কুরিল দ্বীপপুঞ্জে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেবের কর্মমূখী সফরকে কেন্দ্র করে জাপানের ক্ষোভ প্রকাশকে অনেক প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞরা একে স্বয়ং জাপানের অভ্যন্তরীন রাজনীতির সাথে সংগ্রাম বলে মন্তব্য করেছেন.

 কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরের একান্ত ইচ্ছার কথা রাশিয়ার প্রসিডেন্ট ১ মাস পূর্বেই ঘোষণা করেন.এরপরই জাপানের পক্ষথেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়,রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করবে.যদিও রাশিয়া এর ব্যাখ্যায় জানায় যে,দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নেতা নিজ দেশের ভূখন্ডের মধ্যেই সফর করেছেন,কিন্তু এই বিষয়টি বোধগম্য নয় যে, তা কেন প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে ভাবিয়ে তুলবে.মেদভেদেবের এই সফরের পরই টোকিও জানায়,এই ঘটনা জাপানীদের অনুভবে আঘাত হেনেছে,এমনকি রাশিয়ায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্টদূতকে সাময়িকভাবে জাপানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে.যদিও পররাষ্ট্র রাজনীতির এই ঘটনাই  জাপানের  ক্ষোভ প্রকাশের প্রথম কারণ হলেও তা মূলত জাপানের অভ্যন্তরীন রাজনীতির সাথেই জড়িত.এমন মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রতিনিধির সদস্য বাসেলী মিখেব.

 তিনি বলেন,সত্যিকার অর্থে বর্তমানে জাপানের জনগনের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে.যার অংশ হিসাবে রাজনৈতিক বিষয়টিও জড়িত রয়েছে.তবে কার্যত উত্তর অংশের এলাকা যা বরাবরাই জাপানের পররাষ্ট্র রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধপূর্ণ একটি বিষয় এবং রাজনৈতিক দল যারা আজ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন সেই ডেমোক্রেটিক দল কোন প্রকার প্রতুত্তর বিষয়ক কার্যক্রম গ্রহন করতে পারছে না.বিশেষভাবে যা তাদের বিরোধী দল নিজেদের সংগ্রামের বিষয়বস্তু হিসাবে ব্যবহার করতে পারে.যদি টোকিও এই ক্ষেত্রে নিশ্চুপ থাকে তাহলে বিরোধী দল কর্তৃক ডেমোক্রেটিক দলকে পরবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচনে অনেক কঠোর সমালোচনা শুনতে হবে.

 

 জাপান উত্তর সীমানায় অবস্থিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা হিসাবে দাবী করে আসছে যা ২য় বিশ্ব যুদ্ধের ফলাফলের সাথে সম্পর্কিত.১৯৫৬ সালে রাশিয়া ও জাপান যৌথভাবে এক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে,যেখানে উল্লেখ আছে যে,৪টি দ্বীপের মধ্যে হাবোমাই ও শিকোতানের মালিকানা জাপানের কাছে হস্থান্তর করা হবে যদি জাপান অন্যান্য দ্বীপ(ইতুতরুপ ও কুনাশির)এর  মালিকানা হিসাবে নিজেকে দাবী না করে.টোকিও ৪টি দ্বীপপুঞ্জেরই মালিকানা নিজেকে দাবী করে.ফলশ্রুতিতে, দুটি দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোন শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হয় নি.তদুপরি রাশিয়া একবারের জন্য হলেও জাপানকে পুরো এলাকা পরিত্যাগের নির্দেশ দেয় নি.গত শতাব্দীর শেষ দিকে রাশিয়া ও জাপান যৌথভাবে কমিটি গঠন করে.দুটি দেশের পক্ষথেকেই অর্থনৈতিক বিষয়ক কূটনীতি নিয়োগ দেওয়া হয় এবং দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে একসাথে কাজ শুরু করে.

উল্লেখ করা উচিত যে, দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা জাপানীদের দাবী রয়েছে চীনের কাছেও.দয়াইউইদাও(চীনের ভাষায়) দ্বীপকে যা জাপানীদের কাছে  সেনকাকু দ্বীপ হিসাবে পরিচিত এবং দক্ষিন কোরিয়া দ্বীপ টকতাও(জাপানী নাম তাকেসিমা).ইতিহাস চীনের সাথে দুই দেশের সম্পর্ক অনেক অবনতি ঘটিয়েছে.দুই দেশই জাতীয় বিমান সেবা,কয়লা উত্তলন এবং পূর্ব চীন সমুদ্রে প্রাকৃতিক সম্পদ সংক্রান্ত  বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নমূলক সকল সংলাপ প্রত্যাখান করা হয়েছে.চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যখন দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়ন চলছিল তখন চীন সে দেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূতকে ৭ বার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় তলব করা হয়েছিল.

ভৌগলিক সীমানা নিয়ে জাপানের এই সংক্রান্ত দাবী যার সাথে প্রতিহিংসাপরায়ন মনোভাবই স্থায়ীভাবে প্রকাশ পায়.জাপানের পক্ষথেকে যুদ্ধে অংশ নিয়ে যারা নিহত হয়েছেন তাদের জন্যই এখানে  জাপানীদের মনের কষ্ট মিশে আছে.সময়ের পরিক্রমার সাথে সাথে ইসকুনিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীও সফর করেন.বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে চীন ও দক্ষিন কোরিয়া জাপানের কার্যক্রমে বিশেষ উত্কন্ঠা প্রকাশ করেছিল.একটি মন্দিরকে জাপানের সামরিক চারিত্রিক রুপ হিসাবে মনে করা হয়েছিল.তারা এই সফরকে নিহতদের স্মৃতিকে অবজ্ঞার সামিল হিসাবে উল্লেখ করে.একদিকে জাপান এই বিক্ষোভকে তেমন গুরুত্ব দেয় নি.বর্তমান শতাব্দীর শুরুতে এই বিষয়ে উন্নয়ন আসে,যখন প্রধামন্ত্রী ইসকুন সফর না করে শুধুমাত্র স্মরক হিসাবে একটি বনসাই গাছ পাঠিয়ে দেয়.অনেক বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে তাদের মতামতে জানায় যে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মন্দির পরিদর্শন করা অথবা প্রতিহিংসাপরায়ন মনোভাব পরিত্যাগের কোন ইঙ্গিত প্রকাশ করছে না.