মহড়া কষ্টসাধ্য,সংগ্রাম সহজ.আজ থেকে অনেক বছর আগেই এই কথাগুলো বলেছিলেন রুশি স্বনামধৈন্য সামরিক কমান্ডার আলেক্সান্দার সুভোরোভিম,যা ভালভাবে জানে রাশিয়ার আর্মি.এখন তা ভারতীয়দের কাছেও পরিচিত.যারা অংশ নিয়েছে রাশিয়া-ভারত যৌথ সামরিক মহড়ায় ইন্দরা”.২০০৩ সন থেকে তা নিয়মিতভাবে এই দুই দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে.এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন আমাদের পর্যবেক্ষক গেওর্গি বানেছব.চলতি বছরের ইন্দিরা-১০ মহড়ায় জঙ্গিবাদ দমন বিষয়টি গুরুত্ব পাবে.আগামী ১৫ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে ভারতের উত্তর-পূর্বে হিমালয়ের পাদদেশে যা উত্তারখান্দদ অঙ্গরাজ্যের ২০০০ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থিত.রশিয়ার উত্তর কাবকাজের পাহাড়ী এলাকায় সাজোঁয়াযান পরিচালানায় নিয়োজিত ব্রিগেডিয়ারের মধ্যথেকে ২৮০ জনেরও বেশি সৈনিকদের ঐ সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার জন্য পাঠানো হচ্ছে.রাশিয়ার দক্ষিনের এই পাহাড়ি এলাকাতেই কয়েক বছর পূর্বে চেচনিয়ার জঙ্গিদের সাথে যুদ্ধ সংঘঠিত হয় যাদের মদদ জুগিয়েছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী.কয়েক বছর ধরে চেচনিয়া প্রজাতন্ত্রে শান্তি পরিবেশ বজায় রয়েছে,যদিও আজকের দিনে উত্তর কাবকাজের বিভিন্ন এলাকায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর কিছু কার্যক্রম সক্রিয় আছে এবং এই জঙ্গিরা সামগ্রিকভাবে উত্তর কাবকাজে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করছে.রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর পাহাড়ী এলাকায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রে রয়েছে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা.  ভারতের জম্মু -কাশ্মীর এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তের এলাকাগুলোতেও পরিস্থিতি অনেক জটিল.এই এলাকাগুলোতে এখনও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জঙ্গি সম্প্রদায়ের সক্রিয় কার্যক্রম রয়েছে.যাদের মধ্যে রয়েছে-আল-কায়দা,পাকিস্তানের লশকার-ই-তায়েবা,কাশ্মীরের জঙ্গিগোষ্ঠী অন্যতম.রাশিয়া-ভারত যৌথ এই সামরিক মহড়া জঙ্গিবাদ দমনে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর অভিজ্ঞতা গ্রহন করতে পারবে.এছাড়া নিজেদের সামরিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির যথাসম্ভব প্রয়োগ করতে পারবে.রাশিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব অস্ত্র,সামরিক প্রযুক্তি ও পূর্ন রসদ নিয়েই ভারতে যাচ্ছে.সামরিক মহড়া যা-রাশিয়া-ভারত সামরিক শক্তির অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ.এমনই বিবৃতি প্রদান করলেন ''জাতিয় প্রতিরক্ষা'' পত্রিকার সম্পাদক ইগত কারোতচেনকা.তিনি বলেন,রাশিয়া ও ভারত দির্ঘদিন ধরেই সামরিক-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সম্পর্ক বজায় রাখছে.আমাদের এই দুটি দেশই নিজেদেরকে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্থ সহযোগি রাষ্ট্র হিসাবে মনে করে.আমরা স্মরণ করতে চাই যে,ভারত তার অঞ্চলে নিজের সামরিক অবস্থানকে আরও বাড়াতে চায়.জাতিয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ভারতের রয়েছে নান সমস্যা যা আঞ্চলিক বিভিন্ন পরিস্থিত,জঙ্গিবাদ ও প্রতিবেশী দেশসমূহের সম্পর্ক বিভিন্ন  কারণে সৃষ্টি হয়েছে.তাই এই কারণেই ভারত তার স্থল,নৌ ও বিমানবাহিনী এইসব সমস্যা মোকাবেলা ও বিংশ শতাব্দীর নানা সমালোচনার জবাব দিতে পারে তার জন্যই আমরা আমাদের সহযোগি দেশকে সামরিক প্রযুক্তির আধুনিক বিষয়সমূহের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই.সামরিক মহড়া 'ইন্দিরা' যা স্থল,নৌ ও আকাশ পথে অনুষ্ঠিত হবে.দুটি দেশের অংশগ্রহনকারীদের জন্যই তা অনেক গুরূত্বের.তারা প্রয়োজনবোধে বিভিন্ন সামরিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে এবং তা পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে.ইতিমধ্যে একটি বিষয় সবারই জানা যে,ভারত নিজেদের সামরিক বাহিনীতে রাশিয়ার অস্ত্র ব্যবহারের ভাল সাড়া দিয়েছে.যদিও সামরিক মহড়া ইন্দরা ১০ কেবল শুরু হয়েছে তবে আগামী বছরে এই মহড়া আয়োজনের জন্য ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. আগামী বছর ইন্দরা ১১ অনুষ্ঠিত হবে রাশিয়ায়.এই বিষয়ে জানান রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আনাতলী সেরদিউকব,যিনি কয়েকদিন পূর্বে ভারত সফর করেন.এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে আরও ভবিষ্যতের দিকে নেওয়া যেতে পারে.দুটি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রনালয় এই বিষয়ে আগামী ২০২০ সন পর্যন্ত একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেছে.এত দীর্ঘ সময়ের সামরিক-প্রযুক্তির চুক্তি রাশিয়া বা ভারত অন্যকোন দেশের সাথেই করে নি.এই বিষয়ে অনেকে অনেক কিছু  বলছেন.