আজ ভিয়েনা শহরে শুরু হতে চলেছে রাষ্ট্রসংঘের আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ কমিটির ৯৯ তম অধিবেশন. আলোচনার একটি অন্যতম বিষয় হতে চলেছে রাষ্ট্রসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নতুন পরিকল্পনার খসড়ার আফগানিস্থান সম্বন্ধে প্রশ্ন গুলি.

আন্তর্জাতিক মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কমিটি সাধারণতঃ বছরে দুবার সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে. আগামী দুসপ্তাহে সারা বিশ্বের বিশেষজ্ঞ এবং কূটনীতিবিদেরা আন্তর্জাতিক মাদক সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে সংগ্রামে সাফল্য এবং বিফলতার কথা. বর্তমানের সমাজে মাদক যে কালব্যাধি তা আজ আর গোপন কথা নয়. এই দ্রব্যের উত্পাদকের নেতৃত্ব আজ আফগানিস্থান দিয়ে চলেছে. শুধুমাত্র ২০০০ সালের শুরু থেকেই সেখানে মাদকের উত্পাদন বেড়েছে চল্লিশ গুণ. তৈরী মাল সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড়ছে. কোসভা কে স্বাধীন ঘোষণা করার পর থেকেই ইউরোপে আরও একটি আফগান “অসুখ” ছড়িয়ে দেওয়ার গুদাম হয়েছে, যা পরে মাদক পাচার চক্রের চাঁইরা পাঠাচ্ছে বিক্রী করার জন্য.

   রাষ্ট্রসংঘের মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির ডিরেক্টর ইউরি ফিদোতভের মতে, বর্তমানে মাদক ও আন্তর্জাতিক অপরাধের মোকাবিলা করার জন্য রাষ্ট্রসংঘের গড় বাজেটের মাত্র এক শতাংশ খরচ করা হচ্ছে. এই সমস্যার বিস্তার বিচার করে দেখলে এটা থুবই কম অর্থ, আর এই সমস্যার সঙ্গে একা কেউ পেরে উঠছে না. সেই জন্যই উচিত্ হবে শুধু মাদক বিরোধী পরিকল্পনার খাতে খরচ বাড়ানোই নয়, বরং প্রয়োজন আফগানিস্থানের মাদক ও অপরাধের সঙ্গে লড়াই করার উপযুক্ত নতুন স্ট্র্যাটেজি নেওয়ার. ২০১১ সালে রাষ্ট্রসংঘের মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কমিটি সেই দলিল তৈরীর কাজ শুরু করবে. আর আপাততঃ এই বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের সমস্ত সদস্য দেশের মতামত শুনতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইউরি ফিদোতভ মনে করে বলেছেন:

   “আগামী স্ট্র্যাটেজির বিষযে আমরা বর্তমানে তার সূচক গুলি নিয়ে কাজ করছি, কিন্তু এখনই বলা যেতে পারে যে, এই স্ট্র্যাটেজির চরিত্র সব কিছুকে জড়িযে হওয়া উচিত্. আর তা যেমন আফিম চাষের বীজ বপনের বিরুদ্ধে হওয়া উচিত্, তেমনই আফগানিস্থানের চাষীরা যাতে অন্য ধরনের ফসল বুনতে পারে তার জন্যও দেখা দরকার, দেশের সরকারও যাতে সেই বিষয়ে সাহায্য করে. যাতে এই সব কিছুই আফগানিস্থানে হেরোইন উত্পাদনের জন্য পাঠানো অন্যান্য দ্রব্যের পথও নিয়ন্ত্রিত করতে সাহায্য করে. সীমান্ত অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি এবং মাদকের ব্যবহার কমানোর জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার. যখন আমরা এই রকমের সব দিক ভেবে কোন দলিল গ্রহণ করতে পারব, যেখানে সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয় গুলি থাকবে যা উত্পাদক থেকে ব্যবহারকারী পর্যন্ত পুরো পথ শুধু আঞ্চলিক ভাবেই নয়, এমনকি বিশ্ব ব্যাপী নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, তখনই শুধু কিছু একটা ফল পাওয়ার আশা করা যেতে পারে”.

   রাশিয়া আজ বেআইনি মাদক সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে সংগ্রামের একটি নেতৃ স্থানীয় ভূমিকাতে রয়েছে. তার অভিজ্ঞতা মূল্যায়ণ আজই সম্ভব নয় এবং রাষ্ট্রসংঘের নতুন দলিল তৈরী করার সময়ে তা কাজে লাগানো প্রয়োজন. যদিও বর্তমান পৃথিবীতে মানসিক প্রভাব বিস্তার কারী দ্রব্যের উত্পাদন ও প্রসারের নিয়ন্ত্রণের জন্য সমগ্র বিশ্ববাসীর গভীর মনোযোগ এবং সম্মিলিত কাজকর্মের প্রয়োজন রয়েছে. তার সঙ্গে এগিয়ে আশা দরকার আলাদা করে সমস্ত দেশ গুলির এবং সেই সমস্ত সংস্থার যেমন, যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা.