রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর তীরের সোচী শহরে আজ প্রথম বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে. এই সম্মেলন চলবে দুই দিন. রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখানে নেতৃত্ব দেবেন নিরাপত্তা সভার সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভ. এই প্রসঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ভিক্তর এনিকিয়েভ তাঁর ধারণা প্রকাশ করেছেন.

    উল্লেখ করার প্রয়োজন আছে যে, মস্কোর পক্ষ থেকে এই বৈঠকের আয়োজন করার কথা বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সমর্থন পেয়েছে. শুধুশুধুই তো আর এখানে রাষ্ট্রসংঘ, এশিয়া, দুই আমেরিকা ও ইউরোপের ৪৪ টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা জড় হন নি. এঁরা সকলেই দেশ ও নানা সংস্থার নিরাপত্তা দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মী ও মন্ত্রী পর্যায়ের মানুষ. স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের তরফ থেকে এখানে এসেছেন ইউক্রেন, কাজাখস্থান, বেলোরাশিয়া, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের প্রতিনিধিরা.

    সোচী বৈঠকের প্রতি আগ্রহের কারণ বোধগম্য. বর্তমানের দ্রুত বিশ্বায়ন হওয়া পৃথিবীতে, দুঃখের হলেও, প্রতিনিয়তই নতুন বিপদ ও আহ্বানের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যা কোন দেশের সীমানা মানে না ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংরক্ষণের বিষয়ে ইতিহাসে বিরল. এগুলি হল সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত পার হয়ে অপরাধ, মাদক পাচার, বেআইনি অভিবাসন, বেআইনি মারণাস্ত্র পাচার ও পারমানবিক বস্তুর পাচার, জলদস্যূ সমস্যা এবং তথ্য নিরাপত্তা সংরক্ষণ. কোন দেশই একক ভাবে এই সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে পারছে না. তাই রাশিয়ার নিরাপত্তা সভার সচিব ইতার তাস সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে যেমন বলেছেন যে, বর্তমানে বাস্তবেই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে সম্মিলিত ভাবে এই সমস্ত বিপদের মোকাবিলা করার. সোচীতে যাঁরা জড় হয়েছেন, তাঁরা একসাথে ঠিক করবেন এই সমস্ত সমস্যা ও অন্যান্য বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি হবে.

    উল্লেখ যোগ্য যে, রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য আধুনিক বিপদের সাথে সংগ্রামের অভিজ্ঞতা কিছু কম নয়. এই দিকে রাশিয়া একক ভাবে ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশ হিসাবে কাজ করছে সক্রিয় ভাবে, এই সমস্ত সংস্থার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রসংঘ, স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহ, ইউরো এশিয়া অর্থনৈতিক সংস্থা, যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং ব্রিক দেশ সমূহ, যেখানে রয়েছে রাশিয়া ছাড়া চীন, ভারত ও ব্রাজিল.

    এটা বোঝাই যাচ্ছে যে, একটি মাত্র সম্মেলনেই, তা সে যত বড় পর্যায়েরই হোক না কেন, সমস্ত বর্তমান বিপদের বিরুদ্ধে সঞ্জীবনী মন্ত্র বের করা সম্ভব হবে না. কিন্তু এই সম্মেলন সাহায্য করতে পারে বর্তমান সময়ের ইতিহাসে অতুলনীয় বিপদ ও আহ্বানের বিরুদ্ধে বিশ্বাস যোগ্যতা ও ভরসা বৃদ্ধির কাজে, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা করার. রাশিয়ার জন্য এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ আগামী ২০১৪ সালে এই সোচী শহরেই শীত অলিম্পিকের আয়োজন করা হচ্ছে.