খান দশেক নতুন খবরের কাগজ, রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেল – আর বুনো ঘাসের জঙ্গলে ঢেকে যাওয়া একদা সফল শিল্পের কারখানা ও সরকারি খামার. কাবুলে আন্দোলিত রাজনৈতিক জীবন – আর সম্পূর্ণ ভাবে ভাঙা চোরা প্রাদেশিক সড়ক ও রাজপথ. কিছুতেই কমতে না চাওয়া উদ্বাস্তু দের সংখ্যা – আর রেকর্ড পরিমান আফিমের ফসল. আর এর সঙ্গে ক্রমাগত চলা যুদ্ধ, যুদ্ধ আবারও যুদ্ধ – আর সন্ত্রাসের হানা. আন্তর্জাতিক জোটের তালিব শাসনের বিরুদ্ধে অপারেশনের নবম বর্ষ পূর্তি আফগানিস্থানে খুবই নানা রকমের মূল্যায়ণ করা হয়েছে.    যুদ্ধ কেউই পছন্দ করে না – আর বিশেষ করে গত দশকে নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধে ক্লান্ত আফগান লোকেরাও. কিন্তু তালিবদের ধ্বংস করার অপারেশন চলার সময়ে অনেকেই – শুধু দেশের উত্তরেই নয়, কেন্দ্রে এমনকি দক্ষিণেও আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন. এই আশা কি গত পুরো না হওয়া দশ বছরে মিটেছে? এই প্রশ্ন নিয়ে আমরা কাবুলে বিশেষজ্ঞদের কাছে গিয়েছিলাম. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জাফর রাসুলি বলেছেন:    "গত নয় বছরে আফগানিস্থানে অনেক কিছুই পাল্টে গিয়েছে, ভালর দিকেও হয়েছে. সব চেয়ে বড় বিজয় গণতন্ত্রের স্থাপন ও আল কায়দা এবং তালিবদের ক্ষমতা থেকে দেশকে উদ্ধার. বর্তমানে অবশ্যই আফগানিস্থানে সব কিছু ঠিক নেই, কিন্তু তর্কাতীত একটাই সেটা সমস্ত দলের রাজনীতিতে জাত পাত না দেখে সমান অংশ গ্রহণ, এমনকি মহিলাদেরও. বর্তমানে দেশের পার্লামেন্টে শতকরা নয় ভাগ মহিলা ও গত ১৮ই সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে দেখা গিয়েছে যে, মহিলারা কতটা এগিয়ে এসেছেন. এটা অবশ্যই ভাল লক্ষণ. সন্ত্রাসবাদ কমানো হয়ত সম্ভব হয় নি, কিন্তু এটা ন্যাটো জোটের সৈন্যদের পরাজয়".    আমরা অবশ্যই মানব যে, স্বাধীন নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক, কিন্তু গত নির্বাচনে দেশের শতকরা কত ভাগ মানুষ ভোট দিতে পেরেছিলেন? অনেক গ্রামেই এত কম লোক ভোট দিতে এসেছিলেন যে, তাকে আর যাই হোক নির্বাচন হয়েছে বলা যায় না.    এটা হঠাত্ করেই হয়নি বলে আমাদের অন্য উত্তর দাতা মনে করেন. দেশের পার্লামেন্ট সদস্য এবং রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রাক্তন প্রার্থী নুরুল হক উলুমি বলেছেন:    "সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে মোকাবিলাই শুধু ব্যর্থ হয় নি, অর্থনৈতিক অবস্থাও সঙ্গীণ হয়েছে. ২০০১ সাল থেকে তালিবান ও আল কায়দার হাত থেকে আফগানিস্থানকে উদ্ধার করার নাম করে বহু আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার একটাও পূরণ করা হয় নি. যদিও বোঝা যায় না এই জোট সৈন্যদের কে বা কারা কাজ করতে দেয় নি এই দেশে?  প্রাথমিক ভাবে জনতা তো সমর্থনই করেছিল, কিন্তু বর্তমানে প্রতি  দিনের সঙ্গে দেশের পরিস্থিতি শুধু খারাপই হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে. আন্তর্জাতিক নানা সংস্থার হিসাবে আফগানিস্থানে প্রতি বছর বহু বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তাহলে প্রশ্ন সেই অর্থ কোথায় গেল বা কার পকেটে ঢুকেছে? আমাদের দেশের বিদ্যুত উত্পাদন কেন্দ্র গুলিকে আবার চালানো সম্ভব, কিন্তু আমরা এখনও দেশের বাইরে থেকে বিদ্যুত কিনছি. যদি দেশে সামান্য নিরাপত্তাও থাকত, তাহলেও বোঝা যেত বিদেশী সৈন্যরা এখানে কি করছে. যদি তারা নিজেদের নিরাপত্তাই রক্ষা করতে না পারে, তবে তাদের থেকে কি লাভ"?    এই রকম পরস্পর বিরোধী মন্তব্য আমরা আফগানিস্থানে পেয়েছি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে গত নয় বছরের মূল্যায়ণ হিসাবে. অনেকেই মনে করেন যে, আজ এই দেশ এক লক্ষ্য নির্ণয়ের সামনে পৌঁছেছে, এখন এই দশম তালিব শূণ্য বছরে দেখতে হবে আফগানিস্থানের লোকেরা কোন পথ বেছে নিচ্ছেন, আমরা তাদের সব সময়েই ভাল চাইব আগামী সমস্ত বছর গুলিতে.