আগামী ২০১৩-১৪ সনে রাশিয়ার মহাকাশযান ''সায়ুজে'' ভারতীয় নভোচারীদের মহাকাশে পাঠানো বিষয়ে ভারতের রাজি না হওয়া বিষয় যা অনেকের কাছে পরিষ্কার আকাশে মেঘের আগমনের মতই মনে হয়েছে.কোন প্রকার ব্যাখ্যা ছাড়াই মহাকাশ উড্ডয়নে রাশিয়া-ভারত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারত.আমরা এই বিষয় নিয়ে কথা বলি রসকসমসের সাথে.তাদের পক্ষ থেকে বলা হয় যে,এটি ভারতীয় পক্ষের একান্ত নিজেদের সিদ্বান্ত এবং তা সরকারিভাবেই ঘোষণা করা হয়েছে.এই সিদ্বান্তের বিষয়ে মতামত জানান রসকসমসের মহাকাশযান উড্ডয়ন পরিচালক আলেক্সেই ক্রাসনোব.তিনি বলেন,ভারতের মহাকাশে উড্ডয়নের প্রক্লপটি এখনও পর্যালোচনা ও পরিক্ষামূলক অবস্থায় রয়েছে.এই প্রক্লপের কিছু সিদ্বান্ত ও সময়সীমা পুনঃবিবেচনা করা হবে.অবশ্য এই বিষয়টিও একেবারে অমূলক নয় যে,ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই মনোভাবের কারণে এই প্রকল্প শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে.একই সাথে অর্থনৈতিক বিষয়টিও পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে.যদিও মহাকাশযান উড্ডয়নের জন্য যাবতীয় সবধরনের কৌশল কার্যক্রমে অর্থ প্রদানের যোগ্যতা ভারতের রয়েছে.এই সবকিছুতে বেশ বড় অঙ্কের খরচ গুনতে হবে.মহাকাশ গবেষনায় ভারত ও আমাদের দেশের সাথে কর্যক্রম শুরু হয় সেই সোভিয়েত ইউনিয়নে.ভারতের প্রথম নভোচারী রাকেশ শার্মা মহাকাশে উড্ডয়নের পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়নে মহাকাশ বিষয়ে নানাবিধ জ্ঞান অর্জন করেন.তিনি ১৯৮৪ সনে আমাদের দেশের নভোচারীদের সাথে মহাকাশযান সায়ুজ টি -১১ এর সাহায্যে মহাকাশে পাড়ি জমান.গত ২০০৬ সনে ভারত ও রাশিয়া মিলিতভাবে ভারতে মহাকাশে উড্ডয়ন প্রকল্পের কাজ করে.২০০৯ সনের শেষদিকে ভারত তার নিজ দেশে মহাকাশে উড্ডয়নের জন্য  মহাকাশযান নির্মাণ প্রযুক্তি চেয়ে রাশিয়ার দৃষ্টি আকর্ষন করে.রাশিয়া আগ্রহ নিয়ে ভারতের এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়.সর্বশেষ সময় আমাদের এই দুই দেশ ভারতীয় মহাকাশ উড্ডয়ন কেন্দ্র নির্মাণে সাফল্যের সাথে কাজ করেছে.রাশিয়ার মহাকাশ প্রযুক্তির সাথে পরিচয়ের জন্য ভারতের দুই নভোচারী মহাকাশ গমন করে.যদিও এখন এই উড্ডয়ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে অথবা আবারও হতে পারে.তবে রাশিয়ার ফেডারেল মহাকাশ সংস্থার সাথে ভারতীয় মহাকাশ গবেষনা কেন্দ্রের সম্পর্ক বজায় রয়েছে.আলেক্সেই ক্রাসনোব বেশ দৃড়তার সাথেই বললেন.রাশিয়ার ''সায়ুজ'' মহাকাশযানে ভারতীয় নভোচারীদের উড্ডয়নে রাজী না হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ভারতে মহাকাশ উড্ডয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় দুই দেশের সম্পরর্কের ইতি টানা হয়েছে.ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাশিয়ার অন্যতম সহযোগি রাষ্ট্র.শান্তিময় মহাকশ উড্ডয়ন প্রক্লপ বিষয়ে কোন নেতিবাচক সম্পর্ক নেই.দ্বিপাক্ষিক মহাকাশ উড্ডয়ন কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার পক্ষথেকে সবধরনের সহযোগিতা প্রদানে রাশিয়া তৈরী রয়েছে.ভারত ও রাশিয়ার মহাকশ ক্ষেত্রে রয়েছে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক মূলত সেই কারণে রসকসমস এতটাই নির্ভরযোগ্য বিবৃতি দিয়েছে,এই সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাবে.আরও শুধুমাত্র ১জন রাকেশ শার্মা মহাকাশ যাত্রার সমাপ্তি করবেন না এবং রাশিয়া প্রয়োজনীয় সব সাহায্য করবে.