সারা বিশ্ব লোকজন আজ একটু বাড়তি সতর্কতার সাথে হাত ধৌত করছেন.জাতিসংঘ ও এর শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনেসেফ ২ বছর পূর্বে আজকের দিনকে আন্তর্জাতিক হাত ধৌত দিবস হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়.বিশেষ কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালিত না হলেও তা প্রতিদিন কয়েক হাজার শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে. ডাইরিয়া সংক্রান্ত রোগের কারণে যা মূলত অপরিষ্কার হাতের জীবানু থেকে ছড়ায় যার ফলে প্রতিদিনই প্রায় ৫০০০ শিশু মৃত্যু বরন করে.এই রোগের সংক্রামন সবচেয়ে বেশি হচ্ছে আফ্রিকা ও এশিয়ায়.এই শিশুমৃত্যুর হার প্রায় অর্ধেকে কমিয়ে আনা সম্ভব যদি শিশুরা খাবার পূর্বে এবং টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর হাত পরিষ্কারভাবে সাবান দিয়ে ধৌত করে.সাবান দিয়ে হাত ধৌত করা যা জীবানু থেকে রক্ষা পাবার অন্যতম কার্যকরী ও খরচের দিক থেকেও অনেক সাশ্রয়ী.একই সাথে তা কলেরা ও নিউমোনিয়ার মত রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়.রাশিয়ার চিকিত্সা বিজ্ঞান   একাডেমির শিক্ষাবিদ সেরগেই কালেসনিকোব বলেন,সাবান আবিষ্কারের পর বিশ্বে এইসব রোগে নিহতের পরিমান অনেক কমে গেছে.তিনি বলেন,সাবন আবিষ্কার হয়েছে তেমন বেশি দিন হয় নি.সাবানের পূর্বে ক্ষার জাতীয় মিশ্রন ও পরিষ্কার পানি ব্যবহার করা হত.যেতেহু এর পরিমান ছিল অনেক ও জনবসতিপূর্ন শহরও ছিল কম.কিন্ত ১৪-১৬ শতকে যখন মহামারী দেখা দেয় এবং এর কারণ হিসাবে যখন পানিকেই সনাক্ত করা হয় এরপর থেকে একদমই ধৌত করা হয় নি.কিন্তু যখন ১৬-১৭ শতকে সাবান আবিষ্কার হয় এর পরই অনেক সমস্যাই দূর হয়.বস্তুত সাবান হচ্ছে ক্ষার জাতীয় জীবানু প্রতিষোধক.সাবান শরীরে চামড়ার উপরের আস্তরনে জীবানুর বিরুদ্ধে কাঠামো তৈরী করে.হাত ধৌত কারার যে উপকারী দিক রয়েছে তারপরও লোকজন এই সাধারন বিষয় অবহেলা করে.যুক্তরাজ্যের সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন যে,শুধুমাত্র ৩ ভাগ পুরুষলোকের টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস রয়েছে.অন্যদিকে মহিলাদের এই সংখ্যা ২ গুন বেশী.এছাড়া যুক্তরাজ্যের চিকিত্সকরা জানতে পেরেছেন যে, অধিকাংশ বয়ষ্ক লোকজন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ের নিয়ম তখনই অনুসরন করে বা চিন্তা করা শুরু করে যখন তা অন্যদের সংক্রমিত করে.রাশিয়ায় সবার কাছে শিশুকাল থেকেই একটি কথা বেশ পরিচিত,খাবারের পূর্বে হাত ধৌত কর”.এছাড়া কোরনি চুকোবের ভাষায়-অবশ্যই সকাল ও বিকালে হাত-মুখ পরিষ্কার করা দরকার,তা না হলে অপরিষ্কার থাকা লজ্জার এবং লজ্জার.সব কিছুই রয়েছে.তাই আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়ার কোন অর্থই নেই যে, পরিষ্কার পানি ও সাবান ব্যবহার করুন   যাতে  লোকজন এই সাধারন বিষয়ে উদাসীন না হয়;কার্যকরি প্রচেষ্টা অনেক সময় সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে এমনকি অনেক সময় জীবনও.