সাড়ে চার হাজার অল্প বয়সী মস্কো বাসী, সামরিক ঐতিহাসিক সংযুক্ত পরিষদ, ক্যাডেট ও সামরিক সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্র গুলি, সন্ধান দলের সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব করে আজ মস্কো শহরের রেড স্কোয়ারের উপর দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্যারেড করেছে. সেই পাথরের চত্বরের উপর দিয়ে, যেখান দিয়ে তাদের পিতামহ ও প্রপিতামহেরা সোভিয়েত জনতার মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধের প্রথম বছরে জার্মান – নাত্সী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যোগ দিতে প্যারেড করে গিয়েছিলেন. মস্কো আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে ৭ই নভেম্বর ১৯৪১ সালের প্যারেডের ৬৯ তম বর্ষ পালন করছে.

    এই দিনটি বিশ্বের ইতিহাসের পাতায় এক বিশেষ দিন হয়ে রয়েছে. তৃতীয় রেইখের সেনা বাহিনী প্রায় বিনা বাধায় ইউরোপের অর্ধেক দখল করার পরে, ১৯৪১ সালের জুন মাসে সোভিয়েত দেশের ভিতরে ঢুকে পড়ে. অ্যাডল্ফ হিটলার ভেবেছিল হেমন্তের শুরুতেই মস্কোর দখল নিতে পারবে, আর তাই ঠিক করেছিল ৭ই নভেম্বর রেড স্কোয়ারে জার্মান সৈন্যদের প্যারেড করবে. কিন্তু তার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ হতে পারে নি. লাল ফৌজের সেনা বাহিনীর বীরত্বের বাধা প্রথমে জার্মান বাহিনীর পথ রোধ করে দিয়েছিল মস্কোর উপকন্ঠে, তাতে হিটলারের সেনা বাহিনী, যা কিনা তখনও অপরাজিত ছিল, তা প্রথম হার স্বীকার করতে বাধ্য হয়, আর পরে ১৯৪৫ সালে নাত্সী শত্রুর সম্পূর্ণ ধ্বংসে পরিণত হয়েছিল.

    কিন্তু সেই ১৯৪১ সালে, সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য যে মস্কো নতি স্বীকার করে নি ও হার স্বীকার করতে রাজী নয়, এই প্রমাণ দেওয়ার জন্য ৭ই নভেম্বর রেড স্কোয়ারে লাল ফৌজের প্যারেড অনুষ্ঠান করা হয়েছিল. রাশিয়ার রাজধানীর প্রধান চত্বরে প্যারেডের ইতিহাসে এই দিনের প্যারেড ছিল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত. এখান থেকে সোজা, ক্রেমলিনের দেওয়ালের পাশ থেকেই সোজা, এই প্যারেডে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা চলে গিয়েছিলেন, যুদ্ধের প্রথম সারিতে, যা তখন এখান থেকে মাত্র কিছু কিলোমিটার দূরেই ছিল. এই ঘটনার খবর সারা বিশ্বে তত্ক্ষণাত পৌঁছে গিয়েছিল. ব্রিটেন ও আমেরিকার সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছিল যে, শত্রু সেনা বাহিনী পরিবৃত মস্কো শহরে এই প্যারেডের আয়োজন – সোভিয়েত জনতার বীরত্ব ও শৌর্যের এক মহান উদাহরণ. সারা বিশ্ব ও রাশিয়ার ইতিহাসের জন্য এই প্যারেডের তাত্পর্য কোন ভাবেই কমতে পারে না – এই কথা ঘোষণা করেছেন প্যারেডের উদ্বোধন করতে এসে মস্কোর মেয়র সের্গেই সবিয়ানিন, তিনি বলেছেন:

    "৭ই নভেম্বর ১৯৪১ সালের প্যারেড সারা বিশ্বের কাছে প্রমাণ করে দিয়েছিল যে, মস্কো বেঁচে আছে আর তার থেকেও বেশী হল, শত্রুকে যুদ্ধে আহ্বান করছে. মস্কো শহরের প্রশাসন এবং সমস্ত মস্কোবাসীর পক্ষ থেকে আমাদের প্রিয় প্রাক্তন সেনাদের আমি আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, আপনাদের বীরত্ব ও অমর বিজয়ের জন্য আমাদের গর্ব ও বিস্ময় চিরকাল থাকবে".

    এই প্যারেডের অভিনয় অংশে অংশ গ্রহণ করেছেন মস্কোর বিভিন্ন থিয়েটার স্টুডিওর ছাত্ররা, তাঁরা ১৯৪১ সালের ঐতিহাসিক সামরিক পোষাক পরে প্যারেড করেছেন, সঙ্গে ছিল দুটি সমসাময়িক টি – ৩৪ ট্যাঙ্ক. তাঁরা অভিনয় করে দেখিয়েছেন রেড স্কোয়ারে লাল ফৌজের বের হওয়া, যেখান থেকে সেই সময়ের সেনারা আজ থেকে ৬৯ বছর আগে সোজা চলে গিয়েছিলেন ফ্রন্টে. এই প্যারেডের প্রধান দর্শক হয়েছেন মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধের ভেটেরানেরা, তাঁদের মধ্যে পঞ্চাশ জন ছিলেন, যাঁরা এই ঐতিহাসিক প্যারেডে অংশ নিয়েছিলেন. তাঁদের জন্য রেড স্কোয়ারে বিশেষ করে এক মঞ্চ তৈরী করা হয়েছিল. এই দিনটি শুরু হয়েছে আলেকজান্ডারের বাগানে অমর শহীদদের স্মৃতি সৌধ চিরন্তন অগ্নি শিখার সামনে পুষ্প স্তবক অর্পণ করে, আর শেষ হবে বলশয় থিয়েটারে উত্সব সন্ধ্যা পালন করে.