একবিংশ শতকে "রুশ সাংহাই" এর পুনরুজ্জীবন নামে রুশ প্রদর্শনী খোলা হয়েছে সাংহাই শহরের একস্পো – ২০১০ প্রদর্শনীর আওতায়. এর মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষেরও বেশী লোক এই রুশ প্যাভিলিয়নে এসেছেন বলে মঙ্গলবারে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ. তাঁর চীনে সরকারি সফরের শেষ দিনে তিনি এই প্রদর্শনীতে রাশিয়ার দিন নামে এক বিশেষ দিনের উদ্বোধন করেছেন.    রাশিয়াতে হালে যা উন্নতি হয়েছে তার প্রতি লোকের আগ্রহ অনেক. এই প্রদর্শনীর অতিথিদের সব কিছুই উত্সুক করেছে, প্রাথমিক ভাবে জ্বালানী শক্তি ও মহাকাশ সংক্রান্ত, আধুনিক উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রকল্প গুলি, যা বর্তমানের শহর গুলিতে জীবনকে স্বচ্ছন্দ করে তোলে. এই প্রদর্শনীর বিষয় – "ভাল শহর – ভাল জীবন" – এই কথা রাশিয়ার লোকেদের জন্য বিশেষ করে কাছের ও বোধগম্য বলে উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ, তিনি বলেছেন:    "রাশিয়ার শহরগুলি সভ্যতার উন্নতিতে সব সময়েই এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে এসেছে. শত বছর ধরেই শহর গুলি তাদের ঐতিহাসিক নিজস্বতা এবং সত্যিকারের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে পেরেছে".    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির মূল্যায়ণে সাংহাই শহরের বিশ্ব প্রদর্শনী প্রমাণ করে দেয় যে, বর্তমানের পৃথিবীতে শহর গুলির মৌলিক পরিবর্তনের যুগ শুরু হতে চলেছে. এক দিক থেকে অর্থনীতি ও সামাজিক আধুনিকীকরণের জন্য এটা একটা সুযোগ, তাই তিনি উল্লেখ করেছেন:    "উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নতিকে অবশ্যই আমাদের দেশের বেছে নেওয়া পথ বলা যেতে পারে. আমরা এই পথে এগিয়ে চলেছি ও সব কিছুই করবো যাতে আমাদের দেশ, আমাদের অর্থনীতি আধুনিক হয়ে ওঠে, পরিবর্তিত হয় ও মানিয়ে নেয় বর্তমানের জীবনের সঙ্গে".    সাংহাই এর ইতিহাস খুবই ঘনিষ্ঠ ভাবে রাশিয়া ও চীনের সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত. উনবিংশ শতকের মধ্য ভাগে সেখানে প্রথম রুশ লোকেরা পৌঁছেছিল. এরা সকলেই ছিল বণিক, তারা গিয়েছিল সাংহাই থেকে রাশিয়াতে চা কিনে পাঠানোর জন্য. তখন চায়ের একটি বড় বাজার ছিল এখানে. ১৯১৭ সালের বিপ্লবের পরে বহু রুশ লোক রাশিয়া থেকে পালিয়ে এখানে চলে গিয়েছিল. গত শতকের তিরিশের দশকে সাংহাই শহরের সবচেয়ে বড় বিদেশী উপনিবেশ ছিল রুশ লোকজনের. রাশিয়া থেকে অভিবাসন নেওয়া লোকেরা সেখানে ১২টি গির্জা ও দুটি বড় মঠ তৈরী করেছিল, সেখানে অর্থোডক্স হোম তৈরী করা হয়েছিল, চীনা লোকেদের রুশ যাজকরা খ্রীস্টান ধর্মে দীক্ষা দেওয়া ও শুদ্ধ করণের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল এই সব ধর্ম স্থানে. এই শহরে এই সময়েই রুশ সংস্কৃতির বিকাশ হয়েছিল বিশেষ ভাবে. সেখানে রুশ থিয়েটার ও ব্যালে স্কুল খোলা হয়েছিল. প্যারিস থেকে সাংহাই গিয়েছিলেন বিখ্যাত আলেকজান্ডার ভেরতিনস্কি, সেখানে ফিওদর শালিয়াপিন গিয়েছিলেন তাঁর অর্কেস্ট্রা নিয়ে.      সাংহাই এর রুশ লোকেদের অর্থে বিখ্যাত কবি পুশকিনের মৃত্যু শতবার্ষিকী উপলক্ষে একটি স্মৃতি সৌধ তৈরী করা হয়েছিল. সে টিকে দুবার ভেঙে ফেলা হয়েছিল, দুবার নতুন করে তৈরী করতে হয়েছে. আজকের চীনে এটি একমাত্র বিদেশী কবির স্মৃতি সৌধ. সাংহাই শহরে তাঁর বিশ্ব বিখ্যাত হওয়ার পথে রওয়ানা দিয়েছিলেন সোভিয়েত ও রুশ সঙ্গীতকার ওলেগ লুন্ডস্ট্রেম. আজও ঐতিহ্য মেনে রুশ – চীন সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায় সম্পর্ক বজায় রাখার কাজ করে যাচ্ছে এই শহরের রুশী ক্লাব. সেখানে প্রায়ই রাশিয়া থেকে নাম করা রাজনৈতিক নেতা, বড় ব্যবসায়ী, যাদের এই বিশাল শহরে ব্যবসা রয়েছে, তারা আসেন. এক্সপো – ২০১০ প্রদর্শনীতে রাশিয়ার অংশগ্রহণ "রুশ সাংহাই" কে এক বিশেষ আধুনিক অলঙ্কারে ভূষিত করেছে.