রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি এই প্রথমবার সরকারি কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছেন – নিজের আয় সম্বন্ধে সত্য তথ্য দেন নি বলে সামরিক বাহিনীর একজন মেজর জেনেরাল কে. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ঘটনা ও একই সঙ্গে লুঝকভ কে বরখাস্ত করা এবং উচ্চ পদস্থ আরও কর্মচারীদের সম্ভাব্য খারিজ হওয়া প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, রাষ্ট্রপতি দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করছেন.কোন অঞ্চলের প্রধানকে পদত্যাগ করানো, তাকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা, দিমিত্রি মেদভেদেভ এই প্রথম ব্যবহার করলেন. একই সঙ্গে দেশের নেতা সেই সম্ভাবনাকে বাতিল করেন নি যে, এটাই শেষ পদত্যাগ নয়.       "আমি রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি, মস্কো শহরের মেয়র হিসাবে ইউরি মিখাইলোভিচ লুঝকভের প্রতি আস্থা হারিয়েছি. খুবই কষ্ট কল্পনা হবে যে, রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপাল সেই অবস্থায় কাজ করবেন একসাথে, যখন রাষ্ট্রপতি – রাশিয়ার সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মচারী – এক বা অন্য সরকারি কর্মচারীর উপরে আস্থা হারিয়েছেন, এক বা অন্য কোন অঞ্চলের নেতার উপরে আর বিশ্বাস রাখেন না. এটাই এখানে ঘটেছে. এটা প্রথম বার ঘটেছে ও আমি বাতিল করছি না যে, এই রকম ঘটনা আরও ঘটার সম্ভাবনা আছে. এটা নির্দিষ্ট পরিস্থিতির উপরেই নির্ভর করবে".    সংবাদ মাধ্যম গুলিতে মস্কোর মেয়র সম্বন্ধে ও অন্যান্য অঞ্চলের নেতাদের সম্বন্ধে দুর্নীতির অভিযোগ একাধিকবার উঠেছে. বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, জাতীয় সরকার খুবই কঠোর মনোভাব নিয়েছেন এবং কাজ থেকে সেই সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন, যারা ক্ষমতাকে নিজেদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজে লাগাচ্ছেন. এখানে কথা হচ্ছে পুরনো ব্যবস্থাকে ভাঙার, মনে করেছেন রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির প্রধান কিরিল কাবানভ:    "সেই সমস্ত লোকেরা যারা দুর্নীতির ব্যবস্থা করেছেন, - তারাই দুর্নীতির মূলে রয়েছেন. আর এখন শুরু হয়েছে বাস্তব কাজকর্ম এই সব দুর্নীতি কারীদের সম্পর্কে. এই সব কাজ চলবে খুবই সমস্যার মধ্য দিয়ে, কারণ বর্তমানের দুর্নীতি যুক্ত সরকারি কর্মচারীরা  - একটা ব্যবস্থা, যারা আত্মরক্ষা করতে জানে".    রাশিয়াতে স্বাধীন তদন্ত দপ্তর তৈরী হচ্ছে, যারা সোজাসুজি দেশের প্রধানের অনুগত. দেশের আইন রক্ষা বাহিনীর রূপান্তরের অংশ হিসাবে এই নতুন কাঠামো তৈরী করা হচ্ছে, যা বর্তমানে এই ব্যবস্থার অভাব গুলিকে দূর করতে পারবে. প্রধান অভিশংসক দপ্তরের আওতা থেকে তদন্ত বিভাগ কে আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে এবং তা হবে সম্পূর্ণ ভাবে স্বাধীন, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার লোকসভার আইন সংক্রান্ত পরিষদের প্রধান পাভেল ক্রাশেনিন্নিকোভ বলেছেন:    "সর্ব শেষ লক্ষ্য অবশ্যই – নাগরিকদের অধিকার রক্ষা. আজ এই ব্যবস্থা বিভাজিত ও তা কাজ করে সোজাসুজি বললে, খুব একটা কার্যকরী ভাবে নয়. আর অবশ্যই, তার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে স্বার্থের সংঘাত লাগতেই পারে. তাই জন্যই স্বাধীন কাঠামো তৈরী করা হচ্ছে, যেখানে পেশাদার লোকদেরই কাজ করা উচিত্ হবে".    নতুন দপ্তরের স্বাধীন থাকাতে পারাই তাকে যে কোন ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে সফল ভাবে লড়াই করতে সাহায্য করবে. এটা খুবই সহজ কাজ নয়, বলেছেন বিশেষজ্ঞরা. কিন্তু দেশের প্রধান দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই করতে মন স্থির করেছেন যথেষ্ট শক্ত ভাবে, আর এটা ধারণার ভিত্তি তৈরী করতে সাহায্য করে যে, এই কাজ – সমাধান যোগ্য.