ইউরোপকে সব চেয়ে বড় গ্যাস সরবরাহ কারী দেশেরা দৃঢ় ভাবে সমর্থন করেছে যে, ইউরোপ থেকে বলা দীর্ঘ কালীণ চুক্তির বিষয়ে "নাও অথবা দাম দাও" চুক্তি গুলিকে পুনর্বিবেচনা করার যে আহ্বান এসেছে তা আসলে "পবিত্র গরুর মতো বিষয়", অর্থাত্ তা ছোঁয়া যাবে না. এই অবস্থান রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের বুধবার আলজিরিয়া সফরের সময়ে বলা হয়েছে. তাই রাশিয়া ও আলজিরিয়া বলা যেতে পারে যে, ইউরোপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে.    এটা কোন দাম সংক্রান্ত আগে থেকে বেঁধে দেওয়ার মতো বিষয় নয়, যা যখনই রাশিয়া আলজিরিয়া, কাতার, লিবিয়া ও অন্যান্য বিশ্বের নেতৃত্ব দান কারী গ্যাস উত্পাদক দেশ গুলির সঙ্গে আলোচনা করেছে সেই সব সময় গুলিতে পশ্চিম ইউরোপে সবচেয়ে বেশী করে ভয় পাওয়ার প্রশ্ন. ইউরোপের জ্বালানীর বাজারে রপ্তানী কারক দের কাজকর্মের কোন রকমের ব্যবহার সম্বন্ধে যোগাযোগ করার কথা রাশিয়া ও আলজিরিয়ার রাষ্ট্রপতিদের বৈঠকের সময়ে হয় নি.    একই সময়ে আলজিরিয়া থেকে নতুন সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে. রপ্তানী কারক দেশ গুলিকে ইউরোপের সহকর্মী দেশ গুলির থেকে চুক্তিবদ্ধ পরিমান গ্যাসের দাম পূর্ব নির্ণিত মানেই দিতে বাধ্য. অবশ্যই এটা সত্য যে, ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য এলাকার তুলনায় দেরীতে অর্থনৈতিক সঙ্কটের হাত থেকে বেরোতে পারছে ও সেখানে গ্যাসের প্রয়োজনও কমেছে. এটাও ঠিক যে, গ্যাসের দামের সঙ্গে খনিজ তেল ও তার থেকে উত্পন্ন জিনিসের দামের পারস্পরিক সম্পর্ক চাহিদার খুবই দ্রুত ওঠা নামার ফলে এবং বিশ্বের বাজারের ফাটকা বাজদের কাজের ফলে সঠিক নয়. কিন্তু গ্যাস উত্পাদকদের, এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার গাজপ্রম ও আলজিরিয়ার কোম্পানী "সোনাত্রাক" এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল রপ্তানী থেকে স্থিতিশীল আয়ের. এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব নয়.    তার ওপরে রাশিয়া আরও সক্রিয় ভাবে বিদেশী খনিজ তেল ও গ্যাস উত্পাদনের কাজে বিনিয়োগ করছে. উত্পাদনের জায়গা ক্রয় থেকেই পরবর্তী কালে আলজিরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেতে চলেছে, এই কথা ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার গাজপ্রম কোম্পানীর প্রধান আলেক্সেই মিল্লের, তিনি বলেছেন:    "আমরা আগামী টেন্ডারে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি, যা ইতিমধ্যেই আলজিরিয়ার পক্ষ থেকে ডাকা হয়েছে. আমরা পরিকল্পনা করেছি ভূ তাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও উত্পাদনের ক্ষেত্রে যৌথ ভাবে কাজ বাড়ানোর".    একই রকম ভাবে নূতন জায়গা কেনা দিয়েই রাশিয়া লাতিন আমেরিকার জ্বালানী বাজারেও নিজেদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে চাইছে. বুধবারে মস্কোতে এক চুক্তি সই করা হয়েছে, যার ফলে ফ্রান্সের "টোটাল" কোম্পানী নিজেদের ভাগ থেকে বোলিভিয়ার দুটি গ্যাস উত্তোলনের জায়গার ভূ তাত্ত্বিক অনুসন্ধানের কাজ দিয়ে দিয়েছে. ২০১৩ সালেই সেখানে গ্যাস উত্তোলনের কাজ শুরু হয়ে যাবে. একই সঙ্গে রাশিয়া বিশেষজ্ঞরা বোলিভিয়ার লোকেদের সাহায্য করছেন জাতীয় গ্যাস পরিবহন ব্যবস্থা তৈরী করার জন্য.    এই ক্ষেত্রে দেখার মতো বিষয় হল চীনের সঙ্গে প্রথম যৌথ প্রকল্প – খনিজ তেল পরিশোধন কারখানা তিয়ানশেজিন শহরে. এই কারখানা পরিকল্পিত হয়েছে পরবর্তী কালে পূর্ব সাইবেরিয়ার থেকে নতুন পাইপ লাইন দিয়ে পাঠানো খনিজ তেলের পরিশোধনের জন্যই. এই প্রকল্পের ব্যবসায়িক ব্যবহার আগামী বছরের জানুয়ারী থেকেই শুরু হবে. একই ধরনের নীতি এখানেও উপযুক্ত লাভজনক জায়গা বিনিময়. বর্তমানে রাশিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়া অবধি গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর কথা ভাবা হচ্ছে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে পশ্চিম ইউরোপের দেশ গুলির সঙ্গে সহযোগিতার মতই আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে গ্যাস পরিবহনের পরিকাঠামো ও বণ্টন কেন্দ্রে নিজেদের জন্য জায়গা করে নেওয়ার. ইউরোপীয় লোকেরা বলছে না, তা হবে না. একই সঙ্গে ঘোষণা করছে যে, তারা জ্বালানীর বাজারে খোলা মেলা পরিবেশ চায়. সব দেখে শুনে মনে হয়েছে, যে রাশিয়ার আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার সহকর্মী দেশেরা, যখন পারস্পরিক ভাবে লাভজনক সহযোগিতার কথা ওঠে তখন কোন রকমের কৃত্রিম বাধা তৈরী করতে চায় না.