গ্যাস সরবরাহের দক্ষিন প্রবাহে জার্মানীর জ্বালানী কোম্পানীসমূহ অংশগ্রহন করতে পারবে.এমনই  সিদ্বান্তের কথা জানানো হয় সেন্ট-পিটার্সবুর্গের এক বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার পর.যেখানে রাশিয়ার ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিন ও সিলভিও বেরলুসকোনি স্বাক্ষাতে মিলিত হন.নতুন সহযোগী রাষ্ট্র অন্তুর্ভুক্তের বিষয়ে প্রশ্ন উথাপন করেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী.ইতালির প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র রাজিই হন নি বরং সৌহার্দভাবেই প্রশ্নের সম্মতিসূচক উত্তর দেন,যদিও তার জন্য বিষয়টি নতুন কাজের সূচনা করেছে.জার্মানীর কোন কোম্পানীর নাম অবশ্য ঘোষণা করা হয় নি,তবে সিদ্বান্ত নেওয়ার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে.উল্লেখ্য যে,প্রক্লপে নতুন সহযোগি রাষ্ট্রের জন্য রাশিয়া থেক কৃষ্ণ সাগর হয়ে দক্ষিন ও মধ্য ইউরোপ পর্যন্ত সরবরাহকারি গ্যাসপাইপলাইনের যে প্রক্লপ ইতিমধ্যে তৈরী আছে তার গতিপথের পরিবর্তন আনতে হবে.এই বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন জাতীয় জ্বালানী নিরাপত্তা ফন্ডের জেনারেল ডিরেক্টর কনস্তান্তিন সিমোনোব.রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন,পুতিন কারণ ছাড়াই সিলভিও বেরলুসকোনিকে প্রশ্নটি করেন নি যে,দক্ষিন প্রবাহেজার্মানির অংশগ্রহনে তিনি রাজি কি না.যদিও গাজপ্রোমএই প্রক্লপে নিজেদের ৫০ ভাগ শেয়ার হ্রাস করছে না.অন্যদিকে ইতালির শেয়ার মূল্যে ইতিমধ্যে দক্ষিন প্রবাহে ফ্রান্স যোগ দিয়েছে এবং এখন ইতালির শেয়ার মূল্যেই জার্মানী যোগ দিবে.ভ্লাদিমীর পুতিন কোন ধরনের কোম্পানী মূলত চাচ্ছেন ,বিশেষজ্ঞ একই সাথে এই বিষয়টিও উল্লেখ করেন.কনস্তান্তিন সিমোনোব বলেন,গত সপ্তাহ ধরেই দক্ষিন প্রবাহেভেন্তেরসহলকোম্পানীর অংশগ্রহন নিয়ে ব্যাপকভাবে কথা শোনা যাচ্ছে.ভেন্তেরসহল হল বিএএসএফ কোম্পানীর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান.বিএএসএফপ্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে রাশিয়ার উত্তর –পশ্চিম সীমান্তের ব্লাটিক সাগর হয়ে জার্মানী পর্যন্ত গ্যাসপাইপলাইন সরবরাহে উত্তর প্রবাহ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে.অপরদিকে ভেন্তেরসহল কোম্পানি রাশিয়ার গাসপ্রোম কোম্পানীর সাথে গত ২০ বছর যাবত সম্পর্ক রয়েছে.

ভ্লাদিমীর পুতিন দক্ষিন প্রবাহেঅংশগ্রহনকারী দেশের সংখ্যা যথা সম্ভব সঠিকভাবে বৃদ্ধির বিষয়ে আলোকপাত করেন.সিলভিও বেরলুসকোনি নিজের উত্তরে জানান যে,এটি হবে এই প্রক্লপের ইতিবাচক একটি অবদান.ইতালির সরকার প্রধানের এই সম্মতি একদিকে বিশেষ একটি কাজের স্বীকৃতি পেল.

প্রক্লপে নতুন রাষ্ট্রের অংশগ্রহনের কারণে সিলভিওকে বেরলুসকোনি তার নিজ দেশের এনিইকোম্পানীকে যতসামান্য শেয়ার পাওয়ার জন্য বাধ্য করতে হবে.সিলভিও বেরলুসকোনির যে ভাবে নিজের দায়িত্বে নিয়ে  কাজ করেছেন অবশ্য জার্মানী সেই ভাবে বিষয়টি নিবে না.তাদের অংশগ্রহনের ফলে হয়ত রাজনৈতিক ভাগাভাগির বিষয়টিও চলে আসতে পারে.যে বিষয়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন.আশার কথা হচ্ছে যে,ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই গ্যাস সরবরাহের নিয়ে অনেক বেশি আগ্রহ পরিলক্ষিত হবে.পূর্বে ভ্লাদিমীর পুতিন অবশ্য বলেছেন যে,যদি ইউরোপের প্রধান কোম্পানীসমূহ এই প্রকল্পে অংশগ্রহন করে তবে সরাসরি এই বিষয়টি হবে ইউরোপের একটি সাধারন বিষয়.এই বিষয়ে দেখতে পাওয়া যায় যে,কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে.সড়ক পথে গ্যাস পাইপলাইন পরিবহনের জন্য ইতিমধ্য যে সব রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিপত্র সই হয়েছে সেগুলো হল-বুলগেরিয়া,সেরবিয়া,হাঙ্গেরী,গ্রিস,স্লোভেনিয়া,ক্রোয়েশিয়া ও অস্ট্রিয়া.দক্ষিন প্রবাহেঅংশগ্রহন নিয়ে রুমানিয়া ও ম্যাসেডোনিয়ার আগ্রহ রয়েছে.আগামী ২০১৩ সন নাগাদ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং ২০১৫ সলের শেষ দিকে দক্ষিন প্রবাহে অংশগ্রহনকারী দেশসমূহে গ্যাস সরবরাহ করা হবে.