ধর্মীয় সমস্যা সমাধান সব সময়েই জটিল, বিশেষ করে ভারতের মত বহু ধর্ম মতে বিশ্বাসী লোকদের দেশে. অযোধ্যার পবিত্র জমি নিয়ে ভারতের হিন্দু ও মুসলমান সমাজের মধ্যে বিতর্ক আজ কয়েক শো বছর ধরে চলছে. গতকালের এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় এই সমস্যার সমাধানের একটা সুযোগ করে দিয়েছে.    বিষয়টি বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.    হাইকোর্টের রায় জানার জন্য সারা ভারত বর্ষ উদগ্রীব হয়েছিল. এলাহাবাদের বিচারকেরা, যাদের মধ্যে একজন মুসলমান ও দুজন হিন্দু, ভারতের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাজকে প্রস্তাব করেছেন – এই অযোধ্যার জমিকে তিনভাগ করতে. তার দুই ভাগ হিন্দু দের দিয়ে দিতে ও এক ভাগ মুসলমানদের. বিচারকেরা স্বীকার করেছেন যে, ১৫২৮ সালে বাবরি মসজিদ তৈরী হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের জায়গায়, যেখানে রাম জন্মভূমি মন্দির ছিল, আর হিন্দু দের বলেছেন ভেঙে ফেলা মসজিদের জায়গায় ভগবান রামের মন্দির তৈরী করতে.    রায় বেরোনোর আগে দেশের সরকার অভূতপূর্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছিল. ভারতের অন্যান্য শহরের তুলনায় ছোট এই শহরে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে আসা হয়েছিল. হাইকোর্টের চারপাশে ছিল পুলিশ বেষ্টনী এবং কোর্টে কোন বাড়তি লোক ঢুকতে দেওয়া হয়নি. সারা ভারত জুড়ে মোবাইল ফোনে এস এম এস পাঠানোর ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছিল, যাতে সন্ত্রাসবাদী কাজ কারবার বন্ধ করা যায়. রাশিয়ার বৈজ্ঞানিক ভারত বিশারদ ও পদ্ম শ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত মারিয়াম সালগানিক এই প্রসঙ্গে বলেছেন:    "এই প্রশ্ন খুবই বিস্ফোরক. আমি মনে করি যে, সত্যই একটা বুদ্ধি গ্রাহ্য সমাধান দেওয়া হয়েছে. পরিস্থিতি খুবই সঙ্গীণ. জম্মু ও কাশ্মীরে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা প্রশমিত হচ্ছে না. দেশ সমস্যার ভারে ভারাক্রান্ত, যা উদয় হয়েছে শীঘ্রই শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ গেমসের ব্যবস্থা ঠিক করে করা হয় নি বলে. নতুন কোন উত্তেজনা শুরু হলে এই গেমস হয়ত বন্ধ করতে হত. কিন্তু এই প্রশ্নের সমাধান করাও কর্তব্য. এলাহাবাদ কোর্টের রায় অযোধ্যা বিতর্কের একটা ভাল সমাধান সূত্র দিয়েছে. অবশ্যই কোন বিচারালয়ই ভারতের সবচেয়ে বড় দুই ধর্মীয় সমাজের বিরোধকে সমাধান করতে পারবে না. এর সমাধান ভারতের লোকেদের মনে ও বুদ্ধিতে জন্ম নিতে ও বাড়তে বাধ্য, যারা আজ নতুন জীবন ও নতুন সমাজ তৈরী করতে ব্যস্ত. প্রশাসন শুধু এই বিষয়ে সাহায্য করতেই পারে".    ২৫ হেক্টর জমি ভাগ করার জন্য এলাহাবাদ কোর্ট তিন মাস সময় দিয়েছে. কিন্তু এই ভাগাভাগি শান্তিপূর্ণ ভাবে কি হবে? বেশ কয়েকটি বড় ধর্মীয় সংগঠন, যারা হিন্দু ও মুসলিম ধর্মীয় সমাজের আওতায় পড়ে, তারা বিচারপতিদের দেওয়া কয়েকটি রায়ের সঙ্গে একমত হতে পারে নি. অংশতঃ কেন্দ্রীয় ওয়াকফ সুন্নী মুসলমান সংগঠনের অ্যাডভোকেট জাফ্ফারিয়াব জিলানী ঘোষণা করেছেন যে, তিনি জমি ভাগ করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবেন. আমরা অংশতঃ হতাশ হয়েছি. আমরা সুপ্রীম কোর্টে যাব – বলেছেন তিনি. ভারতের জৈন সম্প্রদায়ের একজন উকিল তো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, মুসলমানদের জমি দেওয়া নিয়ে বিরোধ অ্যাপীল করবে.    এই সব বিরোধের বিষয়ে ভারত অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান তাতিয়ানা শাউমিয়ান বলেছেন:    "আমার মতে অযোধ্যা ভারতের সবচেয়ে কঠিন সমাধান যোগ্য সমস্যা. দেশের সরকার চাইছে, আর চাইবেও কোন রকমে উত্তেজনা প্রশমিত করতে, তার জন্য কিছু করবে, নানারকমের ভাগাভাগি করবে, কিন্তু যতক্ষণ মানুষের মনে ঐতিহাসিক স্মৃতি দেশের ইতিহাসের ট্র্যাজেডি ধরা থাকবে, ততক্ষণ কিছু পাল্টানো খুব কঠিন. এলাহাবাদ হাইকোর্টের অযোধ্যা নিয়ে রায় শুধু সমস্যা সমাধানের একটা সূত্র মাত্র, কিন্তু তা কিছুতেই সমস্যার সমাধান নয়".    কিন্তু তাও সুস্থ ধারণা যেন বলে দিচ্ছে যে, অযোধ্যার সমস্যা সমাধান হবেই, আর বিরোধ নিয়ে মনে থেকে যাওয়া স্মৃতি, যা হিন্দু ও মুসলমান সমাজকে নানারকমের ধর্মীয়, প্রজাতি গত গোত্র ও দলে ভাগ করে রেখেছে, তা শেষ অবধি অতীতেই চলে যাবে.