আফগানিস্থানে আন্তর্জাতিক জোটের কাজকর্ম খুবই সমালোচনা করেছেন. জোটের পক্ষে এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদীদের তালিম দেওয়ার জায়গা গুলিকে ধ্বংস করা সম্ভব হয় নি, ন্যাটো জোট দেশের সামরিক বাহিনীর তালিমের কাজও বাস্তবে নষ্ট করে দিয়েছে. যদিও, এই দুই দিকের কাজেই আন্তর্জাতিক জোটের কাজ কারবার বেশী হওয়ার কথা ছিল.    তাহলে কি হল? কারণ নিজেদের সময়ে সোভিয়েত উপদেষ্টাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল আফগানিস্থানের সামরিক বাহিনীকে যথেষ্ট উঁচু মানে পৌঁছে দিতে. সোভিয়েত সেনা বাহিনীর ফিরে আসার পরে তারা বেশ কয়েক বছর ধরে মোজাহেদ দের মোকাবিলা করতে পেরেছিল, যাদেরকে পাকিস্থান থেকে সৌদি আরব ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সাহায্য করা হত. তাদের সাফল্যের চাবি কাঠি কি ছিল? যা সম্ভবতঃ আজ ন্যাটো জোটের কাছে নেই.    আফগানিস্থানের প্রাক্তন প্রধান সামরিক উপদেষ্টা লেভ গরিয়েলভ মনে করেন যে, কোন গোপন কথা এর মধ্যে নেই, তিনি বলেছেন:    "একটাই এর মূল কথা. আমরা আফগানিস্থানের জেনেরাল, অফিসার সকলকে আমাদের সমান মনে করতাম ও তাদের সঙ্গে একটা ভরসা করার মতো মানুষের উপযুক্ত সম্পর্ক তৈরী করতে পেরেছিলাম. এটাই অনেক ক্ষেত্রে কাজের আবহাওয়া তৈরী করতে পেরেছিল. তাই অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই যে, আমাদের সমস্ত পরামর্শ, উপদেশ, প্রস্তাব, আর যখন দরকার পড়েছে, তখন আমাদের দাবী, আফগানিস্থানের পক্ষ থেকে বিন্দু মাত্র সন্দেহ না করে মেনে নেওয়া হয়েছিল. আর আফগানিস্থানের সামরিক অফিসারদের পক্ষ থেকে এই রকমের বিশ্বাসের কারণ ছিল সোভিয়েত উপদেষ্টাদের উঁচু দরের পেশাদারী ক্ষমতা. সব দিক থেকে বিচার করলে, বর্তমানের বিদেশী উপদেষ্টারা, বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষকেরা আফগানিস্থানের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে এই ধরনের বিশ্বাস অর্জন করতে পারে নি".    রেডিও রাশিয়ার সমীক্ষক পিওতর গনচারোভ মনে করেন যে, ন্যাটো আফগানিস্থানে স্রেফ আফগানিস্থানের সমরের ঐতিহ্যকে গৌণ করেছে. তিনি বলেছেন:    "নতুন সমরাস্ত্র ও কৌশলের ক্ষেত্রেও আমরা সবার আগে আফগানিস্থানের যোদ্ধাদের নীতিকে বিচার করে দেখেছি. এর জন্য উঁচু পদের অফিসারদের কাবুলে আগে পড়ানো হত, যা আজকে বলা যেতে পারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, দরকার নাকি নেই বলে. বিশেষ দল তৈরী করা হয়েছিল, যারা পদাতিক, ট্যাঙ্ক ও কামান বাহিনীর জন্য উপদেষ্টা ছিল. এই সমস্ত নির্দেশ দেওয়া হত আফগানিস্থানের পুস্তু ভাষায় তাদের প্রচলিত বাক্য ব্যবহার করেই. এই সবই করা হয়েছিল আফগানিস্থানের সেনাদের জন্য, যাদের মধ্যে বেশীর ভাগই ছিল পুস্তুন প্রজাতির. ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই আফগানিস্থানের সেনা বাহিনীকে নিজেদের মাপ মতো বানিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হয়েছিল, তা হয় নি, শুধু সময় বয়ে গিয়েছে.    সন্ত্রাসবাদীদের এই অঞ্চলে ধ্বংস করার সম্বন্ধে বলা যেতে পারে যে, এর জন্য ন্যাটো জোটকে না দোষী করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযোগ করা যেতে পারে. কারণ ন্যাটো জোট রয়েছে আন্তর্জাতিক মিশনে, আর তাদের কোন ক্ষমতা নেই আফগানিস্থানের সীমানার বাইরে যুদ্ধ করার. তার মধ্যে পাকিস্থানের অঞ্চলও পড়ে. সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি সম্বন্ধে বলতে গিয়ে কারজাই যতই না দেখতে চান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি দিনই ড্রোন ব্যবহার করে এই গুলিতে আঘাত করছে, আর তা একেবারে বিফল হচ্ছে, তা বলা যায় না. কিন্তু এই ধরনের আঘাতই যথেষ্ট নয়. আর কাবুলের সময় হয়েছে এই প্রশ্নটাই শক্ত করে ইসলামাবাদের সামনে করার, তার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটকেও করা উচিত্. পাকিস্থান ছাড়া আফগানিস্থানের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়. এটা সব সময়েই এরকম ছিল, আর সম্ভবতঃ পরেও তাই থাকবে".