একটি কথা সবার কাছেই পরিষ্কার যে,সব গোপনীয়তাই একদিন প্রকাশ পায়.২০০৮ সালের মুম্বাইয়ের জঙ্গি হামলার ক্ষেত্রেও এই সম্পর্ক এখান জড়িত আছে.কে এই হামলার সাথে জড়িত ও কে বা কারা এ হামলায় অংশ নিয়েছে এই বিষয়ে ভারত দীর্ঘসময় ধরেই চারিদিক থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে.ঠিক এমন সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগ জানায় যে,এই হামলার কয়েকবছর পূর্বেই তাদের কাছে তথ্য ছিল যে,ভারতে এমন একটি সম্ভাব্য হামলা ঘটতে পারে.ভারতের মহানগরীতে ঐ হামলায় অতিথিসহ ১৬৬ জন নিরীহ মানুষ প্রান হারায়.মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে আগে সতর্ক করে দিতে পারত কিন্তু তারা সেটি করেনি তবে কেন করে নি?.এ বিষয়ে একপক্ষীয় উত্তর দেওয়া কঠিন,এটা ঘটতে পারে অসচেতনতার দরুন অথবা অন্য কোন কারণে.অবশেষে সঠিক তথ্য প্রকাশ হল.ডেভিড হেডলি যিনি পাকিস্তান বংশদ্ভুত মার্কিন নাগরিক,যাকে জঙ্গি কর্মকান্ডের কারণে চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছিল.এমনকি ২০০৫ সালের গ্রীষ্মকালে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারিবারিক কলহের পরই তার স্ত্রী হেডলির বিষয়ে নিউইর্কের পারিবারিক দপ্তরে অবহিত করেন.স্ত্রীর বর্ননার সূত্র ধরেই জানতে পারা যায় যে,হেডলি পাকিস্তানের জঙ্গিদল লস্কর-ই-তায়েবার সদস্য এবং তার দেওয়া কর্মসূচী পালন করতেই হেডলি মুম্বাই যায় এবং ভারতে ভবিষ্যত হামলার জন্য তৈরী হয়.যেহেতু হেডলি পাকিস্তানের লস্কর-ই-তায়েবার  সদস্য এবং ভারতে ও যুক্তরাষ্ট্রে তা কঠোরভাবে দমনের উদ্দোগ নেওয়া.এফবিআই সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছিল যে,এই তথ্যে তাদের নিছকই কৌতুহল ছিল.যদিও এখনও কে বা কারা ঐ হামলা চালিয়েছিল তা অজানাই রয়ে গেছে.সাধারনভাবেই কেউ না কেউ হয়ত ছিল.হেডলিকে আটক করা হয়েছিল সম্পর্ণ ভিন্ন কারণে এবং তা ছিল পারিবারিক দ্বন্ধ.এই ঘটনাপ্রবাহের সাথে অনেক মতামত রয়েছে.একদল মনে করে যে,হেডলিকে প্রশয় দেওয়া হয়েছে কারণ পূর্বে তিনি মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রন দপ্তরে তথ্য সরবরাহকারীর কাজ করতেন.অপরদিকে অন্যদল মনে করছে যে, যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল পাকিস্তানের ভাবমূর্তি নষ্ট না করতে, পাক-ভারত সম্পর্কের অবনতি না ঘটাতে এবং ঐ অঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ.কর্যত  যে বিষয়টি সবারই জানা তা হল সবকিছুতেই তার  উল্টোটা ঘটেছে.মুম্বাইয়ের ঐ হামলার পরই পাক-ভারত সম্পর্কের যথেষ্ট অবনতি ঘটেছে এবং সেটা ঐ অঞ্চলে অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি করেছে.হামলা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের পাওয়া আগাম সতর্ক বানী, যা পরবর্তীতে ঘটতে পারত অথবা নাও পারত.এই বিষয়ে মতামত জানালেন মস্কোর ভারতীয় গবেষনা কেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা তাতিয়ানা শাউমেয়ান.তিনি বলছেন,আমি মনে করি না যে,পাক-ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতির বিষয়ে মার্কিনরা আজকাল তেমন আগ্রহী.আজ স্মায়ু যুদ্ধ নেই.ভারত ও পাকিস্তান,যারা উভয়েই পারমানবিক শক্তির অধিকারী,তাদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টির হুমকির রাজনৈতিক খেলার কোন অর্থ নেই.এছাড়াও মার্কিনীরা এই খবরের তেমন গুরুত্ব দেয় নি ও ভারতকেও তা জানায় নি.এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগের একটি ভুল যার বিনিময়ে ভারতকে বিরাট মূল্য দিতে হয়েছে.এই দৃষ্টিকোন থেকে, সম্প্রতি ভারত সফরে আসা সিআইএর পরিচালক লেওন পানেতির বিবৃতির কতটা গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে?.সেই সময়  যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান বলনে,সিআইএ এবং ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ যৌথভাবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও এই বিষয়ে সংবাদের বিনিময় করবে.তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নিজে দায়িত্ব নিয়ে যদি সংবাদ আদান-প্রদান করে,কোন বিষয়টি করবে বা কোনটি করবে না ;তাহলেও কি মুম্বাইয়ের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে না?.