যৌথ ভাবে গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর কাজে সক্রিয় হয়েছে. তাদের বিশেষজ্ঞরা ৮ থেকে ১০ই নভেম্বর আশখাবাদ শহরে চার দেশের মধ্যে দিয়ে গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে আলোচনা করতে বসছেন, আর তার সঙ্গেই ঠিক হবে তুর্কমেনিয়ার গ্যাস কেনা বেচার শর্ত.

১৬৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গ্যাস সরবরাহের পাইপ লাইন "তাপি", যা তুর্কমেনিয়ার দভলেতাবাদ গ্যাস উত্তোলন ক্ষেত্র থেকে শুরু হয়ে আফগানিস্থান ও পাকিস্থান হয়ে ভারতের ফাজিলকা নামের জনপদ অবধি যাবে তার নির্মাণ শুরু করার কাজ এই বছরের ডিসেম্বর মাসেই চার দেশের নেতারা সরকারি ভাবে চালু করে দেবেন. এই জন্য তাঁরা বিশেষ করে আশখাবাদ আসছেন. এই প্রকল্পের অর্থ মূল্য  - ৮ বিলিয়ন ডলার. এশিয়ার উন্নয়ন ব্যাঙ্ক এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বিনিয়োগ মঞ্জুর করেছে, আর তুর্কমেনিস্থান – রাজী হয়েছে বছরে তিন হাজার তিনশ কোটি কিউবিক মিটার গ্যাস সরবরাহ করতে. প্রায় ততটাই তুর্কমেনিয়ার গ্যাস ইউরোপীয় সংঘ আশা করেছিল তুর্কমেনিয়া থেকে "নাবুক্কো" পাইপ লাইন মাধ্যমে পাবে বলে. এর মধ্যে প্রশ্ন এখন খুবই তীক্ষ্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ এই দুটি প্রকল্পকে দেওয়ার মত ভাণ্ডার তুর্কমেনিয়ার কাছে নেই বলে মনে করেছেন রাশিয়ার খনিজ তেল ও গ্যাস শিল্প সংঘের প্রেসিডেন্ট গেন্নাদি শ্মাল, তিনি তাই উল্লেখ করেছেন:

    "আফগানিস্থান ও পাকিস্থান হয়ে ভারতকে গ্যাস সরবরাহ করার সম্ভাবনা নিয়ে বহু দিন ধরে কথা চলছে. তুর্কমেনিয়ার জন্য এই প্রকল্প খুবই আগ্রহ জনক. এই প্রকল্প ভূ রাজনৈতিক কারণেও গুরুত্বপূর্ণ. যদি এই গ্যাস পাইপ লাইন তৈরী করা সম্ভব হয়, তবে আমি মনে করি যে, "নাবুক্কো" প্রকল্পের চেয়ে তার সুযোগ বেশী, তাহলে "নাবুক্কো" প্রকল্পের কিছুই আর থাকবে না".

    ভারত, পাকিস্থান ও আফগানিস্থানকে গ্যাস পাঠানোর অর্থ হল তুর্কমেনিয়ার জন্য বছরে দেড় বিলিয়ন ডলার অর্থ আয়. এই অর্থ তাদের খুবই প্রয়োজন, কারণ গ্যাস রপ্তানী থেকে আয় খুব কমে গেছে, যখন থেকে রাশিয়া প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে তুর্কমেনিয়ার গ্যাস আমদানী করা. সহকর্মীরা দাম নিয়ে সহমতে আসতে পারে নি, যদিও রাশিয়া প্রস্তাব করেছিল যে, চীনের থেকে প্রায় আড়াই গুণ বেশী দাম দিতে. আশখাবাদ এই পথে গিয়েছিল চীন থেকে বড় মাপের সস্তা ঋণ পেয়ে.

    দক্ষিণ এশিয়াতে নতুন গ্যাস কেনার ক্রেতা ও সহকর্মী পেয়ে আশখাবাদ তাদের শক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগী দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারবে ও এই ক্ষেত্রে মস্কোর কোন বিরক্তি উদ্রেক করবে না. "নাবুক্কো" প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি হবে অনেকটা স্পর্শকাতর. কারণ ইউরোপীয় সংঘ, তাদের নানা রকমের গ্যাস কেনার রাস্তা খোলা রাখার কথা লোক সমক্ষে বলেও এই প্রকল্পটিকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান হিসাবে দেখিয়েছিল, কারণ পাইপ লাইন পাতার কথা হয়েছিল রাশিয়ার সীমা এড়িয়ে. আর "তাপি" প্রকল্পের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে প্রচুর বিপদের আশঙ্কা, যার কথা "ত্রোইকা ডায়লগ" বিনিয়োগ কোম্পানীর বিশ্লেষক ভালেরি নেস্তেরভ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন:

    "এই প্রকল্পটি খুবই সমস্যা সঙ্কুল, কারণ আফগানিস্থানের এলাকা একেবারেই নিরাপদ নয়. তার উপরে পাকিস্থান ও ভারতের সম্পর্কের বিষয়টিও রয়েছে. সে হয়ত এখন বিবাদের নয়, তবে তাকে আপাততঃ বন্ধুত্ব মূলক বলা যেতে পারে না. আমি মনে করি যে, বর্তমানে এই প্রকল্পের বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনা তুর্কমেনিয়ার পক্ষ থেকে যতটা তাদের সম্ভাব্য গ্যাস ক্রেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করা হবে, যতটা আমরা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি. এই ভাবে তারা তাদের গ্যাসের রপ্তানী মূল্য নির্ণয়ের সময়ে চাপ দেবে".

    যাই হোক না কেন, এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষই নিজেদের খেলা খেলে যাচ্ছে, অংশতঃ কাবুলে ও নিউ দিল্লীতে বুঝতে পরেছে যে, তুর্কমেনিয়ার গ্যাস – এটা শুধু শক্তি সমস্যা সমাধানের পথ নয়. এর ভিত্তিতে দ্রুত বিরল খনিজ পদার্থ উত্তোলন করা সম্ভব হবে, যাতে দুটি দেশই ধনী. এই ধাতু গুলির দাম দ্রুত ধাবমান অশ্বের গতিতে বেড়েই চলেছে আগষ্ট মাসে চীন এর রপ্তানীর উপরে জোর বাধা নিষেধ আরোপ করার পর থেকে. তার মধ্যে তারা পূর্ব চীন সমুদ্রে এলাকা সংক্রান্ত বিবাদের কারণে জাপানকেও রপ্তানী কমিয়ে দিয়েছে.