রাশিয়ার মহাকাশ অনুসন্ধান সংক্রান্ত আগামী একশ বছরের ভবিষ্যত বর্তমানে তৈরী করা হচ্ছে আমুর অঞ্চলের নব নির্মীয়মান রকেট উড়ান কেন্দ্র ভস্তোচনি শহরে. যেমন আশা করা হয়েছে, তেমনই বিশ্বের এই সর্বাধুনিক মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্র দুটি রকেট ছোঁড়ার প্ল্যাটফর্ম, একটি বিমান বন্দর, শিল্প কারখানা ও সংলগ্ন শহর সমেত তৈরী করা হচ্ছে. প্রাগে কয়েক দিন আগে ৬১তম অ্যাস্ট্রোনট সম্মেলনে এই সম্বন্ধে রসকসমস সংস্থার প্রতিনিধিরা বিবরণ দিয়েছেন.    আমুর অঞ্চলের রাজ্যপাল ওলেগ কোঝেমিয়াকো বলেছেন যে, আধুনিক কসমোড্রম – এটা আসলে একটি সম্পূর্ণ শহর তার কারখানা, রেল পথ ও সড়ক পথ শুদ্ধু. এই সবই তৈরী করা হবে পাঁচ বছরের মধ্যে. ২০১৬ সালে ভস্তোচনি থেকে প্রথম মহাকাশ যান পাঠানো হবে. এই নির্মাণ কার্যে অংশ নেবেন তিরিশ হাজার বিশেষজ্ঞ এবং কর্মী. তিনি আরও যোগ করে বলেছেন:    "এটি একটি নতুন মর্যাদা সম্পন্ন প্রকল্প, এই মেগা প্রকল্প শুধু আমুর অঞ্চলের জন্যই নয়, সমগ্র সুদূর প্রাচ্যের অঞ্চলের প্রকল্প – খাবারভস্ক থেকে ইয়াকুতিয়া অবধি. এই বিষয়েই বিদেশীরা বেশী উত্সাহিত হয়েছে. এখানে সুদূর প্রাচ্য সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অন্য ধরনের ধারণা করা হয়েছে".     কসমোড্রম সংলগ্ন শহর কেমন দেখতে হবে? এই শহর হবে অনুপম বৈজ্ঞানিক ও পর্যটন কেন্দ্র, এক কসমো ল্যান্ড, যেখানে ঐকতানে মিলবে সমস্ত ঘর বাড়ীর বহিরঙ্গ ও প্রকৃতি, এই ধারণা নিয়ে মস্কোর বিখ্যাত স্থপতি দিমিত্রি প্শেনিচনিকোভ বলেছেন:    "আমাদের দেশের সম্ভাবনা রয়েছে এমন কিছু তৈরী করা, যা কারও কখনও ছিল না. আমেরিকার নয়, ফরাসী, ইংরেজ, জার্মান, চীনে এমনকি ভারতীয় দেরও নয়. অর্থাত্ শুধু বিজ্ঞান নগরী বা রকেট ছোঁড়ার জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের জায়গা সমেত প্ল্যাটফর্ম তৈরী করাই নয়, বরং একটা পরিবেশ তৈরী করা হবে, যেখানে লোকে এমনকি এখানকার বিমানবন্দরে এসেই অনুভব করতে পারবে যে, তারা এক ভবিষ্যতের পরিবেশে এসে পৌঁছতে পেরেছে".    পঁয়ত্রিশ হাজার লোকের জন্য এই শহরের রূপ পরিকল্পনা করতে গিয়ে স্থপতিরা খেয়াল রেখেছেন যে, এখানে শুধু রাশিয়া থেকেই নয়, সারা বিশ্ব থেকেই পর্যটকরা আসবেন. তারা সেই সব হোটেলেই থাকবেন ও সেই সব রাস্তা দিয়েই যাবেন, যা ব্যবহার করবেন মহাকাশচারী, ইঞ্জিনিয়ার ও কসমোড্রমের বৈজ্ঞানিকেরা.    আমুর অঞ্চলের ভস্তোচনি কসমোড্রম তৈরী করা হচ্ছে নতুন প্রযুক্তিগত স্তর থেকে, অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার কে, যা ফরাসী গিনি অঞ্চলে কুরু মহাকাশ বন্দর বা দক্ষিণ কোরিয়ার কসমোড্রম তৈরী করার সময়ে হয়েছিল, এই কথা বলেছেন রসকসমসের প্রধান আনাতোলি পের্মিনভ:    "রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করা দরকার হবে বাস্তবে নতুন বাড়ী ও অন্যন্য জায়গা তৈরী করতে. আমি ভাবি যে, এটা আমাদের কাছে একটা কাজ – যাতে সমস্ত নতুন বিষয় আমরা ভস্তোচনি মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র নির্মাণে ব্যবহার করতে পারি".    রাশিয়ার মত বড় মহাকাশ গবেষণা বিষয়ে উন্নত দেশের জন্য বর্তমানে প্লিসেত্স্ক ও বৈকানুর মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র যথেষ্ট নয়. ভস্তোচনি শহরের দুটি রকেট ছোঁড়ার উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম পাঁচটি পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে রকেট পাঠাতে সাহায্য করবে. রকেট পরিবহন কারী অংশ এখানে এমন সমস্ত জায়গাতে এসে পড়বে, যা মানুষের বসবাস, খনিজ উত্তোলন, মাছ ধরা, বা জাহাজ চলাচলের পথে নয় বা অন্য কোন দেশের সীমানাতেও নয়. এই প্রকল্পে একটি ওঠা নামা করার জন্যও রানওয়ে তৈরী করা হচ্ছে, এর অর্থ হল ভস্তোচনি মহাকাশযান উড়ান কেন্দ্র বহু বার ওঠা নামার উপযুক্ত মহাকাশ শাটলের জন্য বন্দর হিসাবে তৈরী হচ্ছে.