জাতিসংঘের ৬৫তম সাধারন আধিবেশনের উন্মুক্ত রাজনৈতিক সংলাপে বিশ্বব্যাপীই ন্যক্কারজনক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে.ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বক্তব্যের সময় অধিবেশন কক্ষথেকে ৩৩টি দেশের প্রতিনিধিরা ওয়াকআউট করেন.যাদের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রসমূহ.তিনি নিউইয়র্কে ৯/১১ হামলার নিরপেক্ষ বিচারের দাবী জানান.আহমাদিনেজাদ হলেন, ঐ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী.জাতিসংঘে আহমাদিনেজাদের বক্তব্যকে জঘন্য ও মতিভ্রমবলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র.তার বক্তব্যের পর ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনাই জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনেই শুধু নয় বরং পরবর্তি দিনের কর্মদিবসে প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিনত হয়েছে.এছাড়াও জাতিসংঘে পরিবর্তন বিষয়টিও আহমাদিনেজাদের বক্তব্য ফুটে উঠে এবং তা হল নিজের বক্তব্যে স্বাধীন মতামত তুলে ধরা.জাতিসংঘে পরিবর্তনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হচ্ছিল.অনেক বিশেষজ্ঞ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, ২য় বিশ্ব যুদ্ধের পর এই সংস্থাটি আধুনিক বিশ্বের কোন স্পর্শকাতর বিষয়ে সদুত্তর দিচ্ছে না.বিশেষত এর দরকার কার্যকরী পরিচালনা.রেডিও রাশিয়ার প্রতিনিধিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এমনই অভিমত ব্যক্ত করলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভ.তিনি বলেন,হ্যাঁ,জাতিসংঘে পরিবর্তন আনা খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে,যার ফলে সংস্থাটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে যে কোন সৃষ্ট বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকরি মতামত প্রকাশ করতে পারে.তা হতে পারে অন্তর্বর্তী কোন দ্বন্দ,মন্দা,প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়;জাতিসংঘ ব্যাতীত কোথায়ও অগ্রসর হওয়া যায় না.জাতিসংঘের সমালোচনা করা যায়,এর কাজকে পক্ষপাতিত্ব বলে অভিযোগও আনা যায় কিন্তু অন্যান্য আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের বিষয়ে এখনও কেউ প্রস্তাব দেয় নি.গত কয়েক দশকে যে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে তা হল,বিশ্বে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী দেশসমূহের একটি বা কয়েকটি রাষ্ট্র কখনই আন্তর্জাতিক বিষয় যেমন-মধ্যপ্রাচ্য,কসোবো,ইরাক বা আফগানিস্তান সমস্যা সমাধানে কথা বলে নি.শুধুমাত্র জাতিসংঘই এই ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করে চলছে যা বিশ্বব্যাপী রাজনীতির ও কূটনীতির চালিকাশক্তি.আমাদের পৃথিবী বস্তুত শান্তিময় হতে পারে.জাতিসংঘের পরিবর্তন অনস্বীকার্য তবে তা হতে হবে সংস্থার কার্যক্রমের মাত্রা বেগবানের নিমিত্তে অথবা জাতিসংঘের নিরাপত্ত পরিষদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে বলে মনে করেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমির(যুক্তরাষ্ট ও কানাডা) পরিচালক সেরগেই রাগোব.তিনি বলেন-জাতিসংঘের নিরাপত্তার বর্তমান পরিষদের ও এর স্থায়ী ৫ সদস্য রাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে একবিংশ শতকের কোন বিষয়ই উত্তর দিচ্ছে না.১৯৪৫ সনে যখন জাতিসংঘের সনদ স্বাক্ষরিত হয় তখন পরিস্থিততি ছিল সম্পূর্ন ভিন্ন এবং আজ স্বভাবতই এই প্রশ্ন জেগে ওঠে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের মধ্যে ভারত,জাপান,ব্রাজিল ও জার্মানির মত দেশ নেই কেন.একদিকে এই বিষয়টি জটিল প্রক্রিয়া.এমন কি পরিবারেও দ্বিমত পোষনকারী লোক থাকে এবং নানাবিধ বিষয় নিয়ে গঠিত সংস্থা যেখানে ১৯২টি দেশ তাদের মতামত দিয়ে থাকে সেখানে একদম সহজ ব্যাপার নয়.এখানে সংযম এবং সহনশীলতা থাকতে হবে.তবে জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে  আহমাদিনেজাদের সামাজিক বক্তব্যকে কিছুটা হলেও এই সত্যতার দেয়ালকে আরও ঘনীভূত করেছে.