পৃথিবীতে মুদ্রা যুদ্ধের বিপদ নেই.  এ ব্যাপারে স্থিরবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আলেক্সেই কুদ্রিন. তাঁর মতে, মুদ্রার হারের কারসাজি সাময়িক চরিত্র ধারণ করে. অতএব, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক  সংগ্রামে মুদ্রার হার প্রধান ভূমিকা পালন করবে এমন আশা করার কোনো ভিত্তি নেই.

   রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডমিনিক স্ত্রস-কানের সাথে বিতর্কে নামেন. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নেতা সম্প্রতি বলেন যে, কিছু কিছু দেশের সরকারের দ্বারা জাতীয় সমস্যা মীমাংসার জন্য হাতিয়ার হিসেবে মুদ্রার হার ব্যবহারের চেষ্টা বিশ্বব্যাপী মুদ্রা যুদ্ধের সূচনা করছে.

   আলেক্সেই কুদ্রিন, যাঁকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ক্ষেত্রে মর্যাদাসম্পন্ন  "ইউরোমানি" পত্রিকা ২০১০ সালের শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেছে. তাঁর বিচার-বিবেচনায় যুক্তি এবং সুস্থ চিন্তাধারার উপর নির্ভর করছেন. কৃত্রিমভাবে মুদ্রার হার প্রভাবিত করে গোড়ায় কিছু কিছু লাভ অর্জন করা যেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘকালীন পরিপ্রেক্ষিতে বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হবে.

    কেউ সচেতনভাবে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এ বিষয়ে সন্দেহ আছে, "রেডিও রাশিয়াকে" প্রদত্ত ইনিটারভিউতে বলেন এর.বে.কা সংবাদ সংস্থার বিশ্লেষণমূলক তথ্য বিভাগের ডিরেক্টর আলেক্সান্দর ইয়াকোভলেভঃ

   নিজের রপ্তানির প্রতিদ্বন্দ্বিতা-ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মুদ্রার মূল্যহ্রাসের প্রতিযোগিতা বাধানোর লোভ, সত্যিই বহু দেশের আছে. তবে এটা অর্থহীন এবং এতে গুরুতর ঝুঁকি দেখা দিতে পারে. কেউ যদি হঠাত্ নিজের প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক শরিকের মুদ্রার হারের অনুপাতে নিজের মুদ্রার মূল্য তীব্রভাবে কমাতে শুরু করে তাহলে সাময়িকভাবে কিছু কিছু লাভ পাওয়া যেতে পারে. কিন্তু এ দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী শরিকরা মোটেই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না. শরিক দেশগুলির আর্থিক কর্তৃপক্ষ প্রায় একই রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তার সঙ্গে মুদ্রার হারের অনুপাত কমিযে. ফলে, গুরুতর প্রাধান্য কেউই পাবে না. অথচ মুদ্রার বাজারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুতর ভারসাম্যহীনতা এবং অনির্দিষ্টতা বাস্তবভাবে দেখা দেবে.

   এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আশ-পাশের সকলের সুবুদ্ধিতে খুব-একটা বিশ্বাস করছে না এবং একনিষ্ঠভাবে সব দেশকে পরামর্শ দিয়ে চলেছে মুদ্রার হার গঠনে হস্তক্ষেপ না করার. সেই সঙ্গে প্রধান অভিযোগ তুলছে চীনের কাছে, যে মার্কিনীদের মতে, কৃত্রিমভাবে আটকে রেখেছে ইউয়ান মুদ্রার মূল্যবৃদ্ধি, নিজের রপ্তানিতে প্রাধান্য সৃষ্টি করে.

  তবে, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা সঙ্ঘর্ষে বিশ্বব্যাপী আর্থিক যুদ্ধের লক্ষণ দেখা দেওয়ার কোনো ভিত্তি নেই, জোর দিয়ে বলেন আলেক্সেই কুদ্রিন. চীনের বৈদেশিক যোগাযোগ, তার অর্থনীতির উপর কঠোর রাষ্ট্রীয় প্রভাব, নিঃসন্দেহে, মুদ্রার হারে কিছু কিছু অননুপাত সৃষ্টি করে. তবে এটি হল পৃথক একটি ঘটনা, যা বাজারের গোটা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত নয়. ডলার-ইউয়ান দ্বন্দ্বযুদ্ধ- এটা মোটেই বিশ্বযুদ্ধ নয়.