রাষ্ট্রসঙ্ঘের ইতিহাসে এই প্রথম ২০১০ সালে পৃথিবীর জাতিসমূহ নামে রিপোর্ট উত্সর্গীত হয়েছে আভ্যন্তরীন সঙ্ঘর্ষ ও গৃহযুদ্ধের অতি পীড়াদায়ক এবং আগে সর্বসমক্ষে অনালোচিত বিষয়ের প্রতি- লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের প্রতি.

    জাতিসমূহ সংক্রান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের নতুন রিপোর্টের পার্থক্য রয়েছে আগেকার বছরগুলির অনুরূপ দলিলের তুলনায়, এমনকি তার রূপেও. এতে নেই গতানুগতিক পরিসংখ্যান তথ্য, আর সঙ্ঘর্ষ ও সঙ্কটে লিঙ্গভিত্তিক উপাদানটি লক্ষ্য করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট লোকেদের ভাগ্যের মাধ্যমে, যারা নিজেরাই নিজেদের দুঃখকষ্টের কথা বর্ণনা করেছে. মস্কোয় রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেক্সান্দর গোরেলিক "রেডিও রাশিয়াকে" প্রদত্ত ইন্টারভিউতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নতুন রিপোর্ট নির্যাতনের বিষয়ের প্রতি উত্সর্গীত কেন সে সম্পর্কে বলেনঃ

   সর্বপ্রথমে তা দেখা দিয়েছে নতুন , অতি দুঃখজনক ঘটনার অভিব্যক্তি হিসেবে, যখন গৃহযুদ্ধ ও আভ্যন্তরীন সঙ্ঘর্ষের পরিবেশে, যা আগের মতোই পৃথিবীতে কম নেই, নারীদের প্রতি নির্যাতন এবং – সর্বসমক্ষে আলোচনার নতুন দিক- পুরুষদের প্রতি নির্যাতন একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান হয়ে উঠেছে. রিপোর্টের গোড়ায় বলা হয়েছে যে, আজকের জগতে দেশে দেশে পরম্পরাগত, অভ্যস্ত যুদ্ধ, যাতে সামরিক ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণ করে দুই বা তার বেশি পক্ষের নিয়মিত সৈন্যবাহিনী, প্রায় নেই বলা যায়. আর এও পরিলক্ষিত হয়েছে যে, এতে বেসামরিক অধিবাসীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ব্যবহৃত হচ্ছে সামরিক ক্রিয়াকলাপের আপতিক, আনুষঙ্গিক উপাদান হিসেবে নয়, বরং রণনৈতিক নির্বাচন হিসেবে. বেসামরিক অধিবাসীদের ভয় দেখানো দরকার, তাদের মনোবল দাবিয়ে রাখা দরকার, এমন করা উচিত, যাতে লক্ষ্য, সর্বপ্রথমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য, অর্জিত হয় বেসামরিক অধিবাসসীদের উপর একনিষ্ঠভাবে ধ্বংসাত্মক প্রভাব বিস্তার করে.

    রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান জগতে বহু সঙ্ঘর্ষে নির্যাতন বা তার ভীতির ফলে নারীরা তাদের অধিকার এবং সুযোগ-সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হয়. মেয়েদের অপহরণ করা হয়, তারা মানুষ বিক্রির শিকার হয়, বহু পরিবার ভেঙে পড়ে. তারপর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে এমন বিষয়ের কথা, আগে যার উল্লেখও করা হত না,- কিশোর ও পুরুষদের প্রতি নির্যাতন.

    রিপোর্টে উথ্থাপিত লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের বিষয়টি সমর্থিত হয়েছে কঙ্গোয় সাম্প্রতিক ভয়ঙ্কর অপরাধে, য়েখানে বহু বছর ধরে চলছে ধ্বংসাত্মক আভ্যন্তরীন সঙ্ঘর্ষ. সেখানে বিদ্রোহীরা কয়েকটি গ্রামে ঢুকে ব্যাপক নির্যাতন চালায় মেয়েদের প্রতি, পুরুষদের প্রতি, কিশোরদের প্রতি, কাউকে বাদ না দিয়ে- এমনকি বৃদ্ধ এবং ছোট শিশুদেরও বাদ না দিয়ে. কঙ্গোতে এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের বাহিনী কঙ্গোর সৈন্যবাহিনীকে এ কুকান্ডের অপরাধীদের ধরতে সাহায্য করছে. কিন্তু মোটামুটিভাবে, কঙ্গোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তোলা সম্ভব হচ্ছে না.

   আলেক্সান্দর গোরেলিক রাষ্ট্রসঙ্ঘের নতুন রিপোর্টের গুরুত্ব সম্বন্ধে জোর দিয়ে বলেনঃ

  এ রিপোর্টটি লেখা হয়েছে বিপুল সমবেদনা ও সহানুভুতির সাথে, এবং এর লক্ষ্য ছিল এই গুরুতর সমস্যার প্রতি বিশ্ব জনসমাজের মনোযোগ আকর্ষণ করা, যা অনেকের জন্য এখনও অজানা এবং অনুপলব্ধ. আমি আশা করি যে, এ দলিল তার ভূমিকা পালন করবে, যাতে রাশিয়ায় এবং অন্যান্য দেশে লোকে এ কষ্টদায়ক ও বিপজ্জনক প্রবণতা বুঝতে সক্ষম হয়.

     এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারা গৃহীত ১৩২৫ নম্বর সিদ্ধান্তের দশম বার্ষিকীর সময়, যে সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রথম মত প্রকাশ করেছিল সশস্ত্র সঙ্ঘর্ষের গতিতে নারীদের প্রতি যেন কঠোর ব্যবস্থা গৃহীত না হয়, উল্লেখ করেছিল শান্তি স্থাপনের কাজে নারীদের যথেষ্ট অংশগ্রহণ না থাকার কথা.