তুরষ্ক-ইজরাইল ও তুরষ্ক-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে.প্রতিপক্ষের সাথে সম্পর্কের এমন হওয়ার সর্বশেষ কারণ হল আন্তর্জাতিক মহড়ায় তুরষ্কের আকাশ সীমায় ইজরাইলী পাইলটের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা.আঙ্কারাকে প্রভাবিত করতে যুক্তরাষ্ট্র হুঁমকি দিয়ে জানায় যে,যদি ইজরাইলের পাইলটরা রণকৌশলে অংশ গ্রহন না করে তবে মার্কিনীরাও তাতে অংশগ্রহন করবে না.আঙ্কারা এর উত্তরে নিজেদের কথা অটুট রাখল এবং রণকৌশল স্থগিত করা হয়েছে.তুরষ্কের জন্য এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা রয়েছে.যদিও ২০০১ সনে তুরষ্ক,ইজরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে 'কোনিয়া' শহরে সামরিক বিমান কৌশল কেন্দ্র চালু করে.প্রতিবছরই আকাশপথে ‘’আনাতলি ঈগলে’’সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হত যেখানে সবসময়ই ইজরাইলের পাইলটরা অংশ গ্রহন করত.পরিস্থিতির পরিবর্তন আসে ঠিক তখনই যখন ইজরাইলী সেনা বাহিনী গাজা অভিমুখী ত্রানসামগ্রী বহন করে নিয়ে যাওয়া তুরষ্কের একটি জাহাজে বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কর্মীদের উপর হামলা চালায়.সেই সময় এ ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়.চুড়ান্তভাবে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়নের কারণে আনাতলি ঈগল আর উড়ল না.তবে মতানৈক্য হচ্ছে অন্য বিষয়ে.রণকৌশল যা ভবিষ্যতের জন্য পরিবর্তন করা হয়েছে তা ঠিকই অনুষ্ঠিত হবে তবে ভিন্ন ধারায় ও অন্য অংশ্রগ্রহনকারীদের নিয়ে.তুরষ্ক আকাশ পথে রণকৌশল মহড়ায় অংশ নেয় চীনের সাথে.যুক্তরাষ্ট্র নিজের গভীর চিন্তর বিষয়ে বিবৃতি দেয়.ট্রান্স আটলান্টিক মিত্রদেরকে শান্ত করতে তুর্কী সরকারে পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয় যে,রণকৌশলের জন্য তুর্কী সেনাবাহিনীর জন্য মার্কিন ফাইটার এফ-১৬ ব্যবহার করা হয় নি.তবে ঘটনা আরও ঘনীভূতই রয়ে গেল.তুরষ্ক দেখালো যে ইজরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও পরিস্থিত ব্যবস্থা নিতে পারে.এমনই মন্তব্য করলেন বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইন্সটিটিউটের বিশেষজ্ঞ বিকতর নাদেইন রায়েবস্কী.ইজরাইলের সাথে যৌথ রণকৌশলে অংশ না নেওয়ায় তুরষ্কের অস্বীকৃতির বিষয়টি হল-উপরের মহলের বরফের পাথরের ন্যায় .দুটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগি রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কে অবনতির পিছনে অনেক কারণই রয়েছে.তুর্কী রাষ্ট্রের মূলনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে.দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের কার্যাবলী যা কামাল আতাতুর্ক সময়ের  মূলনীতিতেই অবস্থান করছে.মূলনীতিগত পরিবর্তন যা তুরষ্কের পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে.যেখানে নতুন একটি ভেক্টরের উত্পত্তি হয়েছে যাকে প্রাচ্যের সাথে নামকরন করা যায়.তুরষ্ক ফিলিস্থিনী সমস্যা ও দেশটির নাগরিকদের অধিকার রক্ষার  বিষয়ে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করেছে.এই বিষয়টি ইজরাইলের পছন্দ হয় নি.আঙ্কারা দীর্ঘ সময় ধরেই দামাস্কার বিষয়ে সমস্যা নিরসনে কাজ করে আসছে.তুরষ্ক একই সাথে সিরিয়া ও ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরী করেছে.যা যুক্তরাষ্ট্রের পচ্ছন্দ হয় নি এবং ইজরাইলকে অস্থিরতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে.এই বিষয়টি আরব বিশ্বে তুরষ্কের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বলভাবে ফুটিয়ে তুলেছে.তুরষ্কের এমনই মনোভাব দেখা যায় বর্তমান ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল আন্দ্রেসা ফগ রাসমুসেনকে নির্বাচনের সময়.তিনি যখন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন মহানবী মোহাম্মদ (সঃ)এর কার্টুন ছবি অঙ্কনকারী শিল্পীকে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেই নিয়েছিলেন.বিকতর নাদেইন রায়েবস্কী বলেন,তুরষ্কের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনে যদি অভ্যন্তরীন বিষয়গুলোর কথা ভাবা হয় তা হলে তা ভুল হবে.এটি সবার কাছে পরিস্কার যে,তুরষ্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং সবই জানে এই বিষয়ে তু্র্কীদের কি অভিব্যক্তি.সবকিছুই এমন মনে হয় যে,ইউরোপে তুর্কীরা ২য় শ্রেনীর লোকজন.তুরষ্কের সমাজে এখন একটি মনোভাব কাজ করছে, তা হল,ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমাদের যোগ দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই.এমনকি পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে সেখানে প্রতিবাদী মনোভাবও দেখা গেছে.এরা সবই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী দলের সাথে যোগ দিয়েছে.এ সব কিছুই শুরু হয়েছে ইজরাইলের সাথে তুরষ্কের সম্পর্কের কারণে এবং ইজরাইল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশসমূহের মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান সহযোগি রাষ্ট্র.ইজরাইল নিজেই ফিলিস্তীনের সাথে সম্পর্কের ও এর সমস্যা সমাধানে অনেক মতামত দিয়ে থাকে.প্রশ্ন করা ছাড়াই যে সমাধান পাওয়া যায় তা হল,তুরষ্কের রাজনৈতিক পরিবর্তন যা কোন ঘটনা বহন করছে না বরং ঐতিহ্যগত ও চারিত্রিক বৈশিষ্টের.আঙ্কারা চায় যে তাকে প্রাচ্যের ও পশ্চিমা  হিসাবে  যেন মনে করা হয়.এই পরিবর্তন যা দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বের সাথে নির্ধারন করা হয়েছে.