মস্কোয় আন্তর্জাতিক রোয়েরিখ শিল্পী কেন্দ্রেরউপরে উত্তোলিত রয়েছে বিখ্যাত প্রতীক সহ সাদা শান্তির পতাকাঃ লাল একটি বৃত্তের ভিতরে তিনটি লাল গোলা. এ পতাকা উত্তোলিত হয়েছে রোয়েরিখ প্যাক্টের ৭৫ বছর নামে আন্তর্জাতিক সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের (৯-১১ই অক্টোবর) সম্মানে.   রাশিয়ার চিত্রকর, মনীষী ও পর্যটক নিকোলাই রোয়েরিখ ৭৫ বছর আগে শিল্পকলা ও বৈজ্ঞানিক সংস্থা এবং ঐতিহাসিক স্মৃতি স্মরণিক সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তির রচয়িতা হন. রোয়েরিখ প্যাক্টের বয়ান বড় নয়- ভূমিকা এবং কয়েক পৃষ্ঠায় বর্ণনা করা আটটি ধারা. কিন্তু এ দলিলটি সংস্কৃতি সম্বন্ধে এবং মানুষের বিকাশে তার গুরুত্ব সম্বন্ধে গোটা উপলব্ধি আক্ষরিক অর্থে পালটে দিয়েছে. নিকোলাই রোয়েরিখের সংস্কৃতির মাধ্যমে জগত, সংস্কৃতি- সভ্যতার মর্মস্থল, সংস্কৃতি- এ হল আলোক- এ ধারণাগুলি সঙ্গে সঙ্গে গৃহীত হয় নিঃ ১৯৩৫ সালে এ দলিল স্বাক্ষর করেছিল ২২টি দেশ, উল্লেখ করেন সম্মেলনের অংশগ্রহণকারী ইতিহাসবিদ আলেক্সান্দর স্তেতসেনকোঃ   দুঃখের বিষয়, সে সময়ে রোয়েরিখ প্যাক্ট ইউরোপও স্বাক্ষর করে নি, সোভিয়েত ইউনিয়নও নয়. অথচ নিকোলাই রোয়েরিখ স্বাক্ষর করার আহ্বান জানান, কারণ তিনি অনুমান করেছিলেন ইউরোপের কি বিপদ ঘটতে পারে আসন্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে, কিন্তু তাঁর কথায় তখন কেউ কান দেয় নি. বিপুল ধ্বংসের অভিজ্ঞতা অর্জন করে ইউরোপীয় জনসমাজ ১৯৫০ সালে এ বিষয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এবং তখন ভিত্তি ঙিসেবে গ্রহণ করা হয় রোয়েরিখ প্যাক্ট. কিন্তু যে সব ধারণা নিকোলাই রোয়েরিখ চুক্তিতে উল্লেখ করেছিলেন, আর সঠিকভাবে বললেঃ সাংস্কৃতিক সম্পদের সমস্ত বস্তু এবং তার কর্মীদের শর্তহীন সংরক্ষণ, উপরন্তু শুধু যুদ্ধের সময়েই নয়, শান্তির যুগেও,- এখনও আন্তর্জাতিক আইনবিধিতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয় নি. ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে, হেগ কনভেনশন , বা তার পরবর্তী দুটি প্রটোকল সাংস্কৃতিক সম্পদের বস্তুগুলির নির্ভরযোগ্য সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করে না. তার উজ্জ্বল প্রমাণ দিয়েছে কোসোভোর সঙ্ঘর্ষ, ইরাকে ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ. সেইজন্য এ সমস্যাটি বিশেষ করে জরুরী,   তা-ই সম্মেলনে মুখ্য স্থান অধিকার করবে. ঐতিহাসিক অংশের পরিপুরণ করবে ফোটো-প্রদর্শনী রোয়েরিখ প্যাক্টের ৭৫ বছর,যা ইতিমধ্যে দেখানো হয়েছে পৃথিবীর বহু দেশে. এ প্রদর্শনীর আয়োজক তাতিয়ানা ইভানোভা স্মরণ করেন কিরকম প্রতিক্রিয়া মেক্সিকোর দর্শকদের, যখন প্রদর্শনীটি দেখানো হয়েছিল নিরস্ত্রীকরণ সংক্রানিত সম্মেলনের কাঠামোতেঃ   তাতিয়ানা ইভানোভা উল্লেখ করেন, সর্বপ্রথমে, প্রতিক্রিয়া যুবসমাজের- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের, এমনকি স্কুল-শিক্ষার্থীদের. সবচেয়ে আন্তরিক সাড়া জাগে যুবজনের মনে. পৃথিবীতে নিরস্ত্রীকরণ যতই হোক না কেন, যতক্ষণ সংস্কৃতি থাকবে বিতাড়নের অবস্থায়, আমরা আমরা তাড়াতাড়ি নিরস্ত্রীকরণ করতে পারব না. সেইজন্য রাষ্ট্রীয় কর্মীদের প্রস্তাব করা হয়েছিল শিক্ষার সূচির দিকে মনোযোগ বাড়ানোর. আর তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম এমন ধ্বংস ও বর্বরতা ঘটতে দেবে না, যেমন আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি সংস্কৃতি ও স্মৃতিসোধের প্রতি. রাশিয়ায় এমন প্রদর্শনী হয়েছে প্রায় ৫০০টি- বহু মিউজিয়ামে, সংস্কৃতি সংস্থায়. তার প্রতিধ্বনি- লোকে নিজেরাই নিজের নিজের জায়গায় স্মৃতিসৌধের সংরক্ষণে যোগ দিচ্ছে.   প্রসঙ্গত, সম্মেলনের সূচিতে শিক্ষা বিষয়ে রিপোর্টও আছে. আর মোটামুটিভাবে, অংশগ্রহণকারীদের বিন্যাস বিচার করে বোঝা যায় যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিকোলাই রোয়েরিখের সৃষ্টিশীল কাজ বহু বিজ্ঞানীর আগ্রহ জাগায়ঃ আর শুধু রাশিয়ারই নয়, অন্যান্য দেশেরও, যেমন অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, মঙ্গোলিয়া, ইউক্রেন, বুলগেরিয়ার বিজ্ঞানীদেরও.