বিশ্বব্যাপী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশে বিদ্যুত্শক্তি ও জ্বালানী ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসার- আন্তর্জাতিক শক্তি সপ্তাহে প্রধান আলোচ্য বিষয়, যা মস্কোয় শুরু হয়েছে ২৫শে অক্টোবর. এর অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আছেন- আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি এজেন্সির ডিরেক্টর জেনারেল ইউকিয়া আমানো, যিনি এ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরে প্রথম রাশিয়া সফর করছেন, এবং তাছাড়া আন্তর্জাতিক বিদ্যুত্শক্তি ও জ্বালানী এজেন্সির ম্যানেজিং ডিরেক্টর নোবুও তানাকা.

   সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা মস্কোয় সমবেত হয়েছেন, যাতে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির সঙ্কটের পরে সুস্থ হয়ে ওঠার পরিবেশে বিশ্ব জ্বালানী ও বিদ্যুত্শক্তির বাজারে সকলের স্থিতি সর্বসম্মত করা যায়. বিগত দু বছরে পৃথিবীতে তেল ও গ্যাসের চাহিদা তীব্রভাবে কমেছে. সেই অনুযায়ী জ্বালানীর মূল্যও কমেছে এবং নতুন নতুন প্রকল্পে অর্থ নিয়োগে উত্পাদকদের সুযোগ-সম্ভাবনাও কমেছে. তা নিকট ভবিষ্যতে জ্বালানী সম্পদের ঘাটতি নিয়ে আসতে পারে. তাই আশা করা হচ্ছে যে, এই মস্কো সম্মেলনে উত্পাদকদের সম্ভাব্য সুযোগ-সম্ভাবনা সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট সঙ্কেত দেওয়া হবে.

জাতীয় শক্তি-নিরাপত্তা তহবিলের বিশ্লেষণ বিভাগের নেতা আলেক্সান্দর পাসেছনিক মনে করেনঃ

   ইউরোপে সঙ্কট এবং সঙ্কট পরবর্তী ঘটনা, কিছু কিছু দেশের বিপুল রাষ্ট্রীয় দেনা গ্যাসের প্রতি তথাকথিত বিলম্বিত চাহিদা ঘটিয়েছে. এও স্পষ্ট যে, আগে হোক পরে হোক, প্রধান প্রধান অর্থনীতির দেশগুলি জ্বালানী চাহিদার উচ্চ মানে পৌঁছোবে, যেমন ছিল সঙ্কটের আগে. রাশিয়ার “গাজপ্রোম” কনসার্ন যথেষ্ট আশাবাদ ভরে এর প্রতি লক্ষ্য রাখছে এবং ২০১৩ সালেই নিষ্কাশনের সঙ্কটপূর্ব মানে পৌঁছোনোর পরিকল্পনা করছে.

   আন্তর্জাতিক জ্বালানী ও বিদ্যুত্শক্তি সপ্তাহে নির্মীয়মাণ এবং পরিকল্পিত তেল ও গ্যাসের পাইপলাইনের উপস্থাপনা হবে. এর মধ্যে আছে- ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের “উত্তরী প্রবাহ” এবং “দক্ষিণী প্রবাহ” নামে আন্তর্জাতিক প্রকল্প. তাছাড়া আছে পূর্ব সাইবেরিয়া- প্রশান্ত মহাসাগর তেলের পাইপলাইন, যার মারফত রাশিয়ার তেল ইতিমধ্যে পৌঁছোনো হচ্ছে চীনের সীমানা পর্যন্ত, আর রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে তা ট্যাঙ্কারে ভরে পাঠানো হচ্ছে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ১০টি দেশে. একই সঙ্গে সাখালিন থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারে ভরে পাঠানো হচ্ছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একসারি দেশে. বাস্তবিকপক্ষে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে গড়ে উঠছে নতুন আঞ্চলিক জ্বালানী কেন্দ্র. তা ছোট-বড় এশীয় দেশগুলির জন্য জ্বালানী ক্ষেত্রে এক ধরণের নিরাপত্তার বনিয়াদ, যারা বিশ্ব আর্থিক-অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে প্রথম বের হচ্ছে. এ উপলক্ষে উল্লেখযোগ্য হল এই যে, মস্কোয় এই পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিদ্যুত্শক্তি ও জ্বালানী সপ্তাহে এই প্রথম “ব্রিক” দেশগুলির (ব্রেজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন) জ্বালানী সংক্রান্ত মন্ত্রীদের সম্মেলন হবে. এই “ব্রিক” দেশগুলির শরিকরা নিজেদের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির চাহিদার জন্য জ্বালানী সুনিশ্চিতি বিষয়ে পরামর্শ করছে. এ সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায় না যে, মস্কোয় পরামর্শের পর “ব্রিক” দেশগুলি বিশ্ব জ্বালানী বাজারে সাধারণ স্থিতির প্রণয়ন শুরু করবে.