রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া স্ট্র্যাটেজিক সহকর্মী দেশ হতে চলেছে. জি – ২০ শীর্ষ বৈঠকের আগে দিমিত্রি মেদভেদেভ সিওল যাচ্ছেন সরকারি সফরে – ১০ থেকে ১২ই নভেম্বর. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের নেতা লি মেন বাক তাঁদের ঘড়ি মিলিয়ে নেবেন জি – ২০ বৈঠকের প্রধান বিষয় গুলি সম্বন্ধে এবং কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের সমাধান নিয়ে আলোচনা করবেন. এই সফর উপলক্ষে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ক্ষেত্রে বিশাল সংখ্যক দলিল তৈরী হয়ে রয়েছে.

    গত ২০ বছরে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে, রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে. ১৯৯০ সালে বাণিজ্যের পরিমান ছিল এক বিলিয়ন ডলারের কিছু কম, ২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ বিলিয়ন ডলারের কিছু কম. উন্নতির পথে বাধা হয়েছিল বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট, কিন্তু তাও খুব বেশী দিনের জন্য নয়. অন্ততঃ রাশিয়ার অর্থনীতিতে কোরিয়ার বিনিয়োগের উপর বিশ্ব সঙ্কটের কোন প্রভাব পড়ে নি. এই বছরে সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে কোরিয়ার বৃহত্ কর্পোরেশন হিয়ন্দে নতুন একটি গাড়ী তৈরীর কারখানার নির্মাণের কাজ শেষ করেছে, আর কালুগা অঞ্চলে চকোলেট তৈরীর কারখানা লোট্টে তৈরী করা হয়েছে. দিমিত্রি মেদভেদেভের সফরের আগে রাশিয়া কোরিয়ার ব্যবসায়ীদের সাইবেরিয়া ও সুদূর প্রাচ্যের উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ প্রকল্পে অংশ নিতে আহ্বান করেছে বলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক একাডেমির প্রাচ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন:

    "দক্ষিণ কোরিয়া এই প্রক্রিয়ার এক প্রধান অংশীদার দেশ. তার উপরে কোরিয়ার লোকেরা এই বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহী, কারণ তাদের রপ্তানী বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল অর্থনীতি সঙ্কটের সময়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে. আর সেই ক্ষেত্রে রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্য ও সাইবেরিয়ার উন্নয়নের কাজ কোরিয়ার শিল্পকে দীর্ঘস্থায়ী উন্নতির সম্ভাবনার পথ খুলে দেবে".

    মস্কো ও সিওলের বিজ্ঞান বহুল আধুনিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা প্রচুর: যোগাযোগ ব্যবস্থা, মহাকাশ গবেষণা, চিকিত্সা শাস্ত্র সব ক্ষেত্রেই. শক্তি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাতে রেল পথ ও সড়ক পথ নির্মাণের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে. কিন্তু এই সব ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের প্রশ্নেরও সমাধান প্রয়োজন, সঠিক করে বলতে হলে বলা যেতে পারে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার বিষয় গুলি, তাদের দেশের মধ্য দিয়ে বড় যোগাযোগের পথ এবং গ্যাস সরবরাহের পাইপ লাইন বসানো যেতে পারে. এই সমস্যাকে আন্দ্রেই ভলোদিন একটি অন্যতম কঠিন প্রশ্ন বলে মনে করেন, যদিও দুই কোরিয়ার সম্পর্কের মধ্যে ইতিমধ্যেই কিছু উন্নতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. তা স্বত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক সমস্যা থেকেই যাচ্ছে, যদিও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময়ে বা জি – ২০ শীর্ষ বৈঠকের মধ্যে সেই সম্বন্ধে কোন কথা হয়তো হবে না বলে মনে করেন আন্দ্রেই ভলোদিন, তিনি বলেছেন:

    "উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক সমস্যা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমানের প্রশাসনে থাকা সংরক্ষণশীল দলের নেতারা কথা বলতে খুব একটা পছন্দ করেন না এবং তারা আশা করেন নিজেরাই এর সমাধান করতে পারবেন. দুই পক্ষের সংযম: উত্তর ও দক্ষিণের পক্ষ থেকে- এটাই বিরাট সাফল্য. উত্তর কোরিয়ার উপরে সব রকমের চাপ সৃষ্টি কোন ভাল ফল দেবে না. আর রাশিয়া সেই ধরনের চাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে".

    দিমিত্রি মেদভেদেভের দক্ষিণ কোরিয়া সফর জি ২০ শীর্ষ বৈঠকে তাঁর অংশগ্রহণ দিয়ে শেষ হবে, যেখানে বিশ্ব বিনিময় মুদ্রার বাজারের হাল, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ গুলিকে সাহায্য ইত্যাদি বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা হতে চলেছে. রাশিয়ার নেতা বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনাতেও অংশ নেবেন, তার মধ্যে রয়েছে চীনের নেতা হু জিন টাও এবং গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও অস্ট্রেলিয়ার সরকার প্রধান জুলিয়া গিডল্লার্ড এর সঙ্গে সাক্ষাত্কার.