রাশিয়া তার ইউরো এশিয়া জুড়ে সাম্রাজ্যের মর্যাদা অধিকার করছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ব্রাসেলস গিয়েছেন, ৪ – ৫ অক্টোবর সেখানে "এশিয়া ইউরোপ সম্মেলন" হতে চলেছে. রাশিয়া এই সংস্থায় এবারে সরকারি ভাবে যোগদান করছে.    ১৯৯৬ সালে এই আন্তর্জাতিক সংস্থা এশিয়া ও ইউরোপের দেশ গুলির মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সহযোগিতার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল. বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৪৫, যারা বিশ্বের মোট জন সংখ্যার দুই তৃতীয়াংশের প্রতিনিধি ও শতকরা ষাট ভাগ বিশ্বের ব্যবসা এবং অর্ধেকের বেশী বিশ্বের সম্পদের অধিকারী. নিজেদের প্রধান কাজের মধ্যে এই সংগঠনের সদস্যরা বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অঞ্চল এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধিকে দেখে. রাশিয়াকে নিজেদের দলে নিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে ইউরো এশিয়া অঞ্চলে উন্নয়ন রাশিয়া ছাড়া সম্পূর্ণ হতে পারে না. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধি আন্দ্রেই নেস্তেরেঙ্কো এই প্রসঙ্গে বলেছেন:    "এই বিরল আলোচনা ব্যবস্থার কাজে রাশিয়াকে যোগ করে নেওয়া ইউরো এশিয়া সংগঠনের সদস্যদের আগ্রহের প্রমাণ দেয় ও রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করার কথা বলে. রাশিয়া চায় ইউরো এশিয়া সংগঠনে বাস্তব অনুদান যোগ করতে যাতে বহুমাত্রিক আন্তর্আঞ্চলিক সহযোগিতা উন্নত হয়. এখানে প্রথমতঃ কথা হয়েছে স্বচ্ছ এবং সমানাধিকার সম্পন্ন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরীর, যা যৌথ ভাবে, আন্তর্জাতিক আইনের নীতি অনুসারে এবং সমস্ত দেশের আইন সঙ্গত দাবী ও অধিকারের কথা মাথায় রেখে করা হবে".    রাশিয়ার ইউরো এশিয়া সংগঠনে যোগ দানের কারণ বোধগম্য, এ কথা বলেছেন "রেডিও রাশিয়ার" সঙ্গে সাক্ষাত্কারে আন্তর্জাতিক বিষয়ে রাশিয়ার লোকসভার বিশেষ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান আন্দ্রেই ক্লিমভ, তিনি বলেছেন:    "রাশিয়ার জাতীয় প্রতীকে দুই মাথা ওয়ালা ঈগলের একটি মাথা পশ্চিম মুখী অন্যটি পূর্ব মুখী. তাই এশিয়ার দিকে আগ্রহ সহজেই দেখতে পাওয়া যায় ও তা ঐতিহাসিক এবং ভৌগলিক কারণেই পূর্ব নির্ধারিত.  রাশিয়ার এই ধরনের সম্মেলনে অংশগ্রহণের ফলে সম্ভাবনা হয় সহকর্মী দেশ গুলির কাছে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী স্বকন্ঠে ঘোষণা করার. মস্কোর উচিত হবে সমস্ত ধরনের আলোচনাতেই যোগ দেওয়া, যাতে নিজের পররাষ্ট্র নীতির সমস্ত শিখরে ভারসাম্য রেখে সম্পর্কের উন্নতি করা সম্ভব হয়".    বর্তমানের শীর্ষ বৈঠকের ঘোষিত মূল বিষয় সমস্ত মানুষের ভালর ব্যবস্থা করা এবং সকলের আরও ভাল জীবনযাত্রার মান তৈরী করা. এই বৈঠকের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় আলবার্ট, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নিকোলা সারকোজি, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লী মেন বাক, চীনের জাতীয় সভার প্রধান ভেন জিয়াবাও, জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান, তাঁরা বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের থেকে উদ্ধার, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা, জ্বালানী শক্তি সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা করবেন.    এই বৈঠকে সমাপ্তি উপলক্ষে প্রকাশিতব্য দলিলে পরিকল্পনা করা হয়েছে বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিচালনা ব্যবস্থাকে আরও সফল করার জন্য দিক নির্দেশ করা. বেলজিয়ামের রাজ বাড়ীতে কুড়ি লক্ষ ইউরো খরচ করে মেরামত করা হয়েছে রাজ দরবারের প্রধান ঘরটি এই ইউরোপ ও এশিয়ার শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের আলোচনার জন্য উপযুক্ত করে. সম্ভবতঃ এই হলের জাঁক জমক পূর্ণ পরিবেশে নেওয়া হতে চলেছে খুবই ভারসাম্য যুক্ত ও সঠিক সিদ্ধান্ত, যা ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশের সমস্ত মানুষের জীবনকেই স্পর্শ করবে.