অসলোর নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে ২০১০ সনে নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়া চীনের মানবাধিকারকর্মী লিউ সিয়াওবোকে নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক মন্তব্য করা হচ্ছে.লিউ সিয়াওবোকে সমর্থনের জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে নোবেল কমিটিকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে.২০১০ সনে নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়া চীনের এই নাগরিক দীর্ঘদিন যাবত কারগারে বন্দি জীবন যাপন করছেন.নোবেলের অন্যান্য পরষ্কারের কোনটিই তেমন বিতর্কের সৃষ্টি করে না যা কিনা হয়ে থাকে নোবেল শান্তি পুরষ্কারের ক্ষেত্রে.কে পুরষ্কার পেল,মূলত সেই বিষয়টিই প্রধান নয়.বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা হয়.কিভাবে আমাদের পৃথিবীর উন্নয়ন হওয়া দরকার ও বর্তমান মূহুর্তে কোন বিষয়টি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ.লিউ সিয়াওবো – যিনি  হার্টিন-০৮নামের একটি বইয়ের লেখক.ডকুমেন্টারি শীর্ষক এই বইটি ২ বছর পূর্বে প্রকাশিত হয়.ঐ বইয়ে চীনের বুদ্ধিজীবিরা সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করে দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনের আহবান জানান এবং একপক্ষীয় পার্টি ভেঙ্গে ফেলার দাবী জানায়.২০০৯ সনের ডিসেম্বর মাসে চীনের আদালত লিউ সিয়াওবোর ১১ বছর কারাদন্ড দেন.চীনের সরকার একদিকে লিউ সিয়াওবোকে জাতীয় বীর হিসাবে স্বীকার করে না.চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মূখপাত্র মা চজাওসউই বলেন, লিউ সিয়াওবো চীনের আইন ভঙ্গ করেছে ও আদালত তাকে এর জন্য কারাদন্ড দিয়েছে.লিউ যা করেছেন,সে বিষয়ে চীনের কূটনীতি ব্যখ্যা করেন.এবং তার ভাষায় ,যা নোবেল শান্তি পুরষ্কার প্রদানের উদ্দেশ্যেকে লঙ্ঘন করে.এদিকে নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য লিউ সিয়াওবোর নাম ঘোষণার পরই বেইজিং নোবেল শান্তি পুরষ্কারের চরম নিন্দা করেছে.চীনের আন্তর্জাতিক ইন্সটিটিউটের প্রধান ছিউ সিন বলেন,এই সিদ্ধান্ত নোবেল শান্তি পুরষ্কারের ইমেজকে ক্ষুন্ন করেছে’.অপরদিকে ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তকে যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন.ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি জোজে বারোজোউ বলেন, শান্তি পুরষ্কারের জন্য নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত সবথেকে বড় একটি সমর্থন বিশ্বের সেই সব মানুষের জন্য যারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করে যাচ্ছে.ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরনার কুশনের অসলোর সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন দিয়ে লিউ সিয়াওবোকে মুক্তি দেওয়ার আহবান জানান.জাতিসংঘের উচ্চু কক্ষের কমিশনার নাভানেত পিলাই বলেন,লিউ সিয়াওবো হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষা আন্দোলনের প্রতিক.ইউরোপীয় ইউনিয়ন আদালতের প্রতিনিধি এজি বুজেক অতি দ্রুত ও আলোচনাব্যতিত নোবেল বিজয়ী লিউ সিয়াওবোকে মুক্তি দেওয়ার আহবান জানান.এছাড়া তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও চীনের সরকারে প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করেন.এদিকে রেডিও রাশির পর্যবেক্ষক লুজইয়ানিনা মনে করেন,নোবেল কমিটি এই বিষয়ে হয়ত রাজনৈতিক বিবেচনাকেই মূল্যায়ন করেছেন.কমিটি বিভিন্নভাবে এর কারণ ব্যখ্যা করেন.রাশিয়ার ডিপলোমেটিক বিশ্ববিদ্যালয়(এমগিমো)অধ্যাপকসেরগেই লুজইয়ান বলেন,আমার মতে চীনের সম্পর্কে নোবেল কমিটির এটি কঠিন একটি ধাপ.এই বিষয়ে মার্কিন ফন্ড ও সংস্থার পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে যারা নিয়মিতভাবেই চীনে এবং বিশ্বে মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে মন্তব্য করে.লিউ সিয়াওবোকে নোবেল শান্তি পরষ্কার প্রদানের বিষয়টি একশত ভাগই যুক্তিযুক্ত.মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত এশিয়া ও আফ্রিকা ইন্সটিটিউটোর সহকারি পরিচালক আন্দ্রেই কারনেব রেডিও রাশিয়াকে অবশ্য বললেন ভিন্ন কথা.তিনি বলেন,অনেককিছুই বিচার করা যায়,লিউ সিয়াওবো ও তার সহকর্মীরা হার্টিন-০৮এ যে মতামত তুলে ধরেছেন,চীনে যারা এই বই স্বাক্ষর করেছেন তাদের থেকেও অনেক বেশি লোকজন ভাগা-ভাগি হয়ে যাচ্ছে.অনেক চীনা নাগরিকও খোলামেলা এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি না.বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুসারে,চীনের প্রভাবশালীরা এই বিষয়ে তেমন মন্তব্য করেন নি.এটি বিভিন্ন দলের মতামত ও ধারনা.আন্দ্রেই কারনেব স্মরণ করে বলেন যে,জানুয়ারি মাসে চীনের কমিউনিষ্ট পার্টির পক্ষথেকে খোলা চিঠিতে লিউ সিয়াওবোর বিষয়ে কঠোর এই সিদ্ধান্ত পুনঃপর্যালোচনার জন্য হু জিনতাওয়ের প্রতি আহবান জানান হয়.এখন অনেক বড় প্রশ্ন-লিউ সিয়াওবোকে মুক্তি দেওয়ার নিয়ে বিশ্বব্যাপী ক্যাম্পেইন হয়ত ফলাফল ছাড়াই শেষ হবে;বিপক্ষীয় ধারায়-রাজনৈতিক কাঠামোকে সতর্কতার সহিত ধীরগতিতে ও সাবধানতা অবলম্বন করেই তা ভেঙ্গে বা অন্য দিকে মোড় নিবে.