জাপান নূতন কূটনৈতিক স্ক্যাণ্ডালের সূচনা করেছে. এবারে রাশিয়ার সঙ্গে. প্রসঙ্গতঃ চীনের সাথে যেমন করেছিল, তেমনই রাশিয়ার সাথেও, দ্বীপপূঞ্জের জন্য. টোকিও রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ কে দক্ষিণ কুরিল দ্বীপ পূঞ্জ সফর না করতে পরামর্শ দিয়েছে., বলেছে তা করলে দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে.রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এই ঘোষণাকে মনে করা হয়েছে দেশের আভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ. দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধি আন্দ্রেই নেস্তেরেঙ্কো এই প্রসঙ্গে ঘোষণা করে বলেছেন:"রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি নিজেই ঠিক করেন নিজের দেশের ভিতরে তাঁর কখন কোথায় যাওয়া দরকার, এই বিষয়ে যে কোন ধরনের বাইরে থেকে উপদেশ দেওয়া জায়গা মতো বা গ্রহণযোগ্য হতেই পারে না". দিমিত্রি মেদভেদেভ ঠিক করেছিলেন দক্ষিণ কুরিল দ্বীপ পূঞ্জ দেখতে যাবেন, যাতে সেখানের নতুন তৈল খনিতে উত্পাদনের কাজ শুরু হয়. ইতিহাসে প্রথমবার রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির এই জায়গায় পৌঁছনোর ব্যাপারে বাধা হয়েছে প্রাকৃতিক দূর্যোগ – অঞ্চলে তখন ঝড় চলছিল. কিন্তু প্রকৃতির শক্তি, যেমন জাপানের সরকারের মতই, রাশিয়ার রাজনীতির প্রশ্নে বাধা হতে পারে না. এই বিষয়ে মত দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, তিনি বলেছেন:"অবশ্যই খুব তাড়াতাড়ি কুরিল যাবো. এটা আমাদের দেশের একটি খুব জরুরী জায়গা".দুই সপ্তাহ আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান প্রায় তাঁর গদি হারাতে বসেছিলেন. কিছুতেই তিনি দেশে দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধি হ্রাস করতে পারছেন না. ইয়েনের দাম বাড়ার ফলে রপ্তানী থেকে আয় খুব কমে গিয়েছে. পূর্ব চীন সমুদ্রের সীমানা নিয়ে তর্ক রয়েছে এমন জায়গায় চীনের মাছ ধরার ট্রলার গ্রেপ্তার করে ঘোষণা করা হয়েছিল এই অঞ্চলের অধিকার নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করার, যা প্রায় চীন ও জাপান সম্পর্ককে ছিন্ন করতে বসেছিল. এই পরিস্থিতিতে দরকার পড়েছিল একটা মনোযোগ নষ্ট করার মতো কাজ করার. রাশিয়ার দক্ষিণ কুরিল দ্বীপপূঞ্জের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা তো এই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেনা হাতিয়ার.এর মধ্যেই টোকিওর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে অভিযোগ করা – এটা শুধু জাপানের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটা বিষয় নয়. দক্ষিণ কুরিল দ্বীপ পূঞ্জ সোভিয়েত দেশের আওতায় এসেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফল হিসাবে. রাশিয়ার সার্বভৌমত্ত্ব এই অঞ্চলের অধিকার প্রসঙ্গে বহু দিন আগেই প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত দলিলে নিবদ্ধ করা রয়েছে. আর যেহেতু তাই হয়েছে, তাহলে সেই সব জায়গাকে জাপানের সীমানার মধ্যে বলাটা  - এটা এশিয়াতে যুদ্ধ পরবর্তী বাস্তবকে পাল্টানোর প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়. আর এটা দুই কোরিয়া, এশিয়ার বহু দেশ ও চীনের জন্য খুবই স্পর্শ কাতর বিষয়.তার মধ্যে আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার ৬৫ বছর পূর্তি পালনের সময়ে, যা সেপ্টেম্বর মাসে পালন করা হয়েছে, তখনই জাপান খোলাখুলি ভাবে নিজেদের সীমানা নিয়ে দাবি ঘোষণা করেছে. তার ওপরে আবার সেই সব দেশের কাছে, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সব থেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল. সেপ্টেম্বর মাসেই পূর্ব চীন সমুদ্রের দ্বীপ গুলির অধিকার নিয়ে দাবি উঠেছিল, যা চীনের লোকেরা দ্যায়াউইদাও বলে জানে, আর জাপানীরা সেনকাকু বলে থাকে, তা নিয়ে. এর পরেই টোকিও থেকে রব উঠেছে স্পর্শ কাতর কোরিয়া দ্বীপপূঞ্জের টোকটো অঞ্চলের অধিকার নিয়ে, যাকে জাপানীরা বলে থাকে টাকেসিমা.এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা খেয়াল করে দেখেছেন যে, এশিয়ার পটভূমিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুই হয়েছিল আঞ্চলিক অধিকারের দাবী নিয়ে. তাই বোধগম্য হয়েছে, বেইজিং, পিয়ং ইয়ং সিওল ও মস্কোর তরফ থেকে কঠোর ঘোষণা করে প্রতিক্রিয়া দেখানোর কারণ. শুধুশুধুই তো আর বেইজিং শহরের কয়েকদিন আগে শেষ হওয়া শীর্ষ বৈঠকে রাশিয়া ও চীন এক বিশেষ ঘোষণার বিষয়ে সহমত হয় নি যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলকে আবার নতুন করে বিবেচনা করা চলবে না বলে.