মানবজাতির সবচেয়ে পুরানো শুত্রু হল ক্ষুধা এবং ২১ শতকে এসেও তার কোন পরিবর্তন আসে নি.বর্তমানে বিশ্বব্যপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা৯ কোটি ২৫ লাখেরও উপরে.ক্ষুধার বিরুদ্ধে ঐক্যহচ্ছে এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়.প্রতিবছরের ১৬ অক্টোবর এই দিনটি পালন করা হয়.১৯৪৫ সন থেকে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা খাদ্য ও কৃষি সংস্থার(এফএও) পক্ষ থেকে পালিত হয়ে আসছে. বিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে না খেতে পেরে ১জন শিশু মারা যায়.এই সমস্যা মোকাবেলায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন.তাই সহস্রাব্দ সম্মেলনে বিশ্বের প্রতিটি দেশই একটি ঘোষণা প্রদান করে,আর তা হল আগামী ২০১৫ সন নাগাদ বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ২ ভাগ কমিয়ে আনা.রাশিয়া ২০০৬ সন থেকে বিশ্বের ক্ষুধার্ত এলাকার জনগনের মানবিক সাহায্য প্রদানের কার্যক্রমে সাফল্যের সাথে অংশ গ্রহন করছে.রেডিও রাশিয়াকে এমনই সংবাদ জানালেন ইতালীতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদুত ও বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার(এফএও)এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী(ডব্লিওএফপি) এর রাশিয়ার প্রতিনিধি আলেক্সেই মেশকব.তিনি বলেন-রাশিয়া  বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার(এফএও) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী(ডব্লিওএফপি) এর সদস্য হিসাবে বিগত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবিক সাহায্য কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে.বর্তমানে যার অর্থমূল্য ৩০ কোটি মার্কিন ডলার. আমরা  স্বাধীন কমনওয়েলথ দেশসমূহ ও আফ্রিকায় কাজ করছি.বর্তমানে রাশিয়া বিদেশে শষ্য রপ্তানী বন্ধ করে দিয়েছে.কিন্তু আন্তর্জাতিক সহযোগি ও বিশেষ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের মানবিক কার্যক্রমে অংশ নিতে হচ্ছে.জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ২২ টি দেশকে সনাক্ত করেছেন যেখানে খাদ্য সঙ্কট মারাত্বক অবস্থায় পৌঁছেছে.ঐ তালিকায় স্থান পাওয়া আফ্রিকার দেশের সংখ্যা হল ১৭টি এবং সেই সাথে রয়েছে আফগানিস্তান,তাজিকিস্তান,উত্তর কোরিয়া ,হাইতি ও ইরাক.সবথেকে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে আফ্রিকার গনতান্ত্রিক দেশ কঙ্গে.প্রাকৃতিক দুর্যোগ,স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষ ও অকার্যকরী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যা দেশটিকে ক্ষুধার্তদের মৃত্যুর সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্ব রেকর্ডে নিয়ে যাচ্ছে.যার অধিকাংশই হল শিশু.আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন মানবিক সাহায্য কার্যক্রম বহাল থাকলেও বিশ্বে ক্ষুধার্ত সমস্য সমাধান করা যাচ্ছে না. বিশেষজ্ঞরা একমত পোষন করেন যে, আধুনিক বিশ্ব সম্পদ ও প্রযুক্তির সহায়তায় আগামী ২০৩০ সন নাগাদ খাদ্য উত্পাদন ৫০ ভাগ বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট এবং ২০৫০ সন নাগাদ তা ৭০ ভাগ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে.তাই সবার জন্য খাদ্য সরবরাহে প্রতিটি রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার সম্মিলিত উদ্দ্যোগ প্রয়োজন.রাশিয়া বিশ্বে খাদ্য সরবরাহে নিরাপত্তা প্রদানে অবদান রেখে চলছে.রাশিয়া একই সাথে বিভিন্ন মানবিক সাহায্য প্রদানের অন্যতম দেশ হিসাবে কাজ করছে এবং নিজেদের কৃষি কাজের অভিজ্ঞতা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সাথে ভাগাভাগি করছে.