টোকিও মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক শীতল করার জন্য নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে. ১লা নভেম্বর রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরের সঙ্গে জড়িত সমস্ত অবস্থা অনুধাবনের জন্য জাপান রাশিয়া থেকে তাদের রাজদূতকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে.  

   টোকিও এই রকমের চরম কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে মস্কোর তরফ থেকে কড়া সাবধান বাণী পাঠানো স্বত্ত্বেও. আর তা হল – রাশিয়ার দেশ নেতা দেশের ভিতরে তাঁর সফরের সূচী সম্বন্ধে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন. আর রাষ্ট্রপতিকে কুরিল না যাওয়ার জন্য উপদেশ দেওয়া উপযুক্ত নয় বলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

   “এটা আমাদের জমি, আর রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি রাশিয়ার জমি পরিদর্শন করতে গিয়েছেন, রাশিয়ার অঞ্চল দেখতে গিয়েছেন. আমরা এটা আমাদের জাপানী সহকর্মীদের বুঝিয়ে দিয়েছি. আমরা কোন রকমের পদক্ষেপ নেবো না, যাতে রাশিয়া ও জাপানের সহযোগিতার ক্ষতি হয়. কিন্তু জাপানের তরফ থেকে অবশ্যই নিজেদের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে. তাদের পক্ষ থেকে এই ধরনের অন্য পথে চলা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়”.

   উত্তরে টোকিওর যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেল, তা মস্কোর পক্ষ থেকে একেবারেই আশা করা হয় নি. টোকিও সাবধান করে বলেছে যে, তারা প্রত্যুত্তর দেবে. বোঝাই যাচ্ছে যে, দেশ থেকে রাজদূতকে আলোচনার জন্য ডেকে পাঠানো, তার একটি পদক্ষেপ. রাশিয়ার লোকসভার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিষদের প্রধান কনস্তান্তিন কোসাচেভ জাপানের সরকারের এই সিদ্ধান্তকে "দুঃখজনক ভুল" বলে আখ্যা দিয়েছেন. সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জাপান অনুসন্ধান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভিক্তর পাভল্যাতেঙ্কো টোকিওর এই প্রতিক্রিয়াকে “অসুস্থ” নাম দিয়ে বলেছেন:

   “টোকিওর এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠকের আগে এই রকমের একটি পদক্ষেপ, যখন দেশ গুলির প্রথম সারির নেতারা সকলের স্বার্থের কথা চিন্তা করেই আলোচনা সভাতে যোগ দিতে চলেছেন, তখন সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে জাপানের ভূমিকাকেই খর্ব করে. তার উপরে তাদের সঙ্গে ভার হিসাবে রয়েছে চীনের সঙ্গেও একই রকম দ্বীপের অধিকার নিয়ে বিবাদের আগের উদাহরণ. কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমার ধারণা হল যে, বড় কোন ক্ষতি সেখানে করা হবে না, কারণ কিছু বাস্তব বিষয় রয়েছে, অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে, যা আসলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতি প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে”.

   রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের উপ প্রধান ভাসিলি মিখিয়েভের মতে টোকিও ও মস্কোর বর্তমানের সম্পর্কের শৈত প্রবাহ বহু দিন ব্যাপী হবে না, তিনি তাই যোগ করেছেন:

   “কিন্তু এটা একটা কারণ হয়েছে রাশিয়া ও জাপানের সম্পর্কে শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে একটা নতুন গতি যোগ করার. অর্থাত্ যেমন, রাশিয়া জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ত্রৈদেশীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে, যাতে সম্মিলিত ভাবে বিশ্বাস যোগ্যতার একটা পরিমাপ সৃষ্টি করা যায়. অথবা রাশিয়া, চীন ও জাপানের মধ্যে কোন কাঠামোর মধ্যে. এখানেও আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে, যা সম্মিলিত ভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার বা সমুদ্রে নিরাপত্তার বিষয়ে সঙ্গে জড়িত. যদি আমরা এই সমস্ত দিক নিয়ে কাজ করি, তবে এই রকমের সম্পর্কের মধ্যে সাময়িক জটিল অবস্থা বাস্তবে কোন প্রভাব ফেলবে না”.

   টোকিও থেকে সাময়িক ভাবে তাদের রাজদূতকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে, ক্রেমলিন থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ইয়োকোহামা শহরের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির শীর্ষ বৈঠকের সময়ে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সাথে জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানের সাক্ষাত্কারের ক্ষেত্রে কোন রকমের বাধা নেই. যদি সেই ধরনের কোন প্রস্তাব জাপান থেকে করা হয় তবে, তা বিচার করে দেখা হবে বলে ক্রেমলিনের উত্স থেকে জানানো হয়েছে.