আফগানিস্থানে আন্তর্জাতিক জোটের বাহিনী মাদকের উত্পাদন ও সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সফল কাজকর্ম করছে না. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভায় রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন. তিনি এই বাহিনীর নেতৃত্ব দান কারী শক্তি ন্যাটো জোটকে আহ্বান করেছেন আফগানিস্থান থেকে উদ্ভূত মাদক সংক্রান্ত বিপদের মোকাবিলা করতে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার প্রস্তাবে সাড়া দিতে.রাশিয়ার কূটনীতিবিদের আহ্বান বর্তমানে খুবই বাস্তোবচিত. আফগানিস্থানে বিশ্বের শতকরা নব্বই ভাগ হেরোইন উত্পাদিত হয়, যা গাঁজা থেকে পাওয়া যায়. তার মধ্যে রাশিয়া আবার এই হেরোইনের অন্যতম গ্রাহক – রাশিয়ার নেশাখোর দের ভাগে সারা বিশ্বে উত্পাদিত হেরোইনের শতকরা একুশ ভাগ পড়েছে. প্রায় আশি টন পর্যন্ত এই মাদক দ্রব্য রাশিয়াতে প্রতি বছর পৌঁছে যায় আফগানিস্থানের মাদক পাচার কারীদের হাত ধরে এবং তার ফলে বছরে প্রায় ৪০ হাজার রাশিয়া লোক মারা পড়ছে. এই পরিসংখ্যান সত্যই শোচনীয়. যদিও রাশিয়ার সরকার ও মাদক বিরোধী পরিষেবা সক্রিয়ভাবে এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তবুও একমাত্র আন্তর্জাতিক সহযোগিতাতেই তা সম্পূর্ণ ভাবে করা সম্ভব.রাশিয়া বহুদিন ধরেই ন্যাটো জোটের কাছে প্রস্তাব করেছে যে, আফগানিস্থানের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরী করতে. এই কাজের জন্য সহযোগী দেশ রয়েছে. এটা যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার দেশ গুলি অর্থাত্ রাশিয়া, আর্মেনিয়া, বেলোরাশিয়া, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান ও উজবেকিস্থান. ভিতালি চুরকিন এই সংস্থার সফল কাজের কথাও উল্লেখ করেছেন. কিছুদিন আগে চ্যানেল নামে মাদক দ্রব্য ধরার  আরও একটি অধ্যায় শেষ হয়েছে, যা কিরগিজিয়াতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার সঙ্গে যুক্ত ছিল. অন্য এক সহযোগী – এটা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, যে সংস্থায় রয়েছে চীন, রাশিয়া, তাজিকিস্থান, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া ও উজবেকিস্থান. ভিতালি চুরকিন তাই ঘোষণা করেছেন যে, ন্যাটো জোটের উপরোক্ত সংস্থা গুলির সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে প্রস্তাবের সম্বন্ধে এই নিষ্ক্রিয় ভাব বোধগম্য হয় নি, যখন এই মাদক সংক্রান্ত বিপদ বাস্তবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সাথে প্রায় এক হয়ে গিয়েছে. তিনি বলেছেন:"সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে ও আফগানিস্থানে পরিস্থিতি টিকে থাকার মতো স্থিতিশীল করতে মাদকের সমস্যা সমাধান না করে কিছু করা সম্ভব নয়. আফগানিস্থান থেকে নির্গত মাদক সংক্রান্ত বিপদের প্রসার বিশ্বের সকলের জন্যই শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এক বাস্তব সমস্যা. আর তাই এর সমাধানে প্রয়োজন আরও বেশী কঠোর কাজকর্মের, যা উত্পাদন থেকে শুরু করে মাদক দ্রব্যের প্রসারের সমস্ত ক্ষেত্রেই একসাথে বাদার সৃষ্টি করবে.  একই সঙ্গে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার বাস্তবিক প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যা দীর্ঘ প্রসারিত হবে ও আফগানিস্থানেও তার প্রভাব পড়বে. এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে যারা কাবুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করছে তাদের সঙ্গে সেই সমস্ত সংস্থার ক্ষমতার একত্রীকরণ যাদের মধ্যে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা রয়েছে".আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আফগানিস্থানের সীমানা থেকে নির্গত অস্থিতিশীলতার পথ রোধ করবে. তা ছাড়া এটা আরও দরকার সেই সময়ে, যখন বিদ্রোহী যোদ্ধারা শুধু প্রতিবেশী দেশ গুলিতেই ঢুকে পড়ছে না. এই সপ্তাহেই রাশিয়ার দাগেস্তান রাজ্যে বিশেষ বাহিনী ধ্বংস করেছে আল কায়দার যোগাযোগ কারীদের. সব মিলিয়ে আগামী নভেম্বর মাসে রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের বৈঠকে নির্দিষ্ট কাজের কথা বলার বিষয় বস্তু রয়েছে.