রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেব বৃহস্পতিবার ২ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তুর্কমেনিস্তান যাচ্ছেন.মেদভেদেব তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্ট গুবানগুলী বেরদিমুহাম্মেদারের সাথে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলী নিয়ে আলোচনা করবেন.তবে সবার আগে যে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তা হল,রাশিয়া-তুর্কমেনিস্তান জ্বালানি খাত.

২০০৯ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত রাশিয়া তুর্কমেনিস্তানের কাছ থেকে প্রতিবছরে ৭০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস আমদানি করত.বর্তমানে এ আমদানির পরিমান হচ্ছে ৩০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার৷.গ্যাস আমদানির পরিমান  হ্রাসের অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও গ্যাস বিষয়ে ইউরোপীয় দেশসমূহের সাথে মতানৈক্যের সৃষ্টি.তবে এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে.চাহিদার পরিমান ধীরে ধীরে মন্দাকালিন সময় থেকে মুক্ত হচ্ছে এবং তা বাড়তে থাকবে বলেই ধারনা করা হচ্ছে.রাশিয়া এখন বেশ কার্যকরভাবেই সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছে.যেমন উত্তর প্রবাহদক্ষিন প্রবাহ.আমাদের দেশ নিজেদের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট,ঠিক তুর্কমেনিস্তানের ক্ষেত্রেও তা অনুরুপ.গাসপ্রোম তুর্কমেনিস্তানের গ্যাসের সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে থাকে.এছাড়া রাশিয়া সর্বদাই গ্যাস সংযোগ স্থাপনের জন্য নির্ভরযোগ্য দেশ.সত্যিকার অর্থেই সর্বশেষ সময় আশখাবাদ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন প্রকল্পে  অংশগ্রহনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে.যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে তা হল আফগানিস্তানকে ট্রানজিট করে তুর্কমেনিস্তান,আফগানিস্তান,পাকিস্তান ও ভারতের অংশগ্রহনে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ.এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে.যার কারণ হিসাবে বলা যায়,আফগানিস্তানে অস্থিতিশীল পরিস্থিত,ও ভারত ও পাকিস্তান মধ্যে সংকটজনক সম্পর্ক.আশখাবাদ নাবুক্কা প্রকল্পে অংশগ্রহের যথাসম্ভব আগ্রহী মনোভাব ব্যক্ত করেছে এবং রাশিয়ার সাথে জ্বালানি বিষয়ে সম্পর্ক উন্নয়নে নিজেদের পক্ষ থেকে বেশ তত্পরতার সাথে কাজ করছে.এ প্রকল্পের জন্য ট্রান্স-কাসপিস গ্যাস পাইপলাইন অবশ্যই নির্মাণ করতে হবে.যার একটি অংশ কাসপিয়ান সাগরের তলাদেশ দিয়া অগ্রসর হবে.বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,নাবুক্কা প্রকল্পে আশখাবাদের অংশগ্রহন অনেকটা রাজনৈতিক ঘোষণার মধ্যেদিয়ে প্রকাশ হতে পারে.অবশেষে জ্বালানী বাজারে প্রতিদ্বন্ধিতা দেখা যাচ্ছে এবং তুর্কমেনিস্তানের গ্যাসের দাম তাদের চাহিদার তুলনায় হ্রাস পাচ্ছে.রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া বিবৃতিতে এমনই জানালেন মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গ্রোজিন.সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে চলমান দ্বন্ধের অবসান হচ্ছে এবং যে দেড় বছর সময় অবশিষ্ট রয়েছে এর মাঝেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে,কোন প্রক্লপে অংশগ্রহন করবে .বিষয়টি পরিষ্কার যে,রাশিয়া যে ক্ষেত্রে আগ্রহী তা হল,মধ্য এশিয়ার ও রাশিয়ার গ্যাস নিয়ে ইউরোপীয় বাজারে প্রতিদ্বন্ধিতা না করা বরং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিষয়ে মিলিতভাবে কাজ করা.এটিই হচ্ছে রাশিয়ার প্রক্লপ.বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, রাশিয়া ও  তুর্কমেনিস্তান একে অপরের প্রতিপক্ষ হবে না.দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন বৃদ্ধিই হচ্ছে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বের জ্বালানি বাজারে একসাথে কাজ করার বিষয়ে কঠোর কর্মসূচী গ্রহন করা.