রাশিয়া ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া নিষেধাজ্ঞা শাসনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে. ২২শে সেপ্টেম্বর দিমিত্রি মেদভেদেভ নির্দেশ সংক্রান্ত দলিলে স্বাক্ষর করেছেন.এই দলিল অনুযায়ী ইরানকে কয়েকটি ধরনের আধুনিক সমরাস্ত্র দেওয়া নিষিদ্ধ হল, আরও কিছু বাধা তৈরী করা হয়েছে. ইরান সম্পর্কে রাশিয়ার রাজনীতি কি পাল্টে গেল? এই প্রশ্ন আমরা রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর ডিরেক্টর ভিতালি নাউমকিনকে প্রশ্ন করেছিলাম, তিনি উত্তরে বলেছেন:"ইরানের সম্পর্কে রাশিয়ার রাজনীতি বদলেছে বলা যায় না. বলা যেতে পারে এই রাজনীতিতে কিছু পরিবর্তন হয়েছে. রাশিয়া রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ইরান সম্পর্কের সিদ্ধান্তে ভোট দিয়েছে. এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাশিয়া বাধ্য নিজেদের অবস্থান নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সঠিক করে বলতে, যা নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও করেছে. এখানে কথা হচ্ছে প্রথমতঃ বিমান বিধ্বংসী রকেট কমপ্লেক্স এস – ৩০০ নিয়ে. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ বিগত সময়ে ইরানের সঙ্গে এই কমপ্লেক্স সরবরাহ করার চুক্তি ছিল. আর কথা হচ্ছে ইরান থেকে কিছু নির্দিষ্ট লোকের, যারা তাদের পারমানবিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত, দেশ থেকে রাশিয়াতে প্রবেশ সম্বন্ধে নিষেধাজ্ঞার".রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সমর্থন স্বত্ত্বেও রাশিয়া ইরান সামরিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত সহযোগিতা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করা হচ্ছে না. এই বিষয়ে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে, বলে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি.মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি করণের পরিকল্পনা ত্যাগ না করায়. বিপজ্জনক সম্ভাবনা রয়েছে যে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সামরিক লক্ষ্য রয়েছে. আন্তর্জাতিক ছয় দেশের পরিষদ এই বিষয়ে সমাধান সূত্রের খোঁজ করছে. বুধবারে নিউইয়র্কে মন্ত্রী পর্যায়ে এই বিষয়ে আরও একটি আলোচনা সভা হয়েছে.  এই বৈঠকের ফল নিয়ে রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন:"তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয় সম্বন্ধে সহমতে আসা সম্ভব হয়েছে, আর সে গুলি বৈঠক শেষে নেওয়া আহ্বানে জানানো হয়েছে. প্রথম বিষয় – ছয় দেশের এই বিষয়ে ঐক্য, দ্বিতীয় হল – ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালানোর বিষয়ে ইচ্ছার বিষয়ে সহমত. প্রসঙ্গতঃ এখানে আলোচনার কথাই বলা হয়েছে, যা প্রয়োজন যত দ্রুত সম্ভব করার. তৃতীয় মৌলিক বিষয় হল – এই আলোচনাতে দুটি বিভাগ থাকার প্রয়োজন. প্রথম বিভাগে ছয় দেশের একত্রে ইরানের সঙ্গে তাদের পারমানবিক পরিকল্পনার সমস্যা ও উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করা আর অন্যান্য বিষয় – যে বিষয় গুলিতে আগ্রহ রয়েছে, এমনকি ইরানের পক্ষ থেকেও. দ্বিতীয় বিভাগ হল – এই আলোচনার কাঠামোর মধ্যেই তেহরানের অনুসন্ধানের জন্য রিয়্যাক্টরের জ্বালানী পাল্টে দেওয়ার কথা".সফল আলোচনার ব্যবস্থা করা সব পক্ষেরই স্বার্থের পক্ষে অনুকূল. আর প্রথমতঃ, ইরানের স্বার্থেই তার প্রয়োজন রয়েছে. তাদের পারমানবিক পরিকল্পনা বিষয়ে পরিস্কার হওয়া – একমাত্র পথ আন্তর্জাতিক সমাজ ও ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার জন্য.