ভিয়েতনামের হ্যানয় শহরে আসিয়ান সংস্থার শীর্ষ বৈঠকের প্রাক্কালে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া এশিয়ার বাঘেদের সঙ্গে একসাথে আধুনিকীকরণের কাজ করবে. তাঁর কথামতো "এই সম্মেলন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে, আর তার ফল গতি এনে দিতে পারে অসংখ্য বিভিন্ন দিকে: রাজনীতি ও বাণিজ্য থেকে, পরিবহন ও জ্বালানী শক্তি বিষয় থেকে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির থেকে, সংস্কৃতি ও পর্যটন থেকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মিলিত সংগ্রাম এবং বহুদেশিক অপরাধের মোকাবিলা করা পর্যন্ত".

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ গুলির সঙ্গে রাশিয়ার মুখ্য নীতি হল মৈত্রী ও সহযোগিতা. তাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি সম্বন্ধেই আগামী রাশিয়া – আসিয়ান শীর্ষ বৈঠকে আলোচনা হবে. প্রদান বিষয় গুলির মধ্যে রয়েছে – এই অঞ্চলের নিরাপত্তা. আর এখানে রাশিয়া নিজেদের সহযোগিতার পদ্ধতি প্রস্তাব করতে পারে, আন্তর দেশীয় কাঠামো তৈরী করার মাধ্যমে. "এই রকমের কাঠামো, দিমিত্রি মেদভেদেভ ঘোষণা করেছেন যে, হওয়া উচিত্ কোন রকমের জোট নির্ভর না হয়ে, যৌথ ভাবে, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমস্ত দেশের সমান অধিকারের ভিত্তিতে, যার ফলে এই অঞ্চলে মৈত্রী ও বিশ্বাসের আবহাওয়া তৈরী হতে পারে, আমাদের সকলের যৌথ স্বার্থেই".

এখানে অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশটির প্রতিও মনোযোগ দেওয়া হবে. বিগত কয়েক বছরে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশগুলি নিজেদের যথেষ্ট শক্তিশালী ভাবে দেখাতে পেরেছে. বর্তমানে তাঁদের ভাগে বিশ্বের সর্ব মোট বার্ষিক উত্পাদনের শতকরা ৬০ ভাগ রয়েছে, বিশ্বের বাণিজ্যের প্রায় পঞ্চাশ ভাগ ও বিনিয়োগের শতকরা ৪০ ভাগ দেখা গিয়েছে. তাই বাণিজ্য- অর্থনৈতিক এবং বিনিয়োগ সহযোগিতাকে রাশিয়া আসিয়ান সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার একটি অন্যতম অংশ বলে মনে করে.

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার অর্থনৈতিক প্রকল্প গুলির মধ্যে, যা রাশিয়াকে এখনও বাস্তবায়িত করতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনামে প্রথম আণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করা. তাছাড়া এই প্রকল্প করা হবে ঋণ দিয়ে, যা রাশিয়া আলাদা করে দিচ্ছে. এই বিষয়ে রাশিয়ার অ্যাটমস্ত্রোইএক্সপোর্ট কোম্পানীর তথ্য ও জনসংযোগ সচিব ওলগা তসীলিওভা বলেছেন:

"পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী হলে ভিয়েতনাম সেই সমস্ত দেশের একটি হবে যারা বিদ্যুত শক্তি রপ্তানী করতে পারে. আর এই পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান সম্মত উত্পাদনের শিল্পকে আরও উত্সাহ দেবে উন্নতি করার, দেশের কর্মীদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা এই দেশকে বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা করার সামর্থ্য দেবে".

রাশিয়া ও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতার বর্তমানের ইতিহাসের পরিধি ১৫ বছরেরও কম, কিন্তু খুব কম কিছু করা হয় নি এই সময়ের মধ্যে. এখানে জ্বালানী শক্তি থেকে শুরু করে বিনিয়োগ বাজারে সর্ব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা হয়েছে, সংস্কৃতির মেল বন্ধন এবং বাণিজ্যও বেড়েছে.