কুরিল দ্বীপপুঞ্জের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হবে – এটাই দিমিত্রি মেদভেদেভের দক্ষিণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরের প্রধান অর্থ. রাশিয়ার দেশ নেতার এই প্রথম কুরিল দ্বীপপুঞ্জ যাত্রা, এগুলির অধিকার নিয়ে বিতর্কের ফলেই গত ১৯৪৫ সাল থেকে মস্কো ও টোকিও শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারে নি.

    রাষ্ট্রপতির বিমান অবতরণ করেছিল কুনাশির দ্বীপে, যেখানে প্রায় ৮০০০ লোকের বাস. সফরের মেয়াদ ছিল সাড়ে তিন ঘন্টা, এই সময়ের মধ্যেই দেশের নেতা স্থানীয় কারখানা পরিদর্শন করেছেন, জনগণের সঙ্গে কথা বলেছেন, দোকানে ঢুকে জিনিসের দাম দেখেছেন এবং এমনকি নিজের ফেরার পথের জন্য ছোট্ট একটা ৩০০ গ্রাম ওজনের মাছ – কোরিউশকা কিনেছেন. রাষ্ট্রপতি আশা করেছেন যে, মধ্য রাশিয়ার মতই কুরিল দ্বীপপুঞ্জের লোকেদের জীবনযাত্রার মান হবে. তাই তিনি বলেছেন:

    "যাতে এই দ্বীপের অধিবাসীদের জীবন যাত্রার মান রুশ দেশের অন্যান্য জায়গার মতই হয়, তার জন্য প্রয়োজন হল, সেই সব পরিষেবা, যা এই দেশের দূর প্রান্তের অধিবাসীরা পেয়ে থাকেন, তা যেন অংশতঃ সাখালিন অঞ্চলের আর সব মিলিয়ে দেশের অন্যন্য অঞ্চলের মতই সম মানের হয়. সেই কারণে দরকার হল যে, সেখানে দেশের বিশেষজ্ঞরা যেন কাজ করতে আসেন. সেখানে গৃহ নির্মাণের জন্য একটা সম্পূর্ণ প্রকল্পের প্রয়োজন, যাতে যারা সেখানে কাজ করতে যাবেন. তাদের থাকার জন্য ব্যবস্থা বাল হয়, তাদের যেন সেখানে অনেকদিন ধরে থাকবার ও কাজ করার জন্য উত্সাহ হয়".

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাংবাদিকদের সাক্ষাত্কার হয়েছে এই দক্ষিণ কুরিল দ্বীপে সদ্য নির্মিত এক কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে, বৃহত্ কুরিল দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলের শিকোতান দ্বীপে শীঘ্রই আরও একটি আধুনিক কিন্ডার গার্ডেন স্কুল খোলা হবে. পর্যটন বাড়ানোর সম্বন্ধে বলতে হলে বলা উচিত্ যে, এই অঞ্চলে পর্যটকদের জন্য ব্যবস্থা করার মত সব কিছু আছে, অভিজ্ঞ পর্যটকরা ভাল করেই জানেন যে কুরিল দ্বীপপুঞ্জের মাঝে পাল তোলা নৌকায় চড়া ও আগ্নেয় গিরি দেখার অর্থ কি. যারা শান্ত ভাবে বেড়াতে যেতে ভাল বাসেন, তাদের জন্য রয়েছে কুনাশির দ্বীপের উষ্ণ প্রস্রবনে স্নান এবং রোগ ব্যাধি দূর করতে পারে এমন কর্দমে অবগাহণ. এই অঞ্চল একেবারেই ব্যতিক্রমী, এই কথা স্বীকার করে ভৌগলিক ও খনিজ পদার্থ বিষয়ে ডক্টরেট ইগর দাভিদেঙ্কো রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন:

    "মানুষের জন্য একটা গর্বের বিষয় হল যে, সেই অঞ্চলে এক খন্ড জমির মালিকানা পাওয়া, যেখানে ধরিত্রী জীবন্ত ও এখনও তার স্বনির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে. এটা সকলেরই দরকার. ইউরোপের মূর্খ লোকেরা এই কথা বোঝেন না. তাদের এরকম কিছুই নেই".

    রাশিয়ার মধ্যেই রাষ্ট্রপতির কর্ম সফর কিন্তু অন্য একটি দেশের পক্ষ থেকে সরবে প্রতিবাদ করার কারণ হয়েছে. জাপানের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে রাশিয়ার রাজদূতকে একটি প্রতিবাদ লিপি ধরানো হয়েছে. জাপানের পররাষ্ট্র দপ্তর যেমন ঘোষণা করেছে যে, এই পদক্ষেপ জাপানের লোকেদের অনুভূতিকে বড় ব্যাথা দিয়েছে. দেশের রাষ্ট্রপতির এই সফরের আগেই রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ কিন্তু বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, এই সফর তাঁর দপ্তরের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না. তিনি বলেছিলেন:

    "আমি পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে কাজ করি, আর কুরিল দ্বীপপুঞ্জ দেশের অংশ ও আভ্যন্তরীন বিষয়. রাষ্ট্রপতি আমাদের দেশের ভিতরে তাঁর ক৪মসূচী ও সফরের বিষয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন".

মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কুনাশির, ইতুরুপ, হাবোমাই ও শিকোতান সোভিয়েত দেশের অংশ হয়ে যায়. কিন্তু জাপান এই বিষয়ে একমত নয়, ও তারা নিয়মিত এই জমির বিষয়ে নিজেদের অভিযোগ প্রকাশ করেই যাচ্ছে. একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই অঞ্চল কোন বিবাদের অংশই নয়, বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা. ১৯৫৬ সালে জাপান ও রাশিয়া একসাথে একটি দলিলে স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে, জাপানকে হাবোমাই ও শিকোতান ছেড়ে দেওয়া হতে পারে, যদি তারা অন্য সমস্ত অঞ্চল নিয়ে তাদের দাবী ফিরিয়ে নেয়. জাপান দাবী করেছে চারটি দ্বীপকেই ফিরিয়ে দিতে হবে. প্রসঙ্গতঃ বর্তমানের প্রতিবাদ অন্যান্য এলাকা নিয়ে বিবাদের সমসাময়িক হয়ে পড়েছে: জাপানও চীন কিছুতেই দ্যায়াউইদাও (চীনের নাম অনুযায়ী) দ্বীপ গুলি নিয়ে একমত হতে পারছে না, যা জাপানীরা নাম দিয়েছে সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ. এই বিবাদের অগ্নিতে ঘৃতাহুতি করেছে জাপানের বর্তমানের প্রশাসনের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি. এই বিষয়ে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া একটি সাক্ষাত্কারে সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জাপান অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান ভালেরি কিস্তানভ বলেছেন:

"জাপানের জনমত খুবই অসন্তুষ্ট হয়েছে তাদের দেশের গণতান্ত্রিক দলের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী চীনের সঙ্গে সম্পর্ক যে জায়গায় নিয়ে গেছেন তার জন্য. এই প্রথম নাওতো কান এর সরকার কে যাঁরা সমর্থন করেন, তাঁদের সংখ্যা অতিক্রম করেছে, যাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে. এই পরিস্থিতি থেকে মনে করা যেতে পারে যে, জাপান খুব একটা ভাল বোধ করছে না চীনের সঙ্গে এলাকা সংক্রান্ত বিবাদের কারণে, তাই দেশের নেতৃত্ব ঠিক করেছে রাশিয়ার দিক থেকে কিছু পয়েন্ট পেতে. আর তাই তারা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর নিয়ে এত কড়া ও তীক্ষ্ণ সমস্ত মন্তব্য করতে লেগেছে".

    রাশিয়ার প্রদান বিশেষজ্ঞরা অবশ্য আহ্বান জানিয়েছেন যে, এই প্রশ্নে অর্থনীতি ও রাজনীতির মধ্যে বদলী না করতে. রাশিয়া বহুবারই জাপানকে প্রস্তাব করেছিল একসাথে এই অঞ্চলের উন্নতি সাধন করতে. গত শতকের শেষে এই অঞ্চল নিয়ে রাশিয়া ও জাপান একটি পরিষদও তৈরী করেছিল, দুই দেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলেরও এখানে একসাথে জড়ো করা হয়েছিল, সম্মিলিত প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছিল. যাতে এই সব কাজ বাস্তবায়িত হয়, তাই প্রয়োজন হল অর্থনৈতিক বিষয়ে যোগ সূত্রের সন্ধান করা, রাজনৈতিক ভাবে এলাকা নিয়ে বিবাদ কে ইন্ধন যোগানো নয়.