"রেডিও রাশিয়ার" আজ শুভ জন্মদিন পালন করা হচ্ছে. ৮১ বছর আগে এই দিনে মস্কো থেকে বিদেশে রেডিও তরঙ্গে প্রচার শুরু করা হয়েছিল. রাশিয়ার জীবনের সাথে এই সব গুলি বছর ধরে আমরা পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি বিশ্ব বাসী কে, তুলে ধরছি দেশে যা ঘটছে তারই বহু বর্ণ সচিত্র পরিচয়. আমরা চেষ্টা করছি তা যেন সমস্ত মহাদেশের সব লোকের কাছেই বোধগম্য হয়. বর্তমানে "রেডিও রাশিয়া" আগের মতই বিশ্বের অন্যতম পাঁচটি জনপ্রিয় প্রথম সারির রেডিও স্টেশনের একটি. এই রেডিও যার ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে, কাজ করার এক নিজস্ব শৈলী রয়েছে, আজ এটা এক আধুনিক, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন এমনকি খানিকটা জ্বালিয়ে দেওয়া রেডিও হয়েই রয়েছে.

    ২৯শে অক্টোবর বিশ্ব প্রথম শুনেছিল "রেডিও রাশিয়ার" শুরুর সঙ্গীত:

    মস্কো থেকে বলছি!

    এই ভাবেই শুরু হয়েছিল সম্পূর্ণ নতুন এক ধারণা বিদেশে সম্প্রচার – রেডিও যার কোন সীমানা নেই. তখন প্রথম "মস্কো রেডিও" থেকে শুরু হয়েছিল জার্মান ভাষায় সম্প্রচার, তার পরে ইউরোপের অন্যান্য ভাষাতেও. এর তিন বছর পরেই শুধু বিশ্বের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক রেডিও "বি বি সি" শুরু হয়েছিল, আর "ভয়েস অব আমেরিকা" আরও কিছু বছর পরে. আজকের "রেডিও রাশিয়া" প্রায় হাজার খানেক কর্মীর রেডিও, যেখানে রয়েছেন সাংবাদিক, সমীক্ষক, পর্যবেক্ষক, ঘোষক এবং বিশ্লেষকেরা, রয়েছেন সম্পাদক ও সরাসরি প্রচারের রেডিও প্রবন্ধকাররা. বিগত বছর গুলিতে এই কর্মীদল সমস্ত কিছুই করে চলেছেন, যাতে তাঁদের শ্রোতা ও পাঠকের সংখ্যা বৃদ্ধি হয় ও ভৌগলিক ভাবে আরও সুদূর প্রসারী হয়. আজ আমরা বিশ্বের ৪১টি ভাষায়, প্রতিদিনে প্রায় ১৫০ ঘন্টারও বেশী মোট সময় ধরে প্রচার করছি. বর্তমানের রুশ দেশের জীবন, তার ইতিহাস, সংস্কৃতি, আভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতি সম্বন্ধে বলা হচ্ছে প্রায় ৫০০টি নানা ধরনের অনুষ্ঠানে, যা বিশ্বের ১৭০টি দেশে প্রায় ১০ কোটি লোক শুনে থাকেন. আজকের রেডিও কোম্পানী একটি আধুনিক বহু মাধ্যমের সংবাদ সংস্থা, যা বিশ্বের সমস্ত শ্রোতাদের সঙ্গে অবিরত যোগাযোগ করেই চলেছে. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী আলেকজান্ডার ইয়াকোভেঙ্কো বলেছেন:

    ""রেডিও রাশিয়া" একটি দ্রুত উন্নতিশীল কোম্পানী, যা সমস্ত রকমের আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের শ্রোতাদের কাছে রুশ দেশ সম্বন্ধে তথ্য পৌঁছে দিতে. আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল অন্য দেশ সম্বন্ধে রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতির মূল্যায়ণ সম্প্রচার. এখানে আমি উল্লেখ করতে বাধ্য যে, গত কয়েক বছরে "রেডিও রাশিয়ার" সমস্ত মাধ্যমেরই যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে. অংশতঃ, রেডিও কোম্পানীর সাইটে মাল্টিমীডিয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে গ্রাহকের সংখ্যাও বেড়েছে. এক কথায়, বয়স এটা যে কোন বড় সংবাদ মাধ্যমের জন্য বেশী করে ইতিবাচক ব্যাপার, যতটা না নেতিবাচক, কারণ যত তার মর্যাদা বেশী, তত বেশী তার শ্রোতা".

    আজকের "রেডিও রাশিয়া" নতুন প্রযুক্তির উপরে ভর করেছে, ইন্টারনেটের প্রসারের সঙ্গে বর্তমানের শ্রোতারা শুধু রেডিও শুনতেই পাচ্ছেন না, তাঁরা টেলিভিশনের গুণ মান সমেত অনুষ্ঠান চাক্ষুষ দেখতেও পাচ্ছেন. বলা যেতে পারে, "রেডিও রাশিয়া" নতুন জায়গা দখল করেই চলেছে ও উন্নতি করেই চলেছে, এই কথা উল্লেখ করে রেডিও কোম্পানীর চেয়ারম্যান আন্দ্রেই বিস্ত্রীস্তস্কি বলেছেন:

    "রেডিও রাশিয়া শুরু হওয়ার সময়ে যা ছিল প্রচারের প্রথম উদ্দেশ্য, আজ তা একেবারেই বাস্তব নয়. কমিন্টার্নের মৃত্যু হয়েছে, সমাজবাদী ও কমিউনিস্ট ভূত প্রায় নিঃশেষিত. এখন "রেডিও রাশিয়া" সবার আগে শ্রোতাকে উত্সুক করার মত খবর প্রচার করতে বাধ্য. আমরা অবশ্যই পেশাদার, আধুনিক ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন হতে বাধ্য, এমন কি কখনও গায়ে জ্বালা ধরানোর মতো. এক কথায় আমাদের শ্রোতাদের মনকে আগ্রহী করতে হবে. নতুন মাল্টিমীডিয়া যোগাযোগের বন্দোবস্ত, যেখানে আজ আমরা রয়েছি, ক্রমাগত উন্নতি করছে. সবচেয়ে মূল কথা হল – গুণ ও শ্রোতাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন রকমের কাজের ধরণ. এটাই প্রধান কাজ".

    "রেডিও রাশিয়া" কে শুধু তার কাজের অধিকারেই বিশ্বের রেডিও তরঙ্গের এক প্রথম সারির দূত মনে করা হয় না, বরং মনে করা হয় দেশের ডিজিট্যাল সম্প্রচারের অগ্রদূত. এ ছাড়া "রেডিও রাশিয়ার" অনুষ্ঠান এখন মোবাইল ফোনেও শোনা যাচ্ছে. আজ রেডিও কোম্পানী খুঁজছে উন্নতি করার জন্য নতুন মাধ্যম, তাই আন্দ্রেই বিস্ত্রীস্তস্কি বলেছেন:

"স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহে আমাদের প্রায় ৯০ টি এফ এম প্রচার স্টেশন রয়েছে. এই ভাবেই আমরা এই অঞ্চলের প্রায় সমস্ত জায়গাতেই রয়েছি. বালকান অঞ্চলে এফ এম তরঙ্গে প্রচার রয়েছে, ইরাকের কুর্দিস্থানের তরঙ্গে, আফগানিস্থানে, তুরস্কে ও আরও অন্যান্য দেশে আজ আমরা এই ধরনের প্রচার করছি. এফ এম – এটা সহজ লভ্য এবং গুণগত ভাবে উন্নত রেডিও. আমাদের এই ধরনের রেডিও তরঙ্গ প্রসারের যন্ত্রপাতি রয়েছে আবখাজিয়া এবং দক্ষিণ অসেতিয়া দেশে. প্রসঙ্গতঃ বর্তমানে, "রেডিও রাশিয়ার" এফ এম ব্যান্ডে প্রচারের জন্য জার্মানীর সঙ্গে কথা চলছে. বিদেশ সম্প্রচার আমাদের বাড়াতে হবে, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং এস্তোনিয়া দেশের ভাষাতেও".

গত আশি বছর ধরে "রেডিও রাশিয়ার" প্রচারের শুধু চরিত্রই নয়, বরং লক্ষ্যও পাল্টেছে, তার অনুষ্ঠানের বিষয়েও বদল হয়েছে দেশ ও বিশ্বের পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে. একই সঙ্গে আমাদের তথ্য প্রচারের নীতিতে সব সময়েই প্রধান ছিল দেশ গুলির সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন ও তাদের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের সেতু বন্ধন, এই কথা উল্লেখ করে রুশ রাজনৈতিক সাংবাদিকতার এক প্রবীণ কর্মী ভালেন্তিন জোরিন বলেছেন:

"৮১ বছর – এটা খুব একটা বেশী বয়স নয়. কিন্তু, এই বছর গুলিতে মূল নীতির কোন পরিবর্তন হয় নি. আমি মনে করি এই নীতি আমাদের রেডিও কোম্পানীর নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে – "রেডিও রাশিয়া" – রাশিয়ার স্বর. আমরা এক ধরনের কথাবার্তা চালাতে চাইছি, এমন করতে চাইছি, যাতে আমাদের কেউ বিরক্ত হয়ে না শোনেন, বা মনে না করেন যে, আমরা কোন ভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে চাইছি. বরং আজকের সার্বজনীন বিশ্বে আমাদের স্বর যেন স্বাভাবিক ও সুস্থ শোনায়. আর আমি মনে করি যে, এই ধরনের নতুন স্বর প্রক্ষেপ, এটাই আজকের দিনে "রেডিও রাশিয়ার" একটি প্রধান প্রশ্ন, যার উত্তর আমরা খুঁজে চলেছি. "রেডিও রাশিয়া" কি দরকার? আমি বিশ্বাস করি যে, খুবই দরকার, কারণ সমস্ত দেশের লোকেরাই জানতে চায় এক মহান দেশের সম্বন্ধে সত্য কথা, যা আজকের বিশ্বে অনেক ধরনের আবহাওয়াকেই নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে".

এখানে আগ্রহের হল এমন একটা বিষয় যে, এই বিদেশ সম্প্রচার কিন্তু বহু উঁচু মানের পেশাদার লোকেদের জন্যই হতে পেরেছে. এক সময়ে এখানে কাজ করতে শিখেছিলেন বহু বিশ্ব বিখ্যাত সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক কর্মী – ইভগেনি প্রিমাকভ, ভ্লাদিমির পোজনার, ভ্লাদ লিস্তিয়েভ, আলেকজান্ডার লিউবিমভ ও আরও অনেকে. বিদেশ সম্প্রচারের সাংবাদিকদের সব সময়েই মনে করা হয়েছে এলিট পেশার লোক বলে. এটা খুবই মূল্যবান বিষয় যে, বহু সাংবাদিকই সারা জীবন ধরে এখানেই কাজ করে চলেছেন. আর এর অর্থ হল, আজকের অল্প বয়সী কর্মীরা যারা "রেডিও রাশিয়াতে" যোগ দিচ্ছেন, তাদের সব সময়েই কাছে রয়েছেন ভাল সব শিক্ষক. এই রেডিও কোম্পানী সব সময়েই ছিল আভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে নানা ধরনের দৃষ্টিকোণ সম্বন্ধে প্রচারের মঞ্চ. আর "রেডিও রাশিয়া" শ্রোতাদের জন্য খোলাই রয়েছে, সে তারা যেখানেই থাকুন না কেন. বেশীর ভাগ সময়েই তাঁরা আমাদের বন্ধু হয়ে যান সারা জীবনের জন্যে.