রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী সের্গেই ইভানভ ঘোষণা করেছেন যে, শীঘ্রই গ্লোনাসস নেভিগেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভাবে বিশ্বব্যাপী হবে. বছরের শেষের আগেই ২৪টি উপগ্রহ সহ কক্ষ পথের ব্যবস্থা তৈরী করা শেষ হবে, যা সঙ্কেত পাঠাবে বিশ্বের সমস্ত জায়গা জুড়ে. ২০২০ সালের মধ্যে এই ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ব্যয় করা হতে চলেছে ৫৬০ বিলিয়ন রুবল (প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার), তাছাড়া বেশীর ভাগ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে উপগ্রহের জন্য নয়, পৃথিবী পৃষ্ঠের উপরে অবস্থিত যন্ত্রপাতির জন্যই.

    উপগ্রহ মাধ্যমে দিক নির্ণয় ব্যবস্থা রাশিয়ার উদ্ভাবনী উন্নয়নের একটি অন্যতম প্রাথমিক দিক বলে ঘোষিত হয়েছে. গ্লোনাসস ব্যবস্থার সামাজিক দিকটি বহু রকমের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ভাবে সফল কাজকর্ম করতে উদ্দীপ্ত করবে. শুধুমাত্র পরিবহন ক্ষেত্রেই একের চার ভাগ খরচ কমানো সম্ভব হবে, সঠিক পথ নির্ণয় করে ও মালপত্রের চুরি বন্ধ করে. উপগ্রহ মারফত পাওয়া খবর দিয়ে রাস্তায় দূর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে, অকুস্থলে দ্রুত সাহায্য এবং ত্রাণ পৌঁছনো সম্ভব হবে এবং এমনকি অপরাধ ধরার বিষয়টিও উন্নতি করবে. বছরের শেষের আগেই রাশিয়াতে কর্মরত সমস্ত মোটর গাড়ী উত্পাদক সংস্থাকে বাধ্য করা হবে নতুন গাড়ীতে এই ব্যবস্থা যোগ করতে. তাছাড়া গ্লোনাসস ব্যবস্থায় সমস্ত পৃথিবী পৃষ্ঠের যন্ত্রপাতি শুধু রুশ উপগ্রহ থেকেই সঙ্কেত পায় না, এই বিষয়ে সের্গেই ইভানভ বলেছেন:

    "২০০৫ – ২০০৬ সালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, এই ধরনের যন্ত্রপাতি দিয়ে আমেরিকার জি পি এস ব্যবস্থার উপগ্রহ থেকেও সঙ্কেত ধরা যাবে, কারণ গ্রাহক যন্ত্রের সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, যদি তা শুধু এক ধরনের ব্যবস্থা থেকে না ধরে দুই ধরনের ব্যবস্থা থেকেই সঙ্কেত ধরতে পারে. আমাদের যন্ত্র নির্মাতারা এই রকমই যন্ত্র তৈরী করেছেন, যা পরবর্তী কালে ইউরোপের গ্যালিলিও দিক নির্দেশ ব্যবস্থা থেকেও সঙ্কেত ধরতে পারবে, যদিও এখনও তা তৈরী হয় নি".

    রাশিয়ার বর্তমানে উচিত হবে যাতে এই রকমের দুই ধরনের ব্যবস্থা সমেত নেভিগেটর যন্ত্র ও মোবাইল ফোন শুধু দেশে বিক্রী করার জন্য সুযোগ পায়, সের্গেই ইভানভ তাই যোগ করে বলেছেন:

    "আমরা সত্যই জি পি এস ব্যবস্থা সমেত যন্ত্রপাতির উপরে কর বসানোর কথা ভাবছি. আমরা আজ অবধি আমাদের দেশের বাজার এত উন্মুক্ত রেখেছিলাম বলে জি পি এস ব্যবস্থা আমাদের দেশের এতটা ভিতরে ঢুকতে পেরেছে. যদি এক বছর বাদে উত্পাদক দুই ধরনের ব্যবস্থা সমেত নতুন টেলিফোন আমাদের দেশে নিয়ে আসে, তবে আমরা আগের মতই কোন রকমের কর নেবো না. শুধু সে ক্ষেত্রেই কর নেওয়া হবে, যদি তারা আমাদের গ্লোনাসস ব্যবস্থা ছাড়া শুধু জি পি এস ব্যবস্থা সহ টেলিফোন বিক্রী করতে চায়. আমাদের অবস্থান খুবই সত্ ও বোধগম্য".

    সের্গেই ইভানভ দুটি সমস্যার কথা বলেছেন, যা গ্লোনাসস ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে জড়িত: দেশের অণু তড়িত্পদার্থবিদ্যার বিশ্বের থেকে পেছিয়ে থাকা, যা ছাড়া বাজারে প্রতিযোগিতার উপযুক্ত গ্রাহক যন্ত্র তৈরী করা সম্ভব নয়, আর তার সঙ্গে দেশের মানচিত্রের বিষয়ে গোপনীয়তা. দুই ধরনের ব্যবস্থা সমেত দিক নির্ণয় যন্ত্রের তুলনামূলক ভাবে দাম বেশী হওয়া – ১০ থেকে ১২ হাজার রুবল – কমে যাবে, যদি এই গুলি তৈরী করার কাজ এশিয়াতে নিয়ে যাওয়া হয়. কিন্তু সামরিক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গ্লোনাসস ব্যবস্থার উত্পাদন দেশের ভিতরেই করতে হবে, তা রাশিয়ার সামরিক কারখানা গুলিই করবে, কারণ বাইরের দেশে তা বানানো যাবে না. যদিও তৈরী করার জন্য প্রয়োজনীয় অংশ বাইরের দেশ থেকেও কিনে আনা সম্ভব, যেমন, পেন্টাগন করে থাকে. আর মানচিত্র সম্বন্ধে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এর মধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কয়েক মিটার পর্যন্ত সঠিক যাতে হয়, তার জন্য বাধা নিষেধ দূর করতে. প্রসঙ্গতঃ, এর ফলে রাশিয়ার জমির পরিমাপ করাও অতিরিক্ত ব্যুরোক্রাসী এ়ড়িয়ে করা সম্ভবপর হবে.

    গ্লোনাসস ব্যবস্থা সম্বন্ধে এর মধ্যেই বেশ কিছু দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে, যাদের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তিও স্বাক্ষর করা হয়েছে. রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রীর মতে এদের মধ্যে বিশেষ জায়গা নিয়েছে ভারত. তিনি বলেছেন:

    "ভারত আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছে গ্লোনাসস নিয়ে, তার মধ্যে তথাকথিত উঁচু ধরনের সঙ্কেত ব্যবস্থাও রয়েছে. তার ফলে খুবই নির্ভুল লক্ষ্যে রকেট ছোঁড়া সম্ভব. ইরাকে সামরিক অপারেশনের সময়ে দেখা গিয়েছে যে, এই ধরনের সঙ্কেত ব্যবস্থা যে দেশের সম্পত্তি তারা খুব সহজেই তা নিয়ে ঠকাতে পারে. আমরা ভারতকে আশ্বাস দিয়েছি যে, তাদের জন্য এই ধরনের সঙ্কেত নিয়ে আমরা কখনোই ঠকাবো না".

    গ্লোনাসস ব্যবস্থার সঙ্গে সমস্ত রাশিয়ার নির্ভুল লক্ষ্যে পাঠানোর উপযুক্ত অস্ত্র ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ জোড়া থাকবে. এই ব্যবস্থা শুধু আন্তর্মহাদেশীয় রকেটের জন্যই উপযুক্ত নয়, এমনকি কামানের গোলার গতিবিধিও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে.

    উপগ্রহ ব্যবস্থার সুবিধা বুঝে চীনও নিজেদের ব্যবস্থা তৈরী করছে. পরবর্তী কালে এই ধরনের ব্যবস্থা হবে আরও বেশী, তাই রাষ্ট্রসংঘের আওতায় বিশেষ পরিষদ গঠন করা হয়েছে অসামরিক ক্ষেত্রে সঙ্কেতের একটি সাধারন গুণ মান নির্ণয়ের জন্য.