রাশিয়াতে আদমশুমারির প্রধান ধাপ শুরু হয়েছে.সবাই এই শুমারীতে নিজের তথ্য নিবন্ধন করাচ্ছে,বাদ যাচ্ছে না নভোচারীরাও.১৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৬০ লক্ষ নিবন্ধনকারীরা বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে দেশের প্রতিটি জনগনের তথ্য সংগ্রহ করবে.নভোচারীরা আদমশুমারীতে নিজেদের তথ্য জানাবেন বিশেষ কনফারেন্স সংযোগের মাধ্যমে.আদমশুমারি যে বিষয়ে তথ্য প্রদান করবে তা হল-রাশিয়াতে বসবাসকারী লোকের সংখ্যা কত,কোন কোন এলাকা ঘনজনবসতি,কতজন পুরুষ,কতজন মহিলা,তাদের মধ্য শিক্ষার্থী কত জন,কতজন অবসরপ্রাপ্ত.কিছু তথ্য রয়েছে যা পাওয়া যাবে শুধুমাত্র জনগনকে প্রশ্নের উত্তরে,যেমন-জাতীয়তা.এই তথ্যটি কোন নথিপত্রে উল্লেখ নেই.এমনকি রাশিয়ার সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে যে,মানুষ নিজে তার জাতীয়তা বেছে নিবে.আদমশুমারি থেকে গুরুত্বপূর্ন আরও যে তথ্য জানা যাবে তা হল-রাশিয়ার জনগনের শিক্ষার হার,কোন কোন বিদেশী ভাষায় তারা কথা বলতে পারে,কতজন উচ্চতর ডিগ্রীর অধিকারী.পরিক্লপনাকারীদের জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে পরিবারের সংখ্যা ও এর ধরন বিষয়ে.অর্থনীতিবীদদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল কতজন মানুষ চাকুরি করে এবং তাদের আয়ের উত্স.যদিও আয়ের পরিমান কত কেউ এই প্রশ্ন করবে না,তাছাড়া যে ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হবে তিনি যে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করতে পারেন.রাশিয়াতে আদমশুমারিতে অংশ নেওয়া একটি স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজ.আদমশুমারীর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে রাশিয়ায় বসবাসকারী লোকজনের যথাসম্ভব সঠিক তথ্য সরবরাহ করা এবং এই শুমারী গননার কাজে সবাইকেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যেন কেই বাদ না যায়.রাশিয়ার পরিস্যখ্যান দপ্তরের প্রধান আলেক্সান্দার সুরিনব বলেন,প্রায় ২০০ মিলয়ন ফরম ছাপানো হয়েছে.তিনি বলেন,শুমারী কাজের জন্য আমাদের থাকছে ৩ ধরনের ফরম.প্রথমটি হল L ধারা.এই ফরমটি রাশিয়াতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী প্রতিটি ব্যক্তি পুরন করবে.এর অর্থ হল,এই সেই ব্যক্তি যার রুশি নাগরিকত্ব হয়ত নেই,জন্ম অন্য স্থানে বা জাতীয়তাও ভিন্ন তবে এরা আমাদের দেশে ১ বছর বা এরও বেশী সময় বসবাস করছে.শুধুমাত্র এই ধারার বাইরে থাকবে বিদেশী দুতাবাসসমূহের কর্মকর্তা ও এদের পরিবার সদস্য.দ্বিত্বীয় ধারা হল p.এই ফরমে মূলত জীবন-যাপনের বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করা হবে এবং সর্বশেষ B ধারার ফরমটি হল তাদের জন্য যারা আমাদের দেশে অস্থায়ীভাবে (১ বছরের নিচে) বসবাস করেন.তাদের জন্য একদম সাধারন প্রশ্ন রাখা হয়েছে.রাশিয়ার পরিস্যখ্যান দপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করেন যে,বড় শহরগুলোতে  আদমশুমারীর তথ্য সংগ্রহের কাজ সবচেয়ে কষ্টকর হবে.এখানেই সবথেকে বেশি ''না'' বোধক উত্তর আসবে.অনেকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়াকে বিপদজনক মনে করেন আবার অনেকেই ভয় পাচ্ছেন বিশেষকরে যারা রাশিয়াতে অবৈধভাবে অভিবাসন নিয়ে বসবাস করছেন.এরা হয়ত ভাববেন যে,তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে.নিবন্ধনকারীরা কাউকেই পাসপোর্ট বা অন্যকোন নথিপত্রের বিষয়ে জিজ্ঞেস করবে না.সব তথ্য থেকে কাউকে  সনাক্ত করাও সম্ভব নয়.সমাজবিজ্ঞানীদের মতে,রাশিয়ার ৮৮ ভাগ জনগন আদমশুমারির প্রশ্নের উত্তর দিতে তৈরী আছে.