পর্যটকদের জন্য মহাকাশে প্রথম পাঁচতারা হোটেল খোলার কথা ভেবেছে রাশিয়ার কোম্পানী "কক্ষ পথের প্রযুক্তি". নতুন প্রজন্মের মহাকাশ স্টেশনে চারটি বড় জানালা সমেত আরামের ঘর তৈরী করা হবে. একসঙ্গে সাত জন পর্যটক শুধু মহাকাশের দৃশ্যই শুধু দেখতে পাবেন না, তারা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাতেও অংশ নিতে পারবেন. এই মহাকাশের হোটেলে ঘর ভাড়া করতে পারবেন যে কোন ইচ্ছুক ব্যক্তি.    ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এই হোটেল নির্মাণ ও তার পরিষেবার বন্দোবস্ত করবে রাশিয়ার রকেট মহাকাশ কর্পোরেশন এনার্জি, যারা গত চল্লিশ বছর ধরে বহু জটিল মহাকাশের যন্ত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পেরেছেন, তারা বর্তমানে এই প্রকল্পের কাজে নিরত হয়েছেন. আমরা আশা করছি এই মহাকাশ স্টেশন শুধু মহাকাশের পর্যটকদের জন্য হোটেল হিসাবেই কাজ করবে না – বলেছেন "কক্ষ পথের প্রযুক্তি" কোম্পানীর প্রধান সের্গেই কোস্তেঙ্কো. তিনি যোগ করেছেন:    "এই কক্ষ পথের ব্যবস্থা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক. আমরা সেখানে বড় মাপের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করার কথা ভেবেছি. আমরা ভবিষ্যতের আন্তর্গ্রহ অভিযানের জন্য এই স্টেশনকে ব্যবহার করব ভাবছি. যেমন, মঙ্গল গ্রহ অভিযানের জন্য. এছাড়া এই স্টেশন নিয়ে অন্য পরিকল্পনা রয়েছে. এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের জন্য একটি ত্রাণ কেন্দ্র হতে পারে বলেও মনে করা হয়েছে. স্টেশন তৈরী করতে প্রায় তিন বছর লাগবে. শুরু করা হবে বোধহয় ২০১২ -১৩ সালে. যাতে ১৫ -১৬ সালে স্টেশনটিকে পাঠানো যেতে পারে. কেন ১৫ -১৬ সাল? কারণ এই সময়ের মধ্যে "বোয়িং""এনার্জি" কোম্পানী বাজারে বহুবার ব্যবহার যোগ্য মহাকাশ শাটল নিয়ে আসবে, সেগুলি ছয়- সাত জনের জন্য. অর্থাত্ আমাদের যথেষ্ট সফল মহাকাশ পর্যটক পাঠানো ও ফেরত আনার ব্যবস্থা থাকবে. এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে".    রাশিয়ার নতুন মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে শুধু সইউজ বা প্রোগ্রেস ধরনের রকেটই জোড়া লাগানো সম্ভব হবে না, অন্যান্য দেশের মহাকাশ শাটল কেও জোড়া লাগানো সম্ভব হবে. সম্ভাবনা রয়েছে এই মহাকাশ হোটেল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কাছের কক্ষ পথে পৃথিবীকে ঘিরে পাক খাবে. তারা এক সঙ্গে কাজও করতে পারবে. প্রয়োজনে পড়লে দুই স্টেশন একে অপরের জন্য ত্রাণ কেন্দ্র হতে পারবে.    "কক্ষ পথের প্রযুক্তি" কোম্পানী বেশ কিছু গ্রাহকের সাথে চুক্তি করেছে, শিল্প ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রশাখার সাথে. তাদের আগ্রহের কারণ হয়েছে, মহাকাশে চিকিত্সা বিজ্ঞান নিয়ে অনুসন্ধান করার, প্রোটিন থেকে কৃস্টাল তৈরী করার সম্ভাবনা, ধাতু নিয়ে কাজ কর্ম করা, আর তার সঙ্গে মানচিত্র তৈরীর কাজ ও বিশ্বকে দূর থেকে লক্ষ্য করার কাজ. সংবাদ মাধ্যম নিয়েও কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে.    এ ছাড়া নতুন স্টেশন হবে দ্বিতীয়, যা সৌর মন্ডল সম্বন্ধে গবেষণা করা জন্য দ্বিতীয় প্রকল্প হতে চলেছে. মহাকাশ হোটেলে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে চাঁদের কাছে পর্যটন করা যেতে পারে রাশিয়ার আধুনিকীকরণের পর নূতন সইউজ রকেট চড়ে. আর পর্যটকদের জন্য অবশ্যই সবচেয়ে মুখ্য হল, অদূর ভবিষ্যতে ছুটি কাটানো যাবে শুধু সমুদ্র তীর বা পাহাড়ের নীচেই নয়, মহাকাশেও, মহাকাশ স্টেশনের আরাম দায়ক ঘরে বসে.