জাতিসংঘের ৬৫ বছর পূর্ণ হয়েছে.১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘের প্রস্তবনা গৃহিত হয়.মোট ৫১টি রাষ্ট্র নিয়ে জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়.গত কয়েক বছরে সবথেকে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা হচ্ছে ১৯২টি.জাতিসংঘের প্রস্তাবনা ও কার্যক্রম যা ২য় বিশ্ব যুদ্ধ সময়কালিন হিটলার বিরোধী যৌথ কোয়ালিশন রাষ্ট্রসমূহের অংশগ্রহনে শুরু হয়.১৯৪২ সালে তখন এর নাম ছিল জাতিতে মিলন.ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে বিজয়ের পরই সংস্থাটি পুরোপুরি মর্যাদা পায় এবং ১৯৭১ সাল থেকে জাতিসংঘ দিবসকে রাষ্ট্রীয় উদ্দোগে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়.জাতিসংঘ নিজস্ব কর্মসূচির অংশ হিসাবে ঘোষণাপত্রে জানায় যে, সংস্থাটি বিশ্বে নিরাপত্তা,রাষ্ট্রসমূহের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং বিশ্বে মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অধিকার রক্ষায় কাজ করবে.তবে এই কথাটি বলা যাচ্ছে না যে,দীর্ঘ এই ৬৫ বছরে সংস্থাটি সর্বদাই নিজের ঘোষণাপত্র অনুসরন করেছে.অনেকবারই জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিশ্বের পরাশক্তির দেশের কথা অনুসারে কাজ করেছে.সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ন্যাটো জোটের যুগ্লোসোভিয়ার বা ইরাকী যুদ্ধ.এছাড়া বিভিন্ন বিষয় নিয়েই প্রায়ই সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়,যেমন-অকার্যকারিতা,পরাধীনতা,উন্নয়নশীল দেশসমূহের সমস্যার প্রতি গুরুত্ব কম দেওয়া ইত্যাদি.বর্তমানে সংস্থাটির অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রসমূহ জাতিসংঘের সংশোধনী অত্যাবশ্যকীয় বলে স্বীকার করছে.কথায় আছে,যে ব্যক্তি কোন কিছুই করে না,সে ব্যক্তি কখনই ভুল করে না.বর্তমানে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচরন করছে.জাতিসংঘ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসমস্যার সমাধান থেকে শুরু করে জঙ্গিবাদদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও মাদকদ্রব্য চোরাচালান বন্ধে কাজ করছে.সংস্থাটির বর্তমান কার্যক্রমের মধ্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মাদক ব্যাবসা ও অপরাধের বিরুদ্ধে সংগ্রাম.রাশিয়ার এই ক্ষেত্রে রয়েছে সংক্রিয় অংশগ্রহন.রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এমনই জানালেন জাতিসংঘের  মাদক নিয়ন্ত্রন ও অপরাধ বিভাগের পরিচালক ইউরি ফেদোতব.বেআইনিভাবে মাদক ব্যাবসার ক্ষেত্রে রাশিয়া বেশ প্রথমসারিতে অবস্থান করছে.রাশিয়ার সরকারি নেতারা প্রায়ই অপরাধ,দূর্নীতি ও ঘুষ নেওয়ার মত বিষয়ে  নিয়মিত ভুগছে.আন্তর্জাতিক উদ্দোগে এই ক্ষেত্রে আরও কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করবে রাশিয়া.সত্যিকার অর্থেই মস্কো এই প্রশ্নসমূহের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অব্যহত রাখবে.আমি আশা করছি,অন্যান্য দেশসমূহ রাশিয়াকে অনুসরন করবে এবং ফলাফলে বিশ্ব সমাজ বিজয় অর্জন করবে.চলতি বছরে জাতিসংঘ দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে সহস্রাব্দ উন্নয়ন.২০০০ সালে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ সম্মেলনে সদস্যরাষ্ট্রসমূহের উপস্থিতিতে তা নির্ধারন করা হয়.যদি প্রস্তাবিত সব কর্মসূচি পূরন কর হয় তবে আগামী ২০১৫ সাল নাগাদ বিশ্বে অর্ধ বিলিয়ন জনগোষ্ঠী দারিদ্রসীমার উপরে বসবাস করবে এবং ৩০ বিলিয়ন শিশু ও ২ মিলিয়ন মার জীবন বেঁচে যাবে যারা কোন আন্তর্জাতিক সমাজের সাহায্য ছাড়াই নিহত হয়.জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে শুধুমাত্র সংস্থাটির কার্যক্রম দ্রুত সম্পাদনের আশাই করা যাচ্ছে.