রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেব দেআওবিলেফ্রান্স ও জার্মানির সহকর্মীদের সাথে স্বাক্ষাতের সময় লিসবনে রাশিয়া-ন্যাটো সম্মেলনে রাশিয়ার অংশগ্রহনের সংবাদ যা বিশ্বের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ও গনমাধ্যমের সংবাদ পাঠক-পাঠিকাদের কাছে প্রধান শিরোনামে স্থান পেয়েছে.২০০৮ সালে জর্জিয়ার সাথে যুদ্ধের পরই রাশিয়া-ন্যাটোর মধ্যে এটিই হবে প্রথম পূর্ণমাত্রার কোন সম্মেলন.

উল্লেখ করা যাচ্ছে যে,লিসবনের সম্মেলনে রাশিয়ার অংশগ্রহনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল.ন্যাটোর সেক্রেটারী আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে আগামী ২০ নভেম্বর লিসবনে রাশিয়া-ন্যাটোর শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হওয়ার প্রস্তব জানায়.রাসমুসেনের এই প্রস্তাবকে ২৮টি দেশই সমর্থন জানায় শুধুমাত্র বাকি ছিল দিমিত্রি মেদভেদেবের সম্মতি.কিন্তু ফ্রান্সের দেআওবিলে  রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট তার সহকর্মী নিকোলাস সারকাজি ও অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের  সাথে আলোচনার পরই মেদভেদেব বিবৃতিতে জানান যে,রাশিয়া এই সম্মেলনে অংশ নিবে.তার ভাষায়,ঐ সাক্ষাত হয়ত রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের সাথে দ্বিপাক্ষিক সংলাপ উন্নয়নে সহায়তা করবে.

এই সংবাদ প্রকাশের পরই ন্যাটোর সেক্রেটারী আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন ইতিবাচক মতামত জানিয়েছন.তিনি একই সাথে মনে করেন যে,আসন্ন এই সম্মেলনের ফলাফল হবে ইতিবাচক,বিশেষত রাশিয়া ও ন্যাটোর সদস্যসমূহের সাথে বাস্তবিক সম্পর্ক বিষয়টি.জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল রাশিয়ার নেতার এই সিদ্ধান্তকে ভাল সংবাদ হিসাবে আখ্যায়িত করেন.

ন্যাটোর লিসবনের সম্মেলনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পাবে যার প্রতিটি বিষয়ই রাশিয়ার সাথে সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা রয়েছে.সংলাপ মূলত অনুষ্ঠিত হবে ন্যাটোর নতুন কৌশলগত প্রস্তাবনা গৃহিত করা,ন্যাটোর রকেট প্রতিরক্ষা তৈরী ও আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার.এমনই মতামত জানালেন ন্যাটোতে নিযুক্ত রাশিয়া স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি রাগোজিন.তিনি বলেন,আমাদের দৃষ্টিতে ভবিষ্যতের ইউরোপীয় রুপরেখা কেমন হবে সেই প্রেক্ষাপট নিয়ে রাশিয়ার ধারনা ও প্রস্তাবনা কর্যকারিতা নিয়ে চাপ প্রদান করা হবে এবং যেহেতু রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের জন্য, যে প্রথমবারের মত এ ধরনের একটি সম্মলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন তাই এটি হবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংলাপের মঞ্চ.আন্তর্জাতিক কোন বিষয়বলী নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহনই নয় যেমন যা হয়ে থাকে জি-২০,জি-৮ এবং জাতিসংঘে.আমি যা মনে করছি তা হল,এই সুযোগ আমাদের এবং পশ্চিমাদের,কোন আমলাদের নয়.যেখানে সবকিছু নিয়ে শুধু টানা-হেঁচড়া করা হয়.রাজনৈতিক উপায়ে রাশিয়া ও ইউরোপের একই আঙ্খাকার বিষয়সমূহ খুঁজে বের করা সম্ভব এবং নতুন নানাবিধ হুমকির বিরুদ্ধে কিছু একটা করার চেষ্টা করা.রাশিয়ার অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে,লিসবনের সম্মেলনে রাশিয়ার অংশ গ্রহনের সিদ্ধান্তকে সঠিক পদক্ষেপ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে.রেডিও রাশিয়াকে এমন কথাই জানালেন রাজনৈতিক গবেষনা কেন্দ্রের অর্থনৈতিক ইন্সটিটিউটের কর্মকর্তা বরিচ শেমেলেভ.তিনি বলেন,রাশিয়ার সাথে ইউরোপ ও ন্যাটোর বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকরি সম্পর্ক বৃদ্ধিতে বর্তমানে নতুন পথ তৈরী হয়েছে.উভয় ক্ষেত্র থেকে সমানভাবে প্রতি উত্তর আসছে.ইউরোপের পক্ষ থেকে এবং রাশিয়ার পক্ষথেকেও.রাশিয়া ইউরোপের সাথে স্বাভাবিক ও শিথিল সম্পর্ক তৈরীতে আশাবাদী.রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের আধুনিকীরণ প্রকল্পটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যদি সুসম্পর্ক না থাকে তাহলে কার্যকর করা কষ্টকর হয়ে পরবে.হ্যাঁ,ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নান বিষয়ে আমাদের মাঝে মতানৈক্য আছে,তবে এই প্রশ্নাবলীর সমাধানের জন্য এখানে একটি ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব.তাই মেদভেদেবের  লিসবন সফর যা ইউরোপ ও ন্যাটোর সাথে রাশিয়ার ভবিষ্যত সম্পর্ক উন্নয়নের একটি মাইলফলক.যে কোন ক্ষেত্রেই লিসবনে দিমিত্রি মেদভেদেবের সফর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানে প্রতিপক্ষের কাজ থেকে যথাযথ উত্তর পেতে সহায়তা করবে,বিশেষভাবে রকেটবিহীন ইউরোপীয় পদ্ধতিতে রাশিয়ার অংশগ্রহন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার নিরসন.