রাশিয়ার প্রথম নতুন সারির মহাকাশযান "সইউজ টি এম আ – ০১ এম" আজ রাতে সাফল্যের সঙ্গে বৈকানুর উড়ান কেন্দ্র থেকে রওয়ানা হয়েছে. মহাকাশযান সওয়ার হয়ে গিয়েছেন রাশিয়া কসমোনট আলেকজান্ডার কালেরি ও ওলেগ স্ক্রিপোচকা এবং নাসার অ্যাস্ট্রোনট স্কট কেল্লি, তারা আধুনিকীকরণের পর মহাকাশযানের ডিজিট্যাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা শুরু করেছেন. দুই দিন পর তাঁদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে জোড়া লাগতে হবে.

    "সইউজ" পরিবহন মহাকাশযানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় তিরিশটি ব্লক পাল্টে দেওয়া হয়েছে. "রেডিও রাশিয়া"কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থার তথ্য ও জনসংযোগ সচিব আলেকজান্ডার ভরোবিয়ভ বলেছেন উড়ানের সময়ে দেখতে হবে মহাকাশের পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থা কতটা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করতে পারে, তিনি আরও বলেছেন:

    "এই উড়ানের কর্মকর্তা ভিতালি লাপোতা জানিয়েছেন এক আনন্দ সংবাদ: প্রায় ৭০ কিলোগ্রাম বাড়তি মাল এরপর থেকে সইউজ মহাকাশযানে নেওয়া যাবে, কারণ ডিজিট্যাল নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি আরও ভাল করে লাগানো সম্ভব হয়েছে. আর এই সুযোগ মহাকাশচারীদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় বাড়তি মাল নেওয়ার জন্য কাজে লাগানো সম্ভব হয়েছে. অনেক কিছুই করা হয়েছে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি আধুনিকীকরণ করার জন্য. মহাকাশের পরিস্থিতিতেই সমস্ত কিছুর পরীক্ষা করা হবে. মহাকাশচারীর দল এই কাজ করার জন্য তৈরী".

    আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আজকের মহাকাশচারীরা প্রায় ছয় মাস থাকবেন. এই সময়ের মধ্যে তাঁরা তিনবার খোলা মহাকাশে বার হবেন এবং প্রচুর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করবেন. এ ছাড়া বহু মহাকাশযান ও পৌঁছবে এই সময়ের মধ্যে, রাশিয়ার কয়েকটি "সইউজ"  "প্রোগ্রেস" শ্রেণীর মহাকাশযান এবং ইউরোপীয় সংস্থার মহাকাশযান এবং জাপানের একটি মালবাহী মহাকাশযান. এই অভিযানের সদস্যরা তাছাড়া আরও দুটি আমেরিকার শাটল সাক্ষাত্ করবেন, তার পর নাসা শাটল পাঠানোর প্রকল্পই বন্ধ করে দেবে. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে লোক পাঠানোর কাজ শুধু রাশিয়ার "সইউজ" মহাকাশযান করবে. এই সম্বন্ধে উড়ানের আগে নাসার অ্যাস্ট্রোনট স্কট কেল্লি বলেছেন:

    "আমার মতে এটা ভাল যে, আমাদের রাশিয়ার সহকর্মীরা আছে, তা না হলে এখন মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছনো সম্ভব হত না. যদি আমরা এই মহাকাশ ক্ষেত্রে আগে এগোতে চাই, তবে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একসাথে সহযোগিতা করতেই হবে, কারণ অর্থনৈতিক কারণে আমরা শাটল পাঠানোর প্রকল্প বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছি ও তার বদলে নতুন মহাকাশযানের ব্যবস্থা করছি".

    আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মহাকাশচারীরা ফ্রান্সে থাকা রুশ লোকেদের অনুরোধে লেভ তলস্তয়ের শততম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জীবত্কালেই প্রকাশিত সেভাস্তোপোলের গল্প নামের বই টিকে পৌঁছে দেবেন. উড়ানের আগে সইউজ মহাকাশযানের কম্যাণ্ডার আলেকজান্ডার কালেরি বলেছেন:

     "রুশ লোকদের, সেভাস্তপোল কি প্রশ্ন করা হল যেমন, কে লেভ তলস্তয় তা প্রশ্ন করার মতো বোকা ব্যাপার".    রাশিয়ার প্রথম নতুন ডিজিট্যাল নিয়ন্ত্রিত "সইউজ টি এম আ – ০১ এম" শ্রেণীর মহাকাশযান উড়ানের সময় সাহায্য করেছে আটটি বিমান, বারোটি হেলিকপ্টার এবং রাশিয়ার উদ্ধার ও ত্রাণ কাজের জন্য ব্যবহার যোগ্য "আন্টার্কটিডা" নামের জাহাজ.