মস্কো থেকে বলছি, রেডিও রাশিয়ার বেতার তরঙ্গে. রাষ্ট্রসংঘের মাদক সংক্রান্ত অপরাধ বিষয়ে প্রশাসন আফগানিস্থানের মাদক উত্পাদন শিল্পের বিরুদ্ধে নতুন করে সংগ্রামের পরিকল্পনা করতে শুরু করেছে. এই প্রশাসনের নতুন প্রধানের কথামতো, এই স্ট্র্যাটেজি যেমন আফিম চাষ উত্খাত করার জন্য লক্ষ্য করা হবে, তেমনই চাষীদের সাহায্য করার জন্যও করা হবে, যাতে তাঁরা অন্যান্য ধরনের ফসলের চাষ শুরু করতে পারেন. একই সঙ্গে ঠিক করা হয়েছে হেরোইন উত্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্য সরবরাহ বন্ধ করার জন্য বিশেষ ভাবে চেষ্টা করা হবে. এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকরী হবে ও রাশিয়া এবং আফগানিস্থানের বিশেষজ্ঞরা এই স্ট্র্যাটেজি থেকে কি দেখতে চেয়েছেন. এই প্রশ্ন আমরা রাশিয়া ও আফগানিস্থানের লোকসভা সদস্যদের কাছে নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম, যাঁরা তাঁদের নিজেদের দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের বিভাগের সদস্য, আফগানিস্থানের সঈদ গিলানি এবং রাশিয়ার সিমিওন বাগদাসারভের কাছে. রাশিয়ার লোকসভার সদস্যের মতে রাশিয়ার প্রাথমিক ভাবে উচিত্ মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা. তার জন্য তাঁর কথামতো, খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে, তিনি বলেছেন:

     "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও আফিম চাষের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকার করছে, কারণ তারা মনে করা যে, তাহলে চাষীরা তালিবদের পক্ষে চলে যাবে. এটা ওবামার পরিকল্পনার একটি অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য হল, যে চাষীরা যা খুশি চাষ করুক, শুধু তাদের পক্ষে থাকলেই হবে, অর্থাত্ আমেরিকা ও ন্যাটোর পক্ষে. আর মাদক থেকে যে বহু সহস্র লোক প্রাণ হারাচ্ছে, এটা তাদের কাছে কিছু নয়. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু মাদক ল্যাবরেটরী ধ্বংস করতে চায়. এটা অবশ্যই কিছু না করার থেকে ভাল. কিন্তু রাশিয়ার জন্য এটা অবশ্যই যথেষ্ট নয়".

    তাই রাশিয়া আজ সেই দিকে সক্রিয় হতে বাধ্য, যে দিকে সে আমেরিকার লোকেদের সাহায্য ছাড়াই আফগানিস্থানের মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভাবে সংগ্রাম করতে পারে. বাগদাসারভের মতে সেই রকম দিক হল মাদক পাচার. বর্তমানে রাশিয়া আফগানিস্থানের সঙ্গে কোন সংলগ্ন সীমান্ত নেই. সেই দেশের প্রতিবেশী রয়েছে রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলি – যেমন, তাজিকিস্থান, উজবেকিস্থান, তুর্কমেনিয়া, তাদের মধ্য দিয়েই চোরাচালান হচ্ছে. কিন্তু রাশিয়ার সাত হাজার সৈন্যদল রয়েছে তাজিকিস্থানে, যাদের তাজিকিস্থানের বাদাখশানে কাজে লাগানো যেতে পারে. আফগানিস্থানের বাদাখশানে রয়েছে প্রচুর মাদক তৈরীর ল্যাবরেটরী, আর এই এলাকাটাই হচ্ছে মূল পাচারের অঞ্চল. সেখানেই জার্মানীর ISAF বাহিনী মজুদ রয়েছে. তাহলে এক্ষেত্রে ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার পক্ষে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না কেন, যাতে বাদাখশানে তাজিক আফগান সীমান্ত পেরিয়ে মাদক ঢুকতে না পারে? কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে রয়েছে, আফগানিস্থানের পক্ষও চুপ. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারের চাঁই দেরও স্পর্শ করছে না, যদিও তাদেরই কথামতো আফগানিস্থানের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেও সেই সমস্ত লোকেরা কম নেই. তাই রাষ্ট্রসংঘের নতুন স্ট্র্যাটেজিতে এই বিষয়টি খেয়াল করলে খারাপ হবে না.

    সঈদ গিলানি, তাঁর দিক থেকে, মনে করেছেন যে, এই সম মাদক পাচারের চাঁই দের থেকেই সব শুরু করা উচিত্. কিন্তু অন্য বিষয়ও রয়েছে, যার সম্বন্ধে প্রশাসনের নতুন প্রধান লক্ষ্য করতে পারলে ভালই হয়. তিনি বলেছেন:

    "প্রশাসনের নতুন প্রধানের উচিত্ আফগানিস্থানে আসা ও আমাদের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তাদের বিষয়ে আলোচনা করা: যারা আফিম বপন করে ও যারা তার চাষ রক্ষা করে আর যারা হেরোইন তৈরীর জন্য বাকী জিনিস সরবরাহ করে থাকে তাদের কথা. কোথা থেকে এই জিনিস পাঠানো হয়, এই রকম পথ হল তিনটে: খুব ভাল গুণ সম্পন্ন মাল পাঠানো হয় ইউরোপ থেকে, কিছু কম গুণের মাল আসে এশিয়া ও আরব দেশ থেকে. তাই শুরু করা উচিত্ ইউরোপ থেকেই. আফগানিস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় কি? আফগানিস্থানে আগেও মাদকের চাষ হয়েছে. এই শিল্প আমাদের জন্য নতুন নয়. কিন্তু আগে তার সবটাই কিনে নিয়ে যেত ওষুধ তৈরী করার জন্য ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানী গুলি. আগের মতই এখনও কেন আফগানিস্থানের চাষীদের জন্য বরাতের বন্দোবস্ত করা যাবে না? তাদের জন্যও একটা লাভজনক ব্যাপার আর আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানী গুলির জন্যও ভাল. জাফরানের চাষ সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে তা হল, জাফরান যথেষ্ট দামী ফসল, তা দিয়েও আফিমের চাষের বদল করা যেতে পারে, তাহলেও চাষীদের লাভ হবে. কিন্তু তা করতে হলে প্রযুক্তি তৈরী করতে হবে এবং বেচার জন্য বাজার চাই, বর্তমানে ইরানের জাফরান বলে আফগানিস্থানের জাফরান বেচা হচ্ছে. ইরান এই সব বাজার দখল করেছে, কিন্তু বিক্রী করছে আফগানিস্থানের জাফরান. তারা লাভ করছে আর আফগানিস্থানের চাষী পাচ্ছে খুবই কম. আর শেষ করতে গিয়ে বলি যে, মূল কথা হল, আমাদের মাদক পাচার চক্রের চাঁই দের সমস্যার সমাধান করতে হবে. ততদিন পর্যন্ত সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে না, যতদিন না এদের সমস্যার সমাধান হবে".

    আপনারা এই প্রতিবেদনে আফগানিস্থানের মাদক সম্বন্ধে রাষ্ট্রসংঘের নতুন স্ট্র্যাটেজি বিষয়ে রাশিয়া ও আফগানিস্থানের লোকসভার সদস্যদের মতামত শুনলেন...