মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থ - বিনিয়োগ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডলার ছাপার মেশিন চালু করা বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশাল সমস্যা সৃষ্টি করতে চলেছে. উন্নতিশীল দেশ গুলির অর্থনীতিতে অর্থহীণ টাকার বন্যা বয়ে যাওয়া ছাড়াও যে সমস্ত দেশ বাজেট অর্থনীতিতে ভর করে রয়েছে, তাদের পরিস্থিতি সঙ্কট জনক হতে চলেছে.

    নিজেদের সমস্যা সমাধান করা ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে সহজ পথে যাওয়া হয়েছে – জাতীয় ঋণ কিনে নেওয়া হচ্ছে, কোন রকমের ভর বিহীণ কাঁচা টাকার পাহাড় দিয়ে. আগামী বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আগে আমেরিকার অর্থনীতিতে ঢেলে দেওয়া হতে চলেছে নতুন ছাপা ৬০ হাজার কোটি ডলার. এই পদক্ষেপ কম করে বললে বলা যেতে পারে বিতর্কিত, তাই এই বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বিনিয়োগ বিশ্লেষক মিখাইল মামুতা বলেছেন:

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ ব্যবস্থা ও অর্থ মন্ত্রণালয় নানা ধরনের পদ্ধতির খোঁজ করে চলেছে, যা দিয়ে দেশের গ্রাহকদের চাহিদাকে বাড়ানো যেতে পারে. এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে দীর্ঘ কালীণ ঋণ পত্র কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা. এর ফলে সেগুলির বিক্রয় যোগ্যতা বাড়বে, বাড়তি অর্থের যোগান হবে, যা অর্থ মন্ত্রণালয় নিজের পছন্দ মত বিনিয়োগ করতে পারবে. কোন সন্দেহ নেই যে, এই অর্থ বিনিয়োগ কোন রকমের ভর না রেখে করা হচ্ছে. বাস্তবে এটিকে ভর বিযুক্ত যোগান বলা যেতে পারে".

    এই রকমের অর্থের ইঞ্জেকশন এক দিক থেকে বেশ কিছু সমস্যার সমাধান করে. কিন্তু অন্য দিক থেকে নতুন সমস্যা উদ্ভবের আশঙ্কা সৃষ্টি করে, আর তা শুধুমাত্র এবং যতটা না শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, তার থেকেও বেশী অন্যান্য দেশের জন্য, এই কথা বলেছেন রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বিনিয়োগ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার কোম্পানী "নিওকন" এর প্রধান মিখাইল হাজিন, তিনি যোগ করেছেন:

    "জিনিস পত্রের দাম বাড়বেই, এছাড়া বিশ্বের আর্থ বিনিয়োগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, কারণ কোন রকমের ভর ছাড়া যে অর্থ যোগান দেওয়া হল – তা ক্ষতি কারক. বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের আভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করছে, আর বাকী সকলের জন্য, বড় মাপে দেখলে, কোন রকমের মাথা ব্যাথা নেই. সব মিলিয়ে এটা সঙ্কটের পরিস্থিতিতে আরও একটি নতুন সমস্যার যোগ, যা বিশ্বের আর্থ বিনিয়োগ ব্যবস্থার চরিত্রের সঙ্গে জাতীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিবাদের প্রমাণ".

    আর এখানে প্রশ্ন শুধু এই নয় যে, ডলারের দাম কমার সঙ্গেই বিশ্বের অন্যান্য জাতীয় মুদ্রার দাম বাড়বে, আর তার ফলে এই সব দেশ থেকে রপ্তানী কমবে ও ব্যবসার উপরে তার প্রভাব পড়বে, ফলে স্টক মার্কেটে ও শেয়ার বাজারে দাম বাড়বে, বাড়ী ঘরের দামও বাড়বে. এক্ষেত্রে সেই সব দেশই হারবে যারা সঙ্কট থেকে বের হওয়ার জন্য কঠোর আর্থ বিনিয়োগ ব্যবস্থা নিয়েছিল. অংশতঃ ইউরোপীয় সংস্থার দেশ গুলি, যারা তীক্ষ্ণ বাজেট ব্যবস্থা নিয়েছিল প্রবল সামাজিক চাপকে উপেক্ষা করে.

    আরও বেশী হল ওয়াশিংটন থেকেই ঐতিহ্য মেনে অন্যান্য দেশকে তাদের জাতীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্য না কমাতে আহ্বান করা চলছে, এখন এবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র তহবিল সংস্থার পদক্ষেপ, যাতে ডলারের দাম জোর করে কমানো হল, তা কি করে মিলতে পারে ওই আহ্বানের সঙ্গে বোঝা গেল না. কিন্তু একটা বিষয়ে পরিস্কার হওয়া গেল, আমেরিকার অর্থনৈতিক দাওয়াই এর যে আসলে কত দাম, তা বোঝা গেল.