সম্ভবতঃ ন্যাটো হয়ত প্রত্যাশা করছে যে, রাশিয়া আফগানিস্থানে তার সামরিক প্রশিক্ষক দের সেখানে পাঠাবে বা দরকারে বাহিনী পাঠাবে জোটের অপারেশনে সাহায্য করার জন্য, কিন্তু মস্কো এই পথে যাবে না. এই মন্তব্য করেছেন ন্যাটো জোটে রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি রগোজিন.

আফগানিস্থানে জোটের একটি অন্যতম সক্রিয় বাহিনী গ্রেট ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যমে খুবই জোরদার আলোচনা চলছে রাশিয়াকে ন্যাটো জোটের অপারেশনে টানার জন্য. এই উত্তেজনার কারণ হয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত যে, তিনি নভেম্বর মাসে লিসাবন শহরে ন্যাটো জোটের শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন. সেখানে দিমিত্রি মেদভেদেভ অংশতঃ রাশিয়া – ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেবেন. এখন পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যম ভাগ্য নির্ণয় করতে বসেছে যে, লিসাবন শহরে ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে মেদভেদেভ কে কি রকমের প্রস্তাব করা হবে এই জোটের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে.

বর্তমানের রাশিয়া, প্রথমতঃ আফগানিস্থানের বাহিনীকে মাদক পাচার নিরোধ সম্বন্ধে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে. দ্বিতীয়তঃ, ন্যাটো জোটের জন্য নিজের দেশের মধ্যে দিয়ে অসামরিক রসদ পাঠাতে দিয়েছে. তৃতীয় দিকটা গল – তথাকথিত হেলিকপ্টার প্যাকেজ. এই প্রশ্নটি ব্রিটেনের সংবাদপত্র The Independent লিখেছে যে, ন্যাটো জোটের মহাসচিব রাসমুসেনের মস্কো সফরের সময়ে আলোচিত হয়েছিল. শেষ অবধি মস্কো পাঁচটি হেলিকপ্টার মি – ১৭ পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনীকে দিয়েছে আফগানিস্থানে ব্যবহার করার জন্য. এ ছাড়া রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আনাতোলি সেরদ্যুকভ তাঁর আমেরিকার সহকর্মী রবার্ট গেইটসের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ে ঘোণা করেছেন যে, রাশিয়া তৈরী রয়েছে আফগানিস্থানের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হেলিকপ্টার বিক্রী করতে বা ভাড়াতে দিতে রাজী আছে. ন্যাটো সম্ভবতঃ প্রত্যাশা করছে যে, এই ধরনের জিনিস আরও দেওয়া হোক, আর তার সঙ্গে পাইলট প্রশিক্ষণও দেওয়া হোক.

হেলিকপ্টার প্যাকেজ আফগানিস্থানে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতির প্রয়োজন বোধ করে না. কিন্তু, ব্রিটেনের সংবাদ পত্র The Guardian যেমন লিখেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন আশা করেছে যে, আফগানিস্থানের সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনী আরও বেশী করে প্রশিক্ষক পেয়ে যাক. এটা আরও দরকার এই জন্য যে, আফগানিস্থানের সরকার দ্রুত নিজের দেশের উপর নিয়ন্ত্রণ জারী করতে পারে, যার জন্য বর্তমানে জোটের শক্তিকে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে.

এই ভাবে, পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমের প্রস্তাব অনুযায়ী ন্যাটো জোট চেয়েছে মস্কোর কাছ থেকে আরও বেশী করে প্রশিক্ষক – আর তা আফগানিস্থানেরই মাটিতে. আর যদিও এই বিষয়টা জটিল হয়, তবুও তা বাস্তবে করা সম্ভব, কিন্তু সব থেকে অসম্ভব দেখতে হল রাশিয়ার সৈন্য বাহিনীকে আফগানিস্থানে ডেকে পাঠানো. রাশিয়ার ন্যাটো জোটের স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি রগোজিনের কথামতো, রাশিয়া কোন রকমের "বলির পাঁঠা" আফগানিস্থানে পাঠাতে যাবে না. এই মন্তব্যকে সমর্থন করেন বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়া জার্নালের প্রধান সম্পাদক ফিওদর লুকিয়ানভ. তিনি বলেছেন:

"আফগানিস্থানে রাশিয়ার সৈন্য বাহিনী পাঠানো সম্ভব নয়. রাশিয়া সেখানে আগেই ছিল ও খুব ভাল করেই জানে এর শেষ কি হয়েছিল. আর অবশ্যই সেখানে যুদ্ধ করার জন্য আর কখনও যেতে চাইবে না. রাশিয়ার পক্ষ থেকে অংশ নেওয়া সম্ভব শুধু সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে. যেমন, হেলিকপ্টার পাঠানো, আফগানিস্থানের পাইলটদের শিক্ষা দেওয়া, যান্ত্রিক মেরামত কাজে সাহায্য করা. কিন্তু যুদ্ধে যোগ দেওয়া – নয়".

অর্থাত্ রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে আফগানিস্থান পাঠানো হবে কিনা এই সব জল্পনা কল্পনা সংবাদ মাধ্যমের জন্য পছন্দের হলেও রাজনীতিবিদদের জন্য একেবারেই নয়. দিমিত্রি রগোজিন বলেছেন – "আমরা আফগানিস্থানে ছিলাম, আর আমাদের তা একেবারে পছন্দ হয় নি". অন্য বিষয়টি এই একই ধরনের হলেও কোন রকমের বাস্তব কুফল ছাড়া করা যেতে পারে – তা হল, রাশিয়া নিজেদের দেশের মধ্য দিয়ে ন্যাটো জোটের জন্য সামরিক রসদ, যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জাম এবং জোটের সেনা বাহিনী নিয়ে যেতে দেবে, এটা ন্যাটো জোটের জন্য খুবই লাভজনক হত, কারণ তালিবেরা বর্তমানে পাকিস্থানের পথে খুবই সক্রিয় ভাবে উত্পাত করছে, কিন্তু মস্কো এই বিষয়ে কখনই মত দেবে না.