ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলে ছোট্ট স্বাস্থ্যনগরী দোভিলে রাশিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতা- দমিত্রি মেদভেদেভ, নিকোল্যা সার্কোজি এবং আঙ্গেলা মের্কেলের সাক্ষাতের জন্য সবকিছু প্রস্তুত, তা শুরু হচ্ছে সোমবার. ইলিসেই প্রাসাদে আসন্ন আলাপ-আলোচনাকে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো রাশিয়া ও ইউরোপের মাঝে সম্পর্কে পেরেজাগ্রুজকা বলে অভিহিত করা হয়েছে.    আলাপ-আলোচনার মুখ্য বিষয় হবে ইউরেশিয়া অঞ্চলে সমান নিরাপত্তার একক এলাকা গঠনের পরিপ্রেক্ষিত আলোচনা. তা রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে সুসঙ্গত এবং সাধারণ বিপদ ও চ্যালেঞ্জে মিলিতভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগ দেয়. ফ্রান্স ও জার্মানি- ইউরোপে রাজনৈতিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব ধারণকারী দেশ. তাদের স্থিতি গোটা ইউরোসঙ্ঘের রাজনীতি গড়ে তোলায় বাস্তবভাবে প্রভাব বিস্তার করে.ইউরোপের প্রধান প্রধান দেশে এ উপলব্ধি বাড়ছে যে, রাশিয়াকে বাদ দিয়ে এ মহাদেশের ভবিষ্যত্ নেই. সঙ্গতির দ্বিপাক্ষিক সংযোগ, প্রাকৌশলিক ও শিল্পক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার বিনিময়, মানবতাবাদী সহযোগিতা- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দ্রুত বিকশমান বাজারের সাথে প্রতিদ্বন্দিতামূলক সংগ্রামে টিঁকে থাকার গ্যারান্টি. প্যারিসে এবং বার্লিনে এ উপলব্ধি রয়েছে.   তিনদেশের নেতাদের এমন সাক্ষাত্ হচ্ছে পাঁচ বছরের বিরতির পর.যদিও এমন সাক্ষাতের ইতিহাসের সূচনা হয় ইরাকে মার্কিনী অনুপ্রবেশের প্রস্তুতির সময়. সে সময় চ্যান্সেলার গেরহার্ড শ্রেয়োডর রাশিয়া ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন এবং ঝাক শিরাক-কে আমন্ত্রণ করেন সাধারণ স্থিতি প্রণয়নের জন্য. মনে হয়েছিল, ত্রয়ীর বিন্যাসে এমন আলাপ-আলোচনা পরম্পরা হয়ে উঠবে. কিন্তু, তা ঘটে নি. প্রধান কারণঃ ২০০৮ সালে দক্ষিণ ওসেতিয়ার উপর জর্জিয়ার সামরিক অনুপ্রবেশের প্রতি ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী.    এখন মনে হচ্ছে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে. ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য সাধারণ দায়িত্ব সম্বন্ধে উপলব্ধি বাড়ছে. উপরন্তু শরিকদের ধারণাও কাছাকাছি. যেমন, পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তার ব্যাপারে রাশিয়া-ইউরোসঙ্ঘ কমিটি গঠন সম্পর্কে রুশ-জার্মান উদ্যোগ, এবং তাছাড়া অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একক এলাকা গঠন সম্পর্কে ফরাসী ধারণা.   যাই হোক না কেন দোভিলে সাক্ষাত্ আস্থাপূর্ণ চরিত্র ধারণ করবে. রাশিয়ার রাজনীতি বিশারদ, ইউরোপ ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর সের্গেই কারাগানোভ এ বিষয়ে মত প্রকাশ করে বলেনঃ   সাক্ষাতে কথা হবে নিরাপত্তার ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণে ইউরোপের তিনটি প্রধান দেশের পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ গভীর করা, সম্ভবত আন্তর্জাতিক সংস্থায় রাজনৈতিক সংলাপে পরস্পরের উপর নির্ভর করা. ফ্রান্স ও জার্মানি অতি উদ্বিগ্ন যে, বিশ্ব রাজনীতিতে ইউরোপ দ্রুত নিজের স্থিতি হারাচ্ছে. আর রাশিয়ার সাহায্যে এ অবনমন থামাতে চেষ্টা করবে.   দোভিলে সাক্ষাত্- এ হল ১৯-২০শে নভেম্বর লিসবনে ন্যাটো জোটের সম্মেলন, ১-২রা ডিসেম্বর আস্তানায় ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলন এবং ৭ই ডিসেম্বর ব্রাসেলসে ইউরোপীয় সঙ্ঘের সম্মেলনের প্রাক্কালে পরস্পরের স্থিতি জেনে নেওয়া. যাই হোক না কেন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানির রাজনৈতিক শরিকানা ভবিষ্যত্ ইউরোপের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ.