বিশ্বের মহাসমুদ্র এমনিতে অন্তহীণ মনে হলেও খুবই স্পর্শ কাতর ব্যবস্থা. মানুষের উচিত হবে না বিরাম হীণ ভাবে তার ধৈর্য্য পরীক্ষা করার – এর ফল হতে পারে ভয়ানক. এই বিষয়ে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্র সংঘের আহ্বানে বিশ্ব মহাসমুদ্র দিবস পালন করা হয়ে থাকে. ২৭শে সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সাল থেকে দিনটি পালিত হয়ে আসছে, যে দিন থেকে স্থির করা হয়েছিল বিশ্ব সমাজকে পৃথিবীর শতকরা ৭০ ভাগ জায়গা জুড়ে থাকা এই তুলনা হীণ প্রাকৃতিক বিষয়কে সংরক্ষণ করতে বলার কথা.    সমুদ্র মানুষকে কাছে টানে. কবি ও শিল্পীরা তার জয়গান গায়. উষ্ণ সমুদ্রে অবগাহনের কথা ভাবে প্রতি বছর বহু সহস্র ছুটিতে যাওয়া লোক. কিন্তু মানুষ ও সমুদ্রের সম্পর্ক তত মধুর নয়. রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছরে জলে ফেলা হয়ে থাকে প্রায় ২ কোটি ১ লক্ষ ব্যারেল খনিজ তেল, যার ফলে বহু সহস্র সামুদ্রিক পাখী ও প্রাণীর মৃত্যু হয়. গত ১০০ বছরে প্রায় ৯০ শতাংশ টুনা ও কর্ড মাছ ধরে ফেলা হয়েছে. গত ১০০ বছরে বিশ্বের উষ্ণায়নের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম জলাধার গুলিতে জলের উচ্চতা বেড়ে গিয়েছে প্রায় ১০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার.    প্রচলিত রূপ কথা সমুদ্রের ভাণ্ডার অপরিসীম ও মানুষ তাকে যথেচ্ছ ব্যবহার করতে পারে বলে যে ধারণা ছিল, তা খুবই খারাপ কাজ করেছে ও মহাসমুদ্রের জীব জগতের বহু ধরনের উদ্ভিদ ও জীবের উপস্থিতিকে বিপন্ন করেছে. এই বিশ্বাস নিয়ে বিশ্ব বন্য প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার খনিজ তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগের রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ কারী আলেক্সেই ক্নিঝনিকভ বলেছেন:    "দুটি সাধারন উদাহরণ যথেষ্ট. তিমি মাছ হত্যা করার বিরাট শিল্পায়ন, বিশ্বের তিমি মাছের বহু ধরনের মাছকেই নিশ্চিহ্ণ করে দিয়েছে. রাশিয়ার জন্য সঠিক উদাহরণ হল – আখোত সমুদ্রের ধূসর তিমি মাছ, যা বিংশ শতকে নিশ্চিহ্ণ হয়ে গিয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, তা হঠাত্ করেই বিংশ শতকের শেষে কয়েক শো দেখতে পাওয়া গিয়েছিল. বর্তমানে আমরা সমস্ত কিছুই করছি, যাতে এই ধরনের ধূসর তিমির সংখ্যা সংরক্ষণ করা যায়. অন্য একটি উদাহরণ হল – আমাদের দেশের প্রাকৃতিক জলাধারে প্রায় সমস্ত ধরনের স্টার্জান মাছ শেষ হয়ে যাওয়া, বিনা বিচারে তা ধরে খেয়ে ফেলার জন্য".    হিংস্র প্রাণীর মতো নির্বিচারে অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদ ধ্বংস করা ছাড়া মানুষ আরও বেশী করে মহা সমুদ্রকে নোংরা করছে. বিশেষজ্ঞ মেক্সিকো উপসাগরের ট্র্যাজেডিকে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন মানুষের কীর্তি কত ভয়ঙ্কর হতে পারে তার প্রমাণ হিসাবে, তিনি বলেছেন:    "এই তেল উপচে পড়া ও তেল নষ্ট করে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা রাসায়নিক পদার্থের জলে উপস্থিতির কারণে গ্রাস দেশের মত বড় এলাকায় বেশ কয়েক মাস ধরে মাছ ধরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এর বিশালত্ব এখন দেশের মত পরিমাপ ছুঁয়েছে. এর পরবর্তী অধ্যায় হবে মহাদেশের মতো বিশাল এলাকা জুড়ে".    এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা আর্কটিক অঞ্চলে খনিজ তেল তোলার কাজে সাবধানতা নেওয়ার কথা ভাবছেন, কারণ সেখানে বরফের আস্তরণ থাকার ফলে কাজের পরিবেশ হবে অন্যান্য জায়গার থেকে একেবারেই আলাদা. এখানে তেল উপচে পড়লে তার ফল হবে আরও ভয়ানক. আর তাছাড়া বিশেষজ্ঞের কথা মতো বর্তমানের প্রযুক্তির উন্নতি যা হয়েছে ও আইন ও মানের সম্বন্ধে যে ভিত্তি রয়েছে এবং আর্কটিকের পরিবেশ সম্বন্ধে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান যে রকমের আছে, তা পরিবেশ সংরক্ষণ করে আর্কটিকে তেল উত্তোলনের জন্য যথেষ্ট নয়. বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে, "যতক্ষণ না এই ধরনের অভাব পূরণ করা হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা সেই অঞ্চলের পরিবেশ ও বাসিন্দাদের ক্ষতি করে তেল উত্তোলন করতে পারি না".    সব মিলিয়ে মহাসমুদ্র সমস্ত মানুষের আলোচনার উপযুক্ত বৃহত্ অঞ্চল বলে বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন. এটা একই সঙ্গে বিপদের আশংকা যুক্ত অঞ্চল. কারণ মহাসমুদ্র যে কোন রকমের পরিবেশে পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে খুবই স্পর্শ কাতর ভাবে, আর এই পরিবর্তনের উত্তর দেয় খুবই ভয়ানক ভাবে – এমন যে, তার তুলনায় সমস্ত বিপর্যয় নিয়ে তোলা সিনেমাকে মনে হতে পারে নগণ্য, মহাসমুদ্র প্রকৃতির এক বিরল বিস্ময়.